রবিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ পৌষ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আমেরিকার ওয়াশিংটনের কংগ্রেস ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলায় বিশ্ব নেতাদের নিন্দা।



..মকিস মনসুর.
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের ব্যাপক বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত গুলিতে এক নারী নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর, এ ঘটনাকে নজিরবিহীন আখ্যা দিয়ে দুঃখজনক বলেছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।কয়েক ঘণ্টা কংগ্রেস ভবন কার্যত দখল করে রাখার পর বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে ক্যাপিটল প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাইরে চলে যেতে থাকে।ভবনের ভেতরে বিক্ষোভকারীদের ‘আমরা ট্রাম্পকে ভালোবাসি’ স্লোগান দিতে দিতে মিছিল করতে দেখা গেছে।
আমেরিকার আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটল-এ ট্রাম্প সমর্থকদের ঢুকে পড়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা।এ ঘটনায় বিস্মিত ও স্তব্ধ হওয়ার প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন বিশ্বের রাজনৈতিক নেতারা। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এ ঘটনাকে “লজ্জাজনক দৃশ্য” বলে উল্লেখ করেছেন। সেই সাথে “শান্তিপূর্ণ এবং সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তরের” আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস বলেন, “ট্রাম্প এবং তার সমর্থকদের উচিত শেষ পর্যন্ত আমেরিকার ভোটারদের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া এবং গণতন্ত্রের পদদলন না করা।”
এক বিবৃতিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ বলেছেন, “এটা পুরোপুরি অসুস্থ এবং হৃদয়বিদারক দৃশ্য। রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল কোন দেশে এ ধরণের ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচনের ফলকে বিতর্কিত করা হয়- আমাদের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে এর কোন স্থান নেই।”

এক বিবৃতিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ইতিহাস সঠিকভাবেই ক্যাপিটলের উপর এই আক্রমণকে মনে রাখবে, আর সেটি হচ্ছে “এই মুহূর্তটি প্রচণ্ড অসম্মান এবং এই জাতির জন্য লজ্জাজনক।”

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, “গণতন্ত্রের উপর এই আঘাতের ঘটনায়” “কানাডিয়ানরা প্রচন্ড বিরক্ত”।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্ন্দান্দেজ জো বাইডেনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন এবং সহিংসতার ঘটনার প্রতি নিন্দা জানিয়েছেন।

একইভাবে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান দোকে সহিংসতাকে প্রত্যাহার করে কংগ্রেসের সদস্যদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান পিনেরা “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার পদক্ষেপের” নিন্দা জানিয়েছেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত