শুক্রবার, ১৩ অগাস্ট ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

শক্ত হোন,  মনোবল বাড়ান, অতীতের মহামারীর মত করোনা ও অচিরেই বিদায় নেবে।



প্রথমেই বলে রাখি , রাত যতই দীর্ঘ হোক না কেন সকাল হবেই, অন্ধকার যতই কালো হোক না কেন , সুর্যের আলো  উদিত হবেই. মানুষের দু:খ দুর্দশা যতই করুন হোক না কেন , সুখের ছোয়া পাবেই. এটাই নিয়ম , এটাই নিয়তির বিধান। পৃথিবীর শ্রেষ্ট জীব এবং স্রষ্টার শ্রেষ্ট সৃষ্টি মানব জাতী এক কঠিন সময়  অতিক্রম করছে।  প্রাণ ঘাতি করোনা ভাইরাসের কাছে সমস্ত বিশ্ব ,শর্তহীন ভাবে আত্নসমর্পন করেছে. উল্লেখ্য পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকে শুরু করে – শতাব্দীর পর/ শতাব্দী,  যুগের পর / যুগ ধরে,  ভিবিন্ন সময়ে -ভিবিন্ন ভাবে,  ভিন্ন রুপে,  ভিন্ন আকারে ক্রমাগত ভাবে মহামারী এই পৃথিবীতে হানা দিয়েছে।

ইতিহাসের অন্যতম মহামারীর মধ্যে :-
১৩৩৪ সালে গ্রেট প্লেগ ( Great Plague) নামক মহামারী চীনা দেশ থেকে শুরু হয় এবং বিশ্বব্যাপী মৃতের সঠিক হিসাব পাওয়া না গেলেও শুধু মাত্র ইউরোপে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

১৫১৯ সালে বর্তমান মেক্সিকো থেকে শুরু হওয়া smallpox epidemic ( গুটি বসন্ত মহামারী)  এর আক্রমনে প্রায় প্রায় ৮ মিলিয়ন মানুষ প্রান হারিয়েছিলেন এবং ২ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে প্রানে বেচে গিয়েছিলেন।

১৬৩৩ সালে বসন্ত রুপ এবং ধরন পরিবর্তন করে,  smallpox massachusetts এ রুপান্তরিত হয়।  ফ্রান্স,  বৃটেন, এবং নেদারল্যান্ডস থেকে শুরু হওয়া এই ভাইরাস নেটিভ আমেরিকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শুধু ইউরোপ ও নেটিভ আমেরিকায় প্রায় ২০ মিলয়নের ও বেশী মানুষ প্রান হারিয়েছিল।

১৮৬০ সালে Morden Plague ( আধুনিক প্লেগ)  আবার শুরু হয় চীনা,  হংকং ( Hong-Kong) এবং  ভারত উপমহাদেশে,  ১৮৬০ সালে আধুনিক প্লেগে বিশ্ব জুড়ে প্রায় ১২ মিলিয়ন মানুষ প্রাণ হারান।

১৯১৮ সালে Great Flue pandemic (দুর্দান্ত ফ্লু মহামারী)  নামক ভাইরাস আবারো পৃথিবীতে হানা দেয়,,  প্রান হারায় পৃথিবীর প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানুষ যার মধ্যে শুধু আমেরিকাতে মারা যান ৬ লক্ষ ৭৫ হাজার।

১৯৮৪ সালে আমেরিকায় প্রথম শনাক্তকৃত এইডস (AIDS) ভাইরাসে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যু বরন করেন।  তাছাড়া ইনফ্লুয়েঞ্জা,  কলেরা, স্পানিস ফ্লো, বার্ড ফ্লো,। ইবলার মত মহামারীর সাথে এই পৃথিবীর মানুষ লড়াই করেছে, চড়াই/ উৎরাই উত্তরন হয়েছে, ভেক্সিন ও আবিস্কৃত হয়েছে।

কিন্তু মানব সভ্যতার ইতিহাসে করোনার মত এত ভায়ানক, এমন মরন ব্যাধি,  এত নিষ্টোর, এমন প্রাণঘাতী মহামারী ভাইরাস মানব জাতি আর কোনদিন  দেখেনি। সমস্ত পৃথিবী,  সমস্ত মানব জাতি, অদৃশ্য শক্তির কছে পরাজিত হয়ে,  মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রাণ ভিক্ষার জন্য কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছে ।

অতীতের ভাইরাস গুলো  মানব জাতিকে স্তম্বিত কিংবা নিস্তেজ করে নি, জীবন যাত্রার উপর তেমন কোন প্রভাব ফেলেনি। কিন্তু করোনার ভয়াল থাবা থেকে মানব জাতি এখন ও উত্তরনের সঠিক উপায় খুজে পাচ্ছে না।

তবে আশার কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুত্র অনুযায়ী, ইতিমধ্যে পৃথিবীর ভিবিন্ন দেশে,  ভ্যাক্সিন দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। বর্তমান বিশ্বের সবছেয়ে ক্ষতি গ্রস্ত দেশ আমেরিকায় এই পর্যন্ত ১২.৩ মিলিয়ন,  এবং যুক্তরাজ্যে ৮ ই ডিসেম্বর ২০২০ থেকে শুরু করে,  ১৭ই জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত প্রায় ৫. ৩  মিলিয়ন মানুষকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে, এবং প্রতিদিন এর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাষ্ট্রনায়কদের মতে অতি শীগ্রই অগ্রাধিকার ভিত্তিক ভ্যাক্সিন প্রয়োগ শেষ হলে, সর্ব সাধারনের জন্য ক্রমান্নয়ে প্রয়োগ করা হবে।

যদিও বর্তমান সময়টা বিশেষ করে বৃটেনের অবস্থা  খুবই খারাপ, প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল,  সারিবদ্ধ লাশ,  আক্রান্তের সংখা,  কবরস্থানের ভীড়  এগুলো দেখে অনেকেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন,  অনেকের মধ্যে ভয় – ভীতি বিরাজ করছে, অনেকেই সেচ্চায় গৃহ বন্দীর জীবন যাপন করছেন কিন্ত বাস্তবতা  হলো  মনোবল হারালে চলবে না,  ধৈর্য ধরতে হবে, মনে শক্তি রাখতে হবে, এই কঠিন শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করতে হবে, মনে রাখতে হবে এই রকম মহামারীতে পৃথিবীতে  এর আগেও লক্ষ / কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কালের আবর্তে এ সকল মহামারী জনিত রোগ আজ বিলীন।  যদিও ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসে  আমরা আমাদের অনেক প্রিয়জনকে হারিয়েছি,, তারপরো  আমরা যারা  এখনো আছি, আমাদের পরবর্তী জেনারেশন যারা এখনো বৃটেনের আলো বাতাসে ভেড়ে উঠছে,  আমাদের নিজস্ব কমিনিউটির প্রয়োজনের তাগিদে, আমাদের শিকড় বাংলাদেশে ভ্রাতৃত্বের বন্দন অটুট রাখতে , দেশ / বিদেশের আত্নীয় স্বজন,  বন্ধু/ বান্ধবের  সাথে সম্প্রীতির বন্ধন অব্যাহত রাখতে,,  এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতে হবে। এর সাথে যুদ্ধ করেই আমাদের বেচেঁ থাকত্র হবে।

তাই সকল ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি বজায় সহ ,  সরকারে সকল নীতিমালা মান্য করা অতীব জরুরি।  অতীতের সকল মহামারীর মত করোনা ভাইরাস ও এই পৃথিবী থেকে অচিরেই বিদায় নিবে,  আবারো প্রানচাঞ্চল্য হবে পৃথিবী। নতুন সর্যের,  নতুন প্রত্যাশায়, নতুন পৃথিবীর অপেক্ষায় গোটা পৃথিবীর ৭.৮ বিলিয়ন মানুষ।

লেখক : শেখ জাফর আহমদ
(যুক্তরাজ্য প্রবাসী – রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক)

 

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত