মঙ্গলবার, ১০ অগাস্ট ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

জুবেদ চৌধুরী ক্রীড়া ও ফুটবল একাডেমিকে বাফুফে কর্তৃক ওয়ান স্টার সনদ প্রদান।



অভিনন্দন!

গত ১ জুলাই জুবেদ চৌধুরী ক্রীড়া ও ফুটবল একাডেমিকে বাফুফে কর্তৃক ওয়ান স্টার সনদ আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রদান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় বাফুফের তালিকাভুক্ত হয়ে ওয়ান স্টার প্রাপ্ত হওয়ায় একাডেমির সকল সংগঠক, সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই সাফল্যে আমরা আনন্দিত।

একই সাথে, “রবির বাজার ফুটবল একডেমি” ওয়ান স্টার প্রাপ্ত হওয়ায় একাডেমির সকল সংগঠক, সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

ফিরে দেখা ৭১ঃ
১.
জনাব জুবেদ চৌধুরী চাচার সাথে আমার বাবা আব্দুল লতিফ খানের বেশী ঘনিষ্ঠতা ছিল। ৬ মে ১৯৭১ সালে আমার বাবা আব্দুল লতিফ খান, মুন্তাকিম চৌধুরীর সাথে দেখা করতে দিলকুশা চা বাগানে যান। সাথে ছাত্র নেতা নজরুল ও খালেদুর রব ছিলেন। সে দিনই কুলাউড়া তে ২২ বালুচ রেজিমেন্ট প্রবেশ করে। ছাত্র নেতা নজরুল কুলাউড়া ফিরার পর বালুচ রেজিমেন্টের গুলিতে নিহত হন।
এসময় আমার বাবা ও শ্রদ্ধেয় চাচারা মুন্তাকিম চৌধুরী, জুবেদ চৌধুরী, জয়নাল আবেদিন, আব্দুল জব্বার, মিয়া ঠাকুর, আব্দুল মুকিম, লুৎফর রহমান , আছকির আলী, মমরূজ বক্স, সৈয়দ জামাল প্রমুখ সবাই ভারতের ধর্ম নগরে পাড়ি দেন।

২.
আমাদের পরিবার নৌকা করে ভারতে গেলে জুবেদ চৌধুরী চাচা রিসিভ করে কানাই বাবুর বাড়িতে নিয়ে যান। সে বাড়িতে তিন রুম ছিল। এক রুমে আমাদের পরিবার, এক রুমে জুবেদ চৌধুরী চাচার পরিবার,আর এক রুম খাবার রুম ছিল। প্রতিদিন ৪০-৫০ জন মুক্তিযোদ্ধার খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করতেন আমার আম্মা ও চাচি (জুবেদ চৌধুরী চাচার সহধর্মিণী )। ১৯৭১ সালে দুই পরিবার ৬/৭ মাস একসাথে থাকার কারণে পারিবারিক বোঝাপড়া ছিল দারুণ।

৩.
১৯৭১ সালে ভারতের ধর্মনগর ইয়ুথ ক্যাম্প, কুকিতল ক্যাম্প গঠন, প্রশিক্ষণ সহ বিভিন্ন লজিস্টিক কাজে কুলাউড়ার যে দুই তিন জন নেতা বিশেষ অবদান রাখেন তার মধ্যে জনাব জুবেদ চৌধুরী চাচা ও আমার বাবা আব্দুল লতিফ খান ছিলেন অন্যতম ।

৪.
১৯৭৫ সালে জাতীর পিতার নৃশংস হ‍ত‍্যার প্রতিবাদে কুলাউড়া থানা সদরে সর্বপ্রথম যে কয়জন নেতাকর্মী প্রতিবাদ মিছিল করেছিলেন, সেই মিছিলের অন‍্যতম ছিলেন আমার বাবা আব্দুল লতিফ খান ও জুবেদ চৌধুরী চাচা। আমার পিতাকে পুলিশ গ্রেফতার করে পুলিশের জামাল দারগা গাড়ির সামনে বেধে প্রকাশ‍্যে পুরো কুলাউড়া শহর প্রদক্ষিণ করে থানায় নিয়ে তিন দিন জনসন্মুখে অমানুষিক নির্যাতন করে। এ সময় সম্ভাব্য বিপদ জেনেও জুবেদ চৌধুরী চাচা আমার বাবার কারামুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যান। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর কারাভোগ করে আমার বাবা জামিনে মুক্তি পান।

৭১ এর বীরদের প্রতি শস্রদ্ধ স্যালুট, জয় বাংলা।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত