Sunday, April 22, 2018
মৌলভীবাজারে সরকারী মেডিকেল কলেজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবীতে লন্ডনে গোলটেবিল বৈঠক সম্পন্ন: এক নব- ইতিহাসের সূচনা » « বৃটেনের লন্ডন শহরে দিনব্যাপী ‘সিলেট উৎসব সম্পন্ন » « অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল এর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও হামলাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন জাস্টিস ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড ১৯৭১ইন ইউকের নেতৃবৃন্দ » « অর্থমন্ত্রীর সাথে সাংবাদিক সেলিম আহমেদ’র সৌজন্য সাক্ষাৎ » « স্কীল ওয়ার্কারদের বৈধতার দাবীতে লন্ডনে শ্যাডো মিনিস্টারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও স্মারকলিপি প্রদান » « বৃটেনের কার্ডিফে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান একুশ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত » « ইউকে কাডিফ বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মহান একুশ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত » « ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত হওয়া ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ: বঙ্গবন্ধুর অমর কাব্য » « ভয়াবহ তুষারপাতে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে ওয়েলস সহ সমগ্র বৃটেন » « গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল ইউকের নির্বাচনে মাহবুব-মকিস-রানা প্যানেলের চেয়ার মার্কার সমর্থনে ওয়েস্ট বার্মিংহামে নির্বাচনী সভা অনুষ্টিত

বিবাহিত নারীর পরকীয়া!

অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক:- সুজন ও রীতার দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল। হঠাৎ একটি মোবাইল ফোন তাদের সুখের সংসারকে তছনছ করে দেয়। সুজনের এক বন্ধু তাকে ফোন করে জানায় যে তার স্ত্রী রিতা অন্য একটি ছেলের সঙ্গে একটি শপিং মলে ঘোরাফেরা করছে। ব্যবসায়ী সুজন হন্তদন্ত হয়ে শপিং মলে গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে থাকা ছেলেটির পরিচয় জানতে চান। এ সময় সুজনের স্ত্রী উল্টো তাকে প্রশ্ন করেন ‘আপনি কে? আপনাকে তো আমি চিনি না। ’

সুজন রাগ সংবরণ করতে না পেরে স্ত্রীকে তখন কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। নারীর গায়ে হাত তোলার অপরাধে উপস্থিত নিরাপত্তা রক্ষীরা সুজনকে পাকড়াও করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে পুলিশের জেরায় সব সত্য প্রকাশ করেন রিতা।

এ সময় রিতার প্রেমিক পুলিশকে বলেন, ‘রিতার সঙ্গে আমার এক বছরের সম্পর্ক। অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দিয়েছে আমার কাছে। সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

’ এ সময় স্বামীকে না চেনার ভান করায় সুজনও রিতাকে ঘরে নিতে অস্বীকার করেন। ঘটনার কিন্তু এখানেই শেষ নয়! শেষমেশ রিতা সুজনের কাছে ক্ষমা চায় এবং প্রেমিক ওই পুরুষটি তাকে ভুল বুঝিয়ে এ পথে নামিয়েছে জানিয়ে তার বিচার দাবি করেন। সুজন শেষমেশ রিতার কথামতো ওই প্রেমিক পুরুষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ঠুকে দেন। দণ্ডবিধি আইনের ৪৯৭ ধারায় ব্যভিচারের শাস্তির উল্লেখ করা হয়েছে।

এ আইনে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য লোকের স্ত্রী জানা সত্ত্বেও বা সেটা বিশ্বাস করার অনুরূপ কারণ রয়েছে এমন কোনো নারীর সঙ্গে স্বামীর সম্মতি ব্যতীত যৌন সঙ্গম করেন এবং অনুরূপ যৌন সঙ্গম যদি ধর্ষণের অপরাধ না হয়, তাহলে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের দায়ে দায়ী হবেন, যার শাস্তি সাত বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। এ ক্ষেত্রে নির্যাতিতাকে অন্য লোকের স্ত্রী হতে হবে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে, ব্যভিচারের ক্ষেত্রে স্ত্রীলোকের কোনো শাস্তির বিধান আইনে নেই। ওই স্ত্রীলোকটি যে দুষ্কর্মের সহায়তাকারিণী বা ব্যভিচারের অপরাধে দোষী অথচ তিনি কোনো সাজা পাবে না।

এ বিষয়ে মহামান্য লাহোর হাই কোর্ট একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত দিয়েছে, যা পাকিস্তান লিগ্যাল ডিসিশন, ১৯৭৪ সন্নিবেশিত রয়েছে। মহিলা আসামি হতে পারে না। তবে ওই পুরুষটির সাজা দিতে হলে অভিযোগকারীকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, ওই মহিলার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার সময় আসামি জানত অথবা জানার যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল যে, যৌন সঙ্গমকারী মহিলা অপর কোনো ব্যক্তির স্ত্রী। উল্লেখ থাকে যে, কোনো মহিলাকে তার আগের স্বামী তালাক দিয়েছেন এই সরল বিশ্বাসে আসামি বিবাহ করলে তাকে এ ধারার অধীন দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে, যে মহিলার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করা হয় সে মহিলা ওই সময় বিবাহিত না হলে এই ধারার অধীনে কোনো অপরাধ আমলে আনা যায় না।

এ ধারার অধীন শাস্তি দিতে হলে বিবাহের বিষয়টি যথাযথভাবে প্রমাণ করতে হয়। তবে মহামান্য লাহোর হাই কোর্ট বলেছেন, অবিবাহিত পুরুষ ও স্ত্রীলোক যদি দীর্ঘদিন ধরে একত্রে বসবাস করে তাহলে বলা যাবে না যে, তারা ব্যভিচারের অপরাধ করেছে। (পিএলডি ১৯৬২, ৫৫৮)। যেহেতু এ ধারার অপরাধ জামিনযোগ্য, অভিযুক্ত প্রেমিক পুরুষ আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের আবেদন জানান এবং বিচারক মহোদয় তাকে জামিন দেন। এ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে হলে বাদীকে পাঁচটি বিষয় অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে।

প্রথমত, আসামি কোনো নারীর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করেছিল, দ্বিতীয়ত, ওই নারী বিবাহিত ছিল, তৃতীয়ত, আসামি বিবাহের বিষয়টি জানত এবং তা বিশ্বাস করার কারণও ছিল, চতুর্থত, ওই যৌন সঙ্গম নারীর স্বামীর সম্মতি বা সমর্থন ব্যতিরেকে হয়েছিল, পঞ্চমত, ওই যৌন সঙ্গম নারী ধর্ষণের শামিল ছিল না। যেহেতু সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারামতে কোনো ঘটনা প্রমাণের দায়িত্ব বাদীর।

গোপাল চন্দ্র বনাম লাসমত দাসী মামলা যা ৩৪ ডিএলআর, ১৪৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে যে, বিচার্য বিষয় সম্পর্কে যে পক্ষ কোনো ঘটনার অস্তিত্বের দাবি করে সে পক্ষই তা প্রমাণ করবে। এ মামলায় আসামি যে রিতার সঙ্গে ব্যভিচারী করেছে, বাদী সুজন প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় বিচারিক প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, সেই সঙ্গে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করে রায় প্রদান করেন।

লেখক : আইনজীবী।-সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত

সর্বশেষ সংবাদ

April 2018
M T W T F S S
« Mar    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30