Wednesday, February 21, 2018
গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল ইউকের নির্বাচনে মাহবুব-মকিস-রানা প্যানেলের চেয়ার মার্কার সমর্থনে ওয়েস্ট বার্মিংহামে নির্বাচনী সভা অনুষ্টিত » « প্যানেল স্পীকার ‘সৈয়দা সায়রা মহসীন এমপির জাতীয় সংসদে মৌলভীবাজার সরকারী মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী তোলায় ক্যাম্পেইন ওয়াটার্স আপ গ্রুপের অভিনন্দন… » « স্কুলের উন্নয়নে আমাদের সবাইকে ভৃমিকা রাখতে হবে : গৌরবের ৪০ বৎসর পূণর্মিলনীতে এই হোক দীপ্তশপথ » « সৈয়দা সায়রা মহসিন এমপি প্যানেল স্পীকার হওয়ায় প্রবাস থেকে মকিস মনসুর এর অভিনন্দন » « শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব নির্বাচনে সভাপতি ও সম্পাদক সহ নির্বাচিতদের বৃটেন থেকে অভিনন্দন » « এক কাপ রঙ চায়েই খালেদা জিয়ার দিন পার » « ইরানে ৪.২ মাত্রার ভূমিকম্প » « মোবাইলে কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা » « লাইসেন্স ছাড়াই চলছে অর্ধশতাধিক বার » « সাংবাদিকদের ডিবির যুগ্ম-কমিশনার‘ছিনতাইকারীদের কোনো সংঘবদ্ধ চক্র নেই’

সুনামগঞ্জের ডলুরায় সীমান্তে এক সাথে হিন্দু-মুসলিম ৪৮শহীদের স্মৃতিসৌধ

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,সুনামগঞ্জ:: ১৯৫২সালের ভাষা আন্দোলনের মাঝেই বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতার বীজ নিহীত ছিল। স্বাধীনতার প্রচন্ড স্পৃহা,উদ্দীপনার প্রতিফলন গঠে ১৯৭১সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তি পাগল বাংলাদেশের জনগনের মাঝে। ছড়িয়ের পড়ে প্রতিরোধ বাংলাদেশের শহর,নগর,গ্রামগঞ্জে প্রত্যন্ত এলাকায় হাওরাঞ্চলে ও সীমান্ত এলাকায়। মুক্তিযোদ্ধের সময় অস্ত্র হাতে ধরে ছিল সর্বস্তরের জনতা যার ফলে পাকিস্তানী বাহিনীর অন্যায়,অত্যাচার,জুলুমের প্রতিবাদ,প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বাংলা মায়ের ধামাল ছেলেরা আর বিতারিত করে বাংলাদেশের মাটি থেকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে। মুক্তিযোদ্ধের সময় অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের ভাল ভাবে কবর দেওয়া হয় নি। আর যাদের কবর রয়েছে তাদের কবর রয়েছে অযতœ আর অবহেলায়।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়,তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তের টেকেরঘাটে খনিজ প্রকল্পের অভ্যন্তরে অযতœ আর অবহেলায় পরে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সিরাজুল ইসলামের সমাধি। সুনামগঞ্জে স্বাধীনতা যুদ্ধে যাদের বিভিন্ন সময় মেঘালয়ের পাদদেশে সীমান্তবর্তী এলাকা জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের ডলুরায় চির নিদ্রায় সমাহিত করা হয়েছে ৪৮শহীদের কবর। এই সমাধি বাংলার নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযোদ্বের চেতনায় উজীবিত করে অনুপ্রেরনার উৎস হিসাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচেছ প্রতিনিয়ত। মহান মুক্তিযোদ্বের অংশ নেওয়া ৪৮বীর শহীদের কবরের পাশে তৈরি করা হয়েছে একটি স্মৃতিসৌধ ও মুক্তিযোদ্ধের স্মরক ভাস্কর্য ও গেইট। প্রতিটি কবর পিলার দিয়ে আলাদা করে বসিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্বে ৪২জন মুসলিম শহীদের কবরের পূর্ব পাশ্বে রয়েছে ৬ জন হিন্দু মুক্তিযোদ্বার সমাধি রয়েছে। তাদের কে আবার আলাদা আলাদা করে দাহ করা হয়েছে। অনেকেই এখানে তাদের প্রিয়জনের সন্দ্বান পেয়েছেন। জানাযায়-১৯৭১সালে স্থানীয় ভাবে প্রতিষ্ঠিত মুক্তি সংগ্রাম স্মুতি টাষ্ট্র শহীদের সমাধি গুলোর সংরক্ষন করার উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে আরেক বীর সেনানী সাব সেক্টর কমান্ডা (অব) সকল শহীদের নাম মার্বেল পাথরে খোদায় করে লিখে গেইটে বসিয়ে দেন। জানাযায়-স্বাধীনতা যুদ্বের সময় ৫নং সেক্টরের অধীনে বালাট সাব সেক্টরের আওতায় ছিল এই ডলুরা এলাকা। ডলুরার পাশ্ববর্তী সীমান্তের ওপারে মৈলাম এলাকা। আর বালাটের একটি পাহাড় ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প। সুনামগঞ্জের ষোলঘরে ছিল হানাদার বাহিনীদের অবস্থান। এই ক্যাম্পের আশ পাশের এলাকায় হানাদারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সমুক্ষ যুদ্ব হয়। বিভিন্ন সময়ে এই ডলুরায় ৪৮ জন বীর মুক্তিযোদ্বাকে সমাহিত করা হয়।
জানাযায় -মুক্তিযোদ্বের সময় সকল শহীদ সেনানীর কবর দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতেন মধু মিয়া। আর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের জানাজা পড়াতেন মুন্সি তারু মিয়া। এছারা আফাজ উদ্দিন,কিতাব আলী,আব্দুর রহিম,মোগল মিয়া,হযরত আলী এবং মফিজ উদ্দিন তারা সবাই মধু মিয়াকে সহযোগীতা করতেন। হিন্দু মুক্তিযোদ্ধাদের দাহ করার কাজ করতেন খেপু ঠাকুর। এরা সবাই ছিল প্রবাসী সরকারের ৯ সদস্য বিশিষ্ট্য অনুমদিত কমিটির সদস্য।
জানাযায় -২০০৪ সালের ১৫মার্চ মাসে মধুূ মিয়ার মৃত্যু হলে তার শেষ ইচছা অনুযায়ী ডলুরায় ৪৮শহীদের পাশেই সমাহিত করা হয়। ডলুরায় যে সব শহীদ চির নিদ্রায় গুমিয়ে আছেন তারা হলেন- মন্তাজ মিয়া,সালাউদ্দিন ,রহিম বক্স,জনাব আলী,তাহের মিয়া,আঃ হক,মুজিবুর রহমান,নরুল হক,আঃ করিম,সরুজ মিয়া,ওয়াজিদ আলী,সাজু মিয়া,ধন মিয়া,ফজলুল হক,সামছুল ইসলাম,জয়নাল আবেদিন,মরহুজ আলী,আঃ রহমান,কেন্দু মিয়া,মস্তাক মিয়া,আঃ সাত্তার,আজমল আলী,সিরাজ মিয়া,সামছু মিয়া,তারা মিয়া,আবেদ আলী,আতাহার আলী,লাল মিয়া,চান্দু মিয়া,দানু মিয়া,মন্নাফ মিয়া,রহিম মিয়া,আলী আহমদ,সিদ্দিক মিয়া,এবি সিদ্দিক,সায়েদুর রহমান,রহমত আলী,আঃ হামিদ,খান,সিদ্দিক আহমদ,আব্দুল খালেক,ও মধু মিয়া। যে সব হিন্দু মুক্তিযোদ্বা ছিলেন তারা হলেন-যুগেন্দ্র দাস,শ্রীকান্ত দাস,হরলাল দাস,অধর দাস,অরবিন্দু রায় ও কবিন্দ্র দাস। স্থানীয় এলাকবাসী জানান,বাংলার এই স্বাধীন কামী বীর শহীদদের এক প্রলক দেখা ও সম্মান জানানোর জন্য জেলা সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সারা বছর দেশি-বিদেশী লোক জন আসছে। কিন্তু উন্নত যোগাযোগও থাকা খাওয়া ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোব প্রকাশ করে বেড়াতে আসার দর্শনার্থী ও পর্যটকসহ বিভিন্ন শ্রেনী,পেশার মানুষ। বাংলার এই বীর সেনানীদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার জন্য তাদের কবর গুলোকে গুরুত্ব সহকারে সংরক্ষনের প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহন ও রক্ষানাবেক্ষন করে দেশের বীর ৪৮শহীদের দেখতে আসা পর্যটকদের জন্য থাকা,খাওয়ার এবং যাতায়াতের সু-ব্যবস্থা করার দাবী জানান সুনামগঞ্জ জেলাবাসী।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত

সর্বশেষ সংবাদ

February 2018
M T W T F S S
« Jan    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728