Saturday, January 20, 2018

সুনামগঞ্জের ৪ উপজেলার সার ডিলারগন পরিবহন খরচ নিয়ে মহা বিপদে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলের উপজেলাগুলোর মধ্যে তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা (মধ্যনগর থানা), শাল্লা উপজেলার সার ডিলারগন আতিরিক্ত পরিবহন খরচ নিয়ে আছেন মহাবিপদে।

ডিলারদের দাবী আশুগঞ্জ থেকে নৌ পথে হাওরাঞ্চলে সার পরিবহন সহজ ও খচর কম পড়বে। কিন্তু হাওরাঞ্চলের উপজেলার সার ডিলারদের কে আশুগঞ্জ থেকে না দিয়ে তাদের দেওয়া হচ্ছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে। ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে পরিবহন খরচ বেশি সময় ও বেশী এবং লাভের চেয়ে ক্ষতির শিকার হয় ডিলারগন। এ নিয়ে তাদের মনে চরম ক্ষোবের সঞ্চার হচ্ছে। আবার নৌ পথের পরিবহনের সুযোগ থাকা সত্তেও সুযোগ না দেওয়ার অনেকেই ডিলারশীপ বাতিল করার চিন্তা করছে। আর সময় মত সার না পাওয়ার আশংকায় রয়েছে কৃষকদের।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার সার ডিলারগনের সাথে কথা বলে জানাযায়,জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা দিরাই-শাল্লা সহ ১১টি উপজেলায় প্রায় ১০০জন সার ডিলার আছে। হাওর-বাওর আর নদী কেন্দ্রীক স্থানেই অবস্থান ঐ সব উপজেলা গুলো। সেখানে নদী পথে পরিবহন করা খুবেই সহজ মাধ্যম। বিশেষ করে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা (মধ্যনগর থানা), দিরাই-শাল্লা উপজেলা।

এই সব উপজেলায় সড়ক পথের ভাল ব্যবস্থা না থাকায় ট্রাক,নৌকা ও ঠেলাগাড়ি দিয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পরিবহন করায় সময় ও খচর বেড়ে যাওয়ায়। এতে করে প্রতি বস্থায় ১২০-১৩০টাকার অধিক খরচ হয়। এতে ডিলারগন লাভের চেয়ে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। আর নদী পথে পরিবহন করা হলে প্রতি বস্তা ৬০-৭০টাকা খচর হবে সময়ও কম লাগবে। লাভবান হতে পারবে।

জানাযায়,গত ২১,৯,১৭ইং কৃষি মন্ত্রনালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয় শত ভাগ সুযোগ দিয়ে অক্টোবর ও নভেম্ভর মাসে আশুগঞ্জ থেকে সার আনার অনুমোদন দিলেও এবার ডিসেম্ভর মাসে সেই সুযোগ না দিয়ে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে আনার জন্য বলছে। এতে রাজি নয় তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা দিরাই-শাল্লাসহ জেলার বেশির ভাগ ডিলার। এর জন্য তারা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত ভাবে ভার বার আবেদন করেছেন। কিন্তু তাতে কোন কাজ হচ্ছে না। তাহিরপুর উপজেলা বাদাঘাট বাজারের কৃষি বিপনীর সত্তাধিকারী ও ডিলার আবুল কালাম জানান,আমাদের এলাকায় নৌ-পথে পরিবহন সহজ। কিন্তু আমাদের দেওয়া হচ্ছে সড়ক পথে। যার ফলে আমাদের পরিবহন খরছের পরিমান বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতির শিকার হব।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে ট্রাকে সার আনতে হলে প্রথমে সুনামগঞ্জ পরে তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর বাজারে। সেখান থেকে নৌকায় সোহালা/মিয়ারচর নৌ-ঘাট। সেখান থেকে ঠেলাগাড়ি দিয়ে বাদাঘাট বাজারে আনতে হয়। এতে করে অধিক সময় নষ্ট ও টাকা খরচ হবে। আর আশুগঞ্জ থেকে হলে সরাসরি নৌকায় সোহালা অথবা মিয়ারচর নৌকা ঘাট। সেখান থেকে ঠেলাগাড়ি দিয়ে বাজারে। খরচ ও সময় কম। তাই আমার দাবী আমাদের নৌ পথে পরিবহনে যাদের সহজ মাধ্যম,খরচ কম ও সময়ও কম তাদের দিকে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ সু-দৃষ্টি দিবেন।

বাংলাদেশ ফাটিলাইজার এসোসিয়েসন তাহিরপুর উপজেলা ইউনিট সভাপতি মোহাম্মদ নূর মিয়া জানান,আমরা হাওর পাড়ে যারা ডিলার আছি তাদের একটাই দাবী আমাদের আশুগঞ্জ থেকে সার আনার সুযোগ দেওয়ার। তাহলে প্রতিটি ইউনিয়নে কম সময়ে ও কম খরচে কৃষকদের মাঝে সার সরবরাহ করতে পারব। উপজেলার কোন ডিলার ক্ষতির শিকার হবে না।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি র্কমকর্তা আব্দুস ছালাম জানান,এ উপজেলার সড়ক পথের ভাল পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় কম খরচে ও কম সময়ে কৃষকদের মাঝে সার বিতরনের জন্য আশুগঞ্জ থেকে সার আনার দাবী করছেন। আশুগঞ্জ থেকে না হলে খরচ বেড়ে যাবে লাভবান হতে পারবে না বরং এ উপজেলার ডিলারগন ক্ষতির শিকার হবে।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তেরের প্রশিক্ষন কর্মকর্তা স্বপন কুমার সাহা জানান,আশুগঞ্জ থেকে সার আনা সহজ ও খরচ কম পড়ে। ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে পরিবহন খরচ বেশী। তার জন্য ডিলালদের দাবী আশুগঞ্জ তাদের সাথে আমিও এক মত। এই বিষয়ে আমার উধর্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। আমারও চাই আশুগঞ্জ থেকে সার ডিলাদের দেওয়ার জন্য।##

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত

সর্বশেষ সংবাদ

January 2018
M T W T F S S
« Dec    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031