Sunday, July 22, 2018
শ্রীমঙ্গলে ক্ষুদে ফুটবলারদের নিয়ে প্রীতিম্যাচ অনুষ্ঠিত » « এক যুগের চেয়ে এবার মৌলভীবাজারে এইচএসসিতে বেশি ফল বিপর্যয় » « সমাজ দার্শনিক কার্ল মার্কসের জন্ম দ্বিশত বার্ষিকী মৌলভীবাজারে পালিত » « আদমপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা টুকুও নেই » « মৌলভীবাজারে যে কারণে এইচএসসিতে ফলাফল বিপর্যয় » « পিছিয়ে মৌলভীবাজার, সেরা সিলেট » « ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বড়লেখায় অস্ত্রসহ ২ ডাকাত আটক » « বান্ধবীর বাল্যবিয়ে ভাঙল মৌলভীবাজারের তিন কিশোরী » « মৌলভীবাজারে পাসের হার ৫৫ দশমিক ২৫ শতাংশ » « মৌলভীবাজারে ফুলের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও নেই বাণিজ্যিক চাষাবাদ

পানিবন্দি ৪০ হাজার পরিবার

নিজস্ব রিপোর্টার: মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৪০ হাজার পরিবার। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ২ লাখ মানুষ। ক্ষতিগ্রক্ষদের মাঝে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে বিতরণ করা হচ্ছে ত্রাণ। উদ্ধার করা হচ্ছে পানিবন্দিদের। এপর্যন্ত পানিতে ডুবে নিহত হয়েছেন ৯ জন। নদীর পানি কমতে থাকলেও পানি বাড়ছে হাওরাঞ্চলে।

সর্বশেষ রোববার রাতে মৌলভীবাজারের বারইকোনা এলাকায় মনু নদীর ভাঙ্গনে শহরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এখনও বাসাবাড়ীতে পানি রয়েছে। এছাড়া নিম্নাঞ্চলের ৩টি ইউনিয়ন নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। শহরের সাথে সিলেট ও চার উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। ইতিমধ্যে শহরের পানি কমতে শুরু করেছে। যদিও মনু নদীর পানি কমে চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৭ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ৩ দিন ধরে মূল শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝঁকিপূর্ণ স্থানে বালুর বস্থা দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করছে সেনাবাহিনী। অনেকে বাড়ী ঘড় ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে উঠেছেন। দূভোর্গে পড়েছেন স্থানীয়রা।

মৌলভীবাজার শহরের কুসুমবাগ এলাকার ৪টি সরকারী খাদ্য গুদাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রায় ২ হাজার মেট্রিকটন চাউল পানিতে নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। চাল উদ্ধার করছে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টিম। মৌলভীবাজার জেলা খাদ্য গুদামের ইনচার্জ মো: সাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘রাতে হঠাৎ বন্যা দেখা দেয়ায় সরকারি খাদ্য গুদামের ভিতর প্রায় ২ হাজার মেট্রিকটন চাইল ছিল তা উদ্ধার করা যায়নি। কিছু সংখ্যা চাউল উদ্ধার করা হয়েছে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, মনু নদের বাঁধ ভাঙায় মৌলভীবাজার শহরের ইতোমধ্যে পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ড ও ৩-৪টি ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্রমাগত পানি গড়াচ্ছে আশপাশের এলাকাগুলোতে। শহর ও শহরতলীর বাসাবাড়িতে তিন থেকে চার ফুট পানিতে ডুবে আছে। তবে দোকানপাঠের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে অনেকেই বলছেন এই ধরনের পানি এর আগে কখনও দেকেননি।

বড়হাট এলাকার রাণি বেগম, কালাম, রহিমা, রুমান বলেন, ‘হঠাত বাধ ভেঙে বন্যা হয়েছে। মসজিদেও মাইকে না খইলে আমরা মরি গেলাম নে। ঘুম তেকি উঠিয়া চাইর বায় পানি দেখি। এখনও ত্রাণ পাইছি না হুনছি মন্ত্রী আইলে ত্রাণ দেওয়া অইব।’ এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউট, রেডক্রিসেন্টসহ ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগে বন্যার্তদেও সহায়তা করাতে দেখা গেছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো: তোফায়েল ইসলাম জানান, চলমান বন্যায় জেলার ৪টি উপজেলার ৩০টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার মানুষ পানিবন্ধি হয়েছে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও সদর উপজেলার ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ২৪০জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যায় এপর্যন্ত ৯জনের মৃত্যু হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে ৫০টি। এর মধ্যে মৌলভীবাজার জেলা শহরে ৬টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। ৯,৭০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। মজুত আছে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন চাল। পাশাপাশি শুকনো খাবারও বিতরণ করা হচ্ছে। এপর্যন্ত মনু ও ধলাই নদীর ২৫টি স্থানে ভাঙন হয়েছে। অনেক জায়গায় আউশ ও ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনার জন্য সেনা বাহিনীর কয়েকটি দল স্পিড বোট, লাইফ জ্যাকেট নিয়ে কাজ করছে। ৭৪টি ম্যাডিকেল টিম কাজ করছে। বর্তমানে শহর বিপদজনক অবস্থানে রয়েছে। আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী রণেদ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘চারদিন ধরে বিপদসীমার ওপরে পানি থাকায় বাঁধ ফেটে বেশ বড় জায়গাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেনাবাহিনীসহ আমরা পানি আটকানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু বেগ বেশি হওয়ায় বস্তা ফেলেও তা ঠেকানো যায়নি। নৌকা দিয়ে পানিবন্দিদের উদ্ধার কাজ চলছে। আশাকরছি উজানে বৃষ্টি না হলে আমরা আর প্লাবিত হব না।’

এদিকে গতকাল সোমবার মৌলভীবাজার পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বন্যা কবলিতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন দূযোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধূরী মায়া। শহরের বড়হাট এলাকায় প্রায় ১হাজার বন্যার্তদের মাঝে এই ত্রাণ সামগ্রী মন্ত্রী বিতরণ করেন। মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দূযোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধূরী মায়া।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার ৩ আসনের সাংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন, মৌলভীবাজার ৪আসনের সাংসদ আব্দুশ শহীদ, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান প্রমুখ। এছাড়াও তিনি রাজনগর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করবেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত

সর্বশেষ সংবাদ

July 2018
M T W T F S S
« Jun    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031