Sunday, July 22, 2018
শ্রীমঙ্গলে ক্ষুদে ফুটবলারদের নিয়ে প্রীতিম্যাচ অনুষ্ঠিত » « এক যুগের চেয়ে এবার মৌলভীবাজারে এইচএসসিতে বেশি ফল বিপর্যয় » « সমাজ দার্শনিক কার্ল মার্কসের জন্ম দ্বিশত বার্ষিকী মৌলভীবাজারে পালিত » « আদমপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা টুকুও নেই » « মৌলভীবাজারে যে কারণে এইচএসসিতে ফলাফল বিপর্যয় » « পিছিয়ে মৌলভীবাজার, সেরা সিলেট » « ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বড়লেখায় অস্ত্রসহ ২ ডাকাত আটক » « বান্ধবীর বাল্যবিয়ে ভাঙল মৌলভীবাজারের তিন কিশোরী » « মৌলভীবাজারে পাসের হার ৫৫ দশমিক ২৫ শতাংশ » « মৌলভীবাজারে ফুলের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও নেই বাণিজ্যিক চাষাবাদ

হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিয্য হালের লাঙল

মাসুদ রানা :হাল'” বা লাঙল এক ধরনের যন্ত্র যা সাধারণত কৃষি কাজে ব্যবহার করা হয়। বীজ বপন অথবা চারা রোপনের জন্য জমির মাটি তৈরি করবার ক্ষেত্রে হাল ব্যবহার করা হয়। কৃষি কাজের জন্য ব্যবহৃত এটি অন্যতম পুরাতন যন্ত্র। এটির প্রধান কাজ হলো মাটিকে ওলট-পাল্ট করা এবং মাটির দলাকে ভেঙ্গে দেয়া যাতে করে মাটির নিচের লেয়ারের পুষ্টি গুন গুলো উপরে উঠে আসতে পারে এবং একই সাথে মাটির উপরের আগাছা ও ফসলের অবশিষ্টাংশ নিচে চাপা পরে জ়ৈব সারে পরিনত হতে পারে। এটি মাটিতে বায়ু চলাচলের পরিমাণ বাড়ায় এবং মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে। হাল আগে সাধারণত বলদ, ষাঁড়, মহিষ অথবা ঘোড়া দ্বারা পরিচালিত হতো। লাঙ্গল দিয়ে হাল-চাষ করতে কমপক্ষে একজন লোক ও একজোড়া গরু অথবা মহিষ প্রয়োজন হয়। গরু টানা লাঙ্গলের দুটি অংশ থাকে । নিছের অংশটিকে সাধারণত হাল বা লাঙ্গল বলা হয় । আর উপরে গরু বা মহিষের ঘাড়ে লাগানো অন্য অংশটিকে জুয়াল বলা হয় ।বর্তমানে আধুনিকতার সাথে সাথে হালের পরিবর্তন এসেছে। ট্রাক্টর অথবা পাওয়ার টিলার দ্বারা জমি চাষ বার ক্ষেত্রেও হাল একটি গূরত্ব পূর্ণ অংশ হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে।

হারিয়ে যাচ্ছে গরুর হাল। এক সময় কৃষকের প্রধান অবলম্বন ছিল গরু দ্বারা কাঠের লাংগল দিয়ে জমি চাষ করা। গরু ও কাঠের লাঙগল দ্বারা জমি চাষ করাকে গ্রামাঞ্চলে হাল চাষ বলা হত।
এখন আর গরুরর হাল চোখে পড়ে না। প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকেরা এখন জমি চাষ করে ।
ফলে আগের মতো গ্রাম-গঞ্জে গরুর বাতানও (পাল) এখন আর চোখে পড়ে না। শতকরা ১০ বাড়িতে খুঁজলেও গরুপাওয়া যায় না।
যখন সব এলাকাতেই চলছে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমির চাষ, ঠিক এমনি সময়ে পত্নীতলা উপজেলার নাদৌড় গ্রামের কৃষক শ্রী ম্যানা জমিতে গরম্নর হাল দিয়ে জমি চাষ করার দৃশ্য দেখে এগিয়ে যান এ প্রতিবেদক। এ সময় কথা হয় টাকার বিনিময়ে অন্যের জমি চাষ করা ম্যানার সাথে।
তিনি জানান, আমার বাড়ি পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর ইউনিয়নের নাদৌড় হিন্দু পাড়া গ্রামে, বাবার স্বর্গীয় গুরুচরন । আমি লেখাপড়া করতে পারি নাই ট্যাকার অভাবে। আমার ১ মেয়ে ১ ছেলে। । । নিজে পড়তে না পারলেও ছেলেটাক মানুষ করার জন্য এখনও বৃদ্ধ বয়সে অন্যের জমিত ট্যাকার বিনিময়ে গরুর লাংগল দিয়ে জমি চাষ করি। এক দিনে ৪০০/৫০০টকা পান তা দিয়ে গরু কে খাওয়ান ও তিনি পরিবার চালান।
তিনি আরও জানান পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করলেও
চাষদেয়া জমি সমান করতে গরু দিয়ে মই দিলে ভালো হয়।

তিনি আরো বলেন, আমার জমি-জিরাত বলতে ৫ শতাংশ জমির একফালি বাড়ির ভিটা আর কোন আবাদী জমি নাই। আর সম্বলের মধ্যে এই ২ টা বলদ গরু।
তিনি জানান তার একটি গাভীও আছে সেই গাভী প্রতিদিন ৩/৬লিটার দুধ দেয়।
গরুর হালের পাশাপাশি গ্রাম এলাকায় দেখা দিয়েছে খাটি দুধেরও অভাব। আগে গরুর দুধ গরম করলে একটু পরে দুধের উপর সুন্দর একটা সর পড়ত। বাজারের দুধে এমন সর আর পাওয়া যায় না। গরু না থাকলে মাড়াই মৌসুমে ধানের মাড়াইসহ বিভিন্ন ফসলের মাড়াই করতে সমস্যায় পড়তে হয়। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, প্রযুক্তির পাশাপাশি গরুর প্রয়োজন আছে বলে সবাই মনে করেন।

আগের যঁুগে দেখা যেত আত্মীয়র বাড়ী বেড়াতে যাওয়ার একমাত্র বাহক ছিলো টোপড়ওয়ালা গরু/মহিষের গাড়ী সময়ের পরিবর্তনে যা আর চোখে পড়ে
না।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত

সর্বশেষ সংবাদ

July 2018
M T W T F S S
« Jun    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031