বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রেমিট্যান্স : শীর্ষে সৌদি আরব



100_dollar_bills_wallpaper-t2

ডেস্ক রিপোর্ট : বরাবরের মতো চলতি অর্থবছরেও সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। সৌদি থেকে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ইউরোপের সব দেশ থেকে আসা রেমিট্যান্সের চেয়েও বেশি। আঞ্চলিক হিসেবেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে। সৌদির পরই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 
সম্প্রতি প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেশভিত্তিক রেমিট্যান্স তালিকা সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। রেমিট্যান্স পাঠানোর দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের অবস্থান সবচেয়ে উপরে। তালিকায় এরপর রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত, ওমান, বাহরাইন ও কাতারের স্থান।
আমেরিকার দেশগগুলোর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স। এরপর আছে যুক্তরাজ্য, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানি। সৌদি আরব থেকে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ চলতি অর্থবছরের (২০১২-১৩) ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৭০ কোটি ৩৪ লাখ ৫ হাজার ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩৬৮ কোটি ৪৩ লাখ ৬ হাজার ডলার, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৩২৯ কোটি ৩ হাজার ডলার এবং ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৩৪২ কোটি সাত লাখ পাঁচ হাজার ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে চলতি অর্থবছরে এসেছে ১৯৪ কোটি ৩৩ লাখ ডলার।
২০১১-১২ অর্থবছরে এসেছিল ২৪০ কোটি ৪৭ লাখ আট হাজার ডলার, ২০১০-১১ অর্থবছরে ২০০ কোটি ২৬ লাখ তিন হাজার ডলার, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১৮৯ কোটি তিন লাখ এক হাজার ডলার। কুয়েত থেকে চলতি অর্থবছরে এসেছে ৭৯ কোটি ৫৩ লাখ নয় হাজার ডলার।
এর আগে ২০১১-১২ অর্থবছরে এসেছিল ১১৯ কোটি এক লাখ চার হাজার ডলার, ২০১০-১১ অর্থবছরে ১০৭ কোটি ৫৭ লাখ পাঁচ হাজার ডলার, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১০১ কোটি ৯১ লাখ আট হাজার ডলার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে চলতি অর্থবছরে এসেছে ১২২ কোটি ৪৫ লাখ ৬ হাজার ডলার।
২০১১-১২ অর্থবছরে এসেছিল ১৪৯ কোটি ৮৪ লাখ ছয় হাজার ডলার, ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৮৪ কোটি ৮৫ লাখ এক হাজার ডলার এবং ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১৪৫ কোটি ১৮ লাখ নয় হাজার ডলার। যুক্তরাজ্য থেকে চলতি অর্থবছরে এসেছে ৭০ কোটি ৮৫ লাখ এক হাজার ডলার।
এরআগে ২০১১-১২ অর্থবছরে এসেছিল ৯৮ কোটি ৭৪ লাখ ৬ হাজার ডলার, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৮৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার এবং ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৮২ কোটি ৭৫ লাখ ১ হাজার ডলার।
তবে এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ইতালি, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স। চলতি অর্থবছরে মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৬৫ কোটি ৮৮ লাখ ২ হাজার ডলার।
২০১১-১২ অর্থবছরে এদেশ থেকে এসেছিল ৮৪ কোটি ৭৪ লাখ ৯ হাজার ডলার, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৭০ কোটি ৩৭ লাখ তিন হাজার ডলার এবং ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৫৮ কোটি ৭০ লাখ নয় হাজার ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে কেবল বৈধপথে আসা রেমিট্যান্স গণনা করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিবছর হুন্ডির মাধ্যমে আসছে কোটি কেটি ডলার, যা হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
গতবছর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংক আউটলুক ফর রেমিট্যান্স ২০১২-১৪ শীর্ষক প্রতিবেদনে ২০১১ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ রেমিট্যান্স গ্রহীতা দেশের তালিকা করা হয়। ১২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স গ্রহণ করে বাংলাদেশের স্থান পঞ্চম। আর তালিকায় ভারতের স্থান প্রথম।
উল্লেখ্য, রেমিট্যান্স আয় বাড়ানের জন্য সরকার দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। দক্ষ জনশক্তি পাঠানো গেলে রেমিট্যান্স আয় দিগুণ করা সম্ভব বলে বিভিন্ন গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে।