শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ দলের



image_18786_0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়ের ফলে সৃষ্ট সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ দল। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সংখ্যালঘু নির্যাতন, বাকস্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, আইন এবং বিচারকসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চলমান সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানান। প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ২০১০ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে কেন্দ্র করেই সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধী, গণহত্যা, ধর্ষণ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার কাজ চলছে এই ট্রাইব্যুনালে।
এই রায় এবং এর পরবর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রাজনৈতিক আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৮৮জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান ক্রিস্টোফ হেন্স বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং দ্রুত তদন্তের জন্য আমি বাংলাদেশের দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলায় জাতিসংঘ উদ্বিগ্ন।”
বাকস্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক লা রুই বলেন, “চলমান সহিংসতায় বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের জীবনে নিরাপত্তা নেই। একজন ব্লগার নিহত, বেশকিছু সংবাদকর্মী আহত এবং ১২টি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়ায় দেশটির বাকস্বাধীনতা এখন হুমকির মুখে।” বাংলাদেশে চলমান সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার সমালোচনা করে সংখ্যালঘু বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান হেইনার বেলেফেল্ড বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের।” অপর বিষেশজ্ঞ র‌্যাকুয়েল রোলনিক বলেন, “সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির অতীত ইতিহাসে এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সরকারের উচিত সংস্কৃতি, ভাষা এবং ধর্মীয় পর্যায়ের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
অপরদিকে আইন বিভাগের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান গ্যাব্রিয়েলা নাউল বলেন, “সরকারের উচিত অতীতের মানবাধিকার আইন ভঙ্গের কারণে নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।”
এছাড়াও গ্যাব্রিয়েলা নাউল এবং ক্রিস্টোফ হেন্স বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে স্বচ্ছতার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদের রায়ের বিষয়ে তারা জানান, একজন পলাতক আসামিকে ফাঁসির রায় দেয়াটা স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থার উদাহরণ হতে পারে না। সূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।