শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

লংমার্চে বাধা আসলে লাগাতার হরতাল দেবে হেফাজত ইসলাম



5839_1 (1)

ডেস্ক রিপোর্ট : লংমার্চে বাধা প্রদান এবং নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলে ৭ এপ্রিল থেকে লাগাতার হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে, যা সামলানো সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না। রবিবার বিকেলে হেফাজতে ইসলামের লালবাগস্থ দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সংগঠনের নেতারা। লংমার্চকে সামনে রেখে আলেম-ওলামা, ইমাম ও মাদরাসার পরিচালকদেরকে প্রশাসন ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা থানায় ডেকে নিয়ে হুমকি এবং গ্রেপ্তারের ভয় দেখাচ্ছে বলে ধর্মীয় নেতাদের সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। হেফাজত নেতারা বলেন, ‘আমরা কোনো জ্বালাও-পোড়াও এবং ভাঙচুরে বিশ্বাস করি না। আমরা আমাদের দাবি সরকারকে জানিয়ে দিয়েছি। বল এখন সরকারের কোর্টে; সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব এখন সরকারের।’‘আমরা মনে করি, যে কেউ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়, মুসলমান হিসেবে আমাদের এ অহিংস আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পারে। আশা করছি, সরকার আমাদের এ কর্মসূচি পালন সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে’ যোগ করেন তারা। হেফাজত নেতারা দাবি করেন, ‘হেফাজতে ইসলাম সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানো, সরকারবিরোধী আন্দোলন পরিচালনা করা কিংবা কাউকে ক্ষমতায় বসানো আমাদের আন্দোলনের লক্ষ্য নয়। তাই ঈমানদার জনতা আমাদের এই আন্দোলনে সংহতি ও ঐক্য প্রকাশ করতে বাধ্য।’‘কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নয়, সম্পূর্ণ ঈমানি চেতনা, নবীপ্রেম ও ধর্মীয় কর্তব্যবোধ থেকেই শাহবাগকেন্দ্রিক কথিত জাগরণমঞ্চের চিহ্নিত ব্লগারদের বিরুদ্ধে সারা দেশে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে যাচ্ছে হেফাজত’ যোগ করেন তারা। হেফাজত নেতারা অভিযোগ করে বলেন, একটি মহল ও কিছু মিডিয়া উদ্দেশ্যমূলকভাবে হেফাজতে ইসলাম এবং এর নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। ইসলাম নামধারী কিছু ব্যক্তি ও দল এই অপপ্রচার ও মিথ্যাচারে উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে। কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে ঈমানের তাগিদে চিড়া, মুড়ি ও শুকনো খাবারসহ সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে ৬ এপ্রিল লংমার্চ করে ঢাকায় আসার আহবান জানান তারা।
যুদ্ধাপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে এই আন্দোলন কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হেফাজত নেতা মাওলানা নুর হোসাইন কাসেমী বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে প্রায় চার বছর। আমরা এতদিন সে বিষয়ে কোন কথা বলিনি।’ ‘কিন্তু যখন আল্লাহ, রাসুল (সা.) এবং দ্বীন ইসলাম নিয়ে দৃষ্টতাপূর্ণ অবমানা করা হয়েছে, কুরুচিপূর্ণভাবে তাদের চিত্রায়িত করা হয়েছে। তখন একজন নবীপ্রেমিক হিসেবে আমরা বসে থাকতে পারিনি’ বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মাওলানা নুর হোসাইন কাসেমীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, খেলাফতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মুফতী মুহাম্মদ তৈয়্যব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আবুল কাসেম, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন ও মহানগর সভাপতি মাওলানা নোমান মাজহারী প্রমুখ