সোমবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে নেতৃত্বের বিরোধে ৩ বছর ধরে চা শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ : বিদ্যালয়বিমুখ হয়ে পড়ছে শিশুরা



Moulvibazar Pic

জালাল আহমদ : মৌলভীবাজারে চা শ্রমিক ইউনিয়নকে ঘিরে ক্ষমতা আর নেতৃত্বের লড়াইয়ে বিপাকে পড়েছে চা শ্রমিক সনত্মানদের শিক্ষা কার্যক্রম। চা শ্রমিক ইউনিয়নের টানাপোড়নে প্রায় ৩ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে চা শ্রমিক সনত্মানদের শিক্ষাবৃত্তি। স্বল্প মজুরিপ্রাপ্ত চা শ্রমিকের সনত্মানদের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ থাকায় তাদের পড়শোনা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক শিশু বিদ্যালয়বিমুখ হয়ে পড়ছে। 
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এরশাদ সরকার আমলে এক কোটি টাকার তহবিল দিয়ে গঠন করা হয়েছিল চা শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড। পরবর্তীতে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আরও এক কোটি টাকা দিয়ে গঠন করা হয়েছিল চা বাগান শিক্ষা ট্রাস্ট। এছাড়া বিভিন্ন উৎস থেকে আরও ৫০ লাখ টাকা যোগ হয়ে ওই দু’টি তহবিলের আড়াই কোটি টাকা থেকে চা বাগান শ্রমিক সনত্মানদের শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি দেয়া হতো।
সূত্র আরও জানায়, ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর সারা দেশের চা বাগানগুলোর চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংগ্রাম কমিটিতে মাখন লাল কর্মকার সভাপতি ও রাম ভজন কৈরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর ৩৬ বছর দায়িত্বে থাকা রাজেন্দ্র প্রসাদ বুনার্জির জামাতা বিজয় প্রসাদ বুনার্জি এর প্যানেল পরাজিত হয়। এ সময়ে চা শ্রমিক সংঘের আরেকটি অংশের নেতৃত্বে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি সংক্রানত্ম বিভিন্ন দাবিতে দেশের ২২ টি চা বাগানে ধর্মঘট ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে চা বাগান মালিকপক্ষের সঙ্গে সম্পাদিত দ্বি-বার্ষিক চুক্তিতে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ টাকা, দু’টি উৎসব ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ হাজার ২০০ টাকায় উন্নীত করা হয়। এ অবস্থায় এক বছরের মধ্যে ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর নির্বাচনে পরাজিত বিজয় প্রসাদ বুনার্জি স্থানীয় একটি প্রভাবশালীমহলের ছত্রছায়ায় শ্রীমঙ্গলস্থ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় তাদের দখলে নিয়ে নেয়। ২০০৯ সালের নভেম্বরে চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় দখল হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ প্রায় ৩ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাবৃত্তি।
বিগত এই ৩ বছরে জেলার ৯২ টি চা বাগান এলাকায় দরিদ্র ও অসহায় স্বল্প মজুরিপ্রাপ্ত চা শ্রমিকদের বিদ্যালয়গামী সনত্মানরা ঝরে পড়তে শুরম্ন করে। চা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ হারানো সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী জানান, চা শ্রমিক সনত্মানদের শিক্ষাবৃত্তি চালু করতে হলে কথা বলতে হবে নির্বাচিত কমিটিকে। এ কমিটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বন্ধ রয়েছে শিক্ষাবৃত্তিও। তাছাড়া চা বোর্ডের অধীনে চা শ্রমিক ছাত্র বৃত্তির বিষয়টি সম্পৃক্ত।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গলস্থ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক হারম্নন অর রশীদ সরকার জানান, বৃত্তি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মূল কারণ শ্রমিক ইউনিয়নে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ। ছাত্র বৃত্তির বিষয়ে ১১ সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে। চা শ্রমিক নেতৃত্বের দু’টি পক্ষের বিরোধে তারা এ ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধানত্ম দিচ্ছেন না।