শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজার থেকে দেড় শতাধিক গাড়ি নিয়ে লংমার্চে হেফাজতে ইসলাম



মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার টাউন ইদগাহ প্রাঙ্গণে শপথ গ্রহণ শেষে কাফনের কাপড় পরে মেসওয়াক, তাসবীহ, শুকনো খাবার ও জায়নামাজ নিয়ে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা শুক্রবার বিকেল ৩ টার দিকে ঢাকা অভিমুখে রওয়ানা দিয়ে মিনিবাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসসহ অর্ধশতাধিক গাড়ি নিয়ে শনিবার ভোররাতে লংমার্চে পৌঁছেছেন। তবে হবিগঞ্জে রাতে গাড়ি আটকিয়ে দেয়ায় পায়ে হেঁটে রওয়ানা দেন নেতাকর্মীরা। পূর্বপ্রস্তুতি অনুযায়ী মৌলভীবাজার থেকে প্রায় ৪০০ গাড়ি বহর নিয়ে ঢাকার লংমার্চে যাত্রার কথা থাকলেও হেফাজতে ইসলামসহ ৯টি সংগঠন অর্ধশতাধিক যানবাহন নিয়ে যাত্রা শুরু করে। হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিয়ে পথসভা, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও সকল উপজেলা কমিটির সাথে মতবিনিময় করে গত ১ এপ্রিল ৭০ টি গাড়ির জন্য ৪০ হাজার টাকা বায়না দেয়া হয়। কিন্তু ৪ এপ্রিল বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে যানবাহন কর্তৃপক্ষ বায়নার টাকা ফেরত প্রদান করে। এছাড়া হানিফ পরিবহনের ২০টি বাসের জন্য কথা থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকে সকল বাস কাউন্টার বন্ধ রয়েছে। এমনকি যোগাযোগের জন্য দেয়া মোবাইল ফোনও কেউ রিসিভ করছেন না। সকাল ১০টা থেকে সকল যাত্রীরা ঈদগাহ ময়দানে এসে জড়ো হন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুপুর আড়াইটায় মোনাজাত শেষে রওয়ানা দেন হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দরা। 
হেফাজতে ইসলাম সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় সংবাদ সম্মেলনের পর ২ হাজার ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক বৃহস্পতিবার রাতেই চলে গেছে। অবিশষ্ট যাত্রীরা শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে যে যার মত বাস ট্রাক, ছোট গাড়ি ও রাতের ট্রেনে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু হবিগঞ্জে তাদেরকে আটকিয়ে দেয়া হয়। তাদের সাথে রয়েছে কাফনের কাপড়, মেসওয়াক, তাসবীহ, জায়নামাজ ও শুকনো খাবার। তাদেরকে ঘিরে জুমার নামাজের আগে ও পরে গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারি ছিল।
এ ব্যাপারে ঢাকাস্থ ফকিরাপুল হানিফ বাস কাউন্টারের কর্তৃপরে সাথে যোগাযোগ করা হলে ব্যক্তিগত কারণে গাড়ি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
শ্রমিক নেতারা জানান, চাপের মুখে তারা বায়নার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃহস্পতিবার রাতেই লংমার্চে চলে যান। অবশিষ্টরা শনিবার ভোররাতে লংমার্চে পৌঁছেছেন।
মৌলভীবাজার জেলা হেফাজতে ইসলামের নেতা সৈয়দ মাসউদ আহমদ ও শরীফ খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, জেলার ৭টি উপজেলা থেকে বিছিন্নভাবে গাড়িবহর নিয়ে লংমার্চে অং নিয়েছেন। যানবাহন না পাওয়ার জন্য নেতারা সরকারিদলকে দায়ি করেন।