শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কুলাউড়ার বরবটি রফতানি হচ্ছে লন্ডন-আমেরিকায়



kulaura borboti

এম. মছব্বির আলী : মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার দশটি গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার বরবটি চাষ করে সবজি বিপ্লব ঘটিয়েছে এলাকার কয়েকজন কৃষক। ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বরবটি রফতানি করা হচ্ছে। তিন শতাধিক পরিবার এখন স্বাবলম্বী। তারা কেউ কেউ হয়েছেন লাখপতি। এখানে উৎপাদিত বরবটি মৌলভীবাজার তথা সিলেট বিভাগের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রফতানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বরবটি থেকে প্রতিমাসে আয় হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের দিঘাইছড়া নদীর দক্ষিণ তীরের অদূরে প্রায় ৭০ একর জমিজুড়ে বরবটি চাষ করা হয়েছে। বরবটি চাষে উপজেলার গোবিন্দপুর, মৌলভীগাঁও, হরিণগর, পশ্চিম জালালাবাদ, কোনাগাঁও, শ্রীপুর, নবীনগর, নছিরাবাদ, লামাপাড়া, চকেরগ্রাম সহ আশপাশ এলাকার তিন শতাধিক পরিবারের লোক বরবটি চাষে ওতোপ্রতভাবে জড়িত রয়েছে। বরবটি চাষী আছকর মিয়া, মুন্না, আবদুল খালিক, মাসুক মিয়া, লাল মিয়া, আজিজ মিয়া. সাজিদ মিয়া, আশুক মিয়া, জাকির হোসেন, সুকুমার চন্দ দেব, আবদুর রউফ, আয়মনা বেগম, গৌরাঙ্গ চন্দ দেব, আবদুস শহীদ, শামীম আহমদ, লালু মিয়া, লীল মিয়া, শিপন মিয়াসহ অনেকেই বরবটি চাষ করে জীবনের গতিপ্রবাহ পাল্টে দিয়েছেন। তারা জানান, এক বিঘা জমিতে বরবটি চাষ করে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। চাষ প্রক্রিয়া শেষে বিক্রীত সবজি থেকে আয় হয় ৬০ হাজার টাকার বেশি। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় সেচ দেয়া যায় না। কৃষকদের দাবি সরকারিভাবে ৩-৪টি গভীর নলকূপ বসানো জরুরি। শুধু বরবটি নয়, রবিশস্য এ অঞ্চলের চাষীদের ভাগ্য বদলে দিতে পারে বলে তারা আশাবাদী। অগ্রহায়ন মাসে আমন তুলে এ জমিতে কৃষকরা বরবটি চাষ শুরু করেন। বীজ রোপণ থেকে তিন মাসে ফসল আসতে থাকে। ফাগুন মাসের শেষদিক থেকে সংগ্রহ ও বিক্রি শুরু হয়। এ সবজি চাষে জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে গাছ পুষ্ট হয়। কীট-পতঙ্গের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। উৎপাদন মৌসুম শুরু হলে প্রতিদিন ভোরে চাষীরা ক্ষেত থেকে বরবটি সংগ্রহ করে পাশের সড়কে শ্রীপুর, বরমচাল ও কোনাগাঁও এই তিনটি বাজারে স্তুপ করে রাখে। ঢাকা, সিলেট, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বিশ্বনাথ থেকে পাইকাররা এসে কেজি বা মণ দরে কিনে ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যায়। পাইকারি হিসাবে মণপ্রতি গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই লাখ কেজি গড়ে বিক্রি হয় প্রায় ৪ লাখ টাকায়। এ হিসাবে এক মাসে বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। ফলন এক থেকে দেড় মাস সংগ্রহ করা যায়। প্রতি সপ্তাহে ২-৩ দিন ফসল সংগ্রহ করা হয়। সিলেট বিভাগের মানুষের প্রয়োজনে সবজি হিসেবে ব্যবহূত হয়। তাছাড়া বিদেশেও রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হয়। একাধিক রফতানিকারক এখানে উৎপাদিত সুস্বাদু এ সবজি বিদেশে রফতানি করছেন। এ থেকে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে বাংলাদেশ। প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে এ সবজির কদর বেশি বলে কৃষকরা জানান। প্রবাসীদের চাহিদার প্রতি অগ্রাধিকার দিয়ে লন্ডন, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সৌদী আরব, সংযুক্ত আরব আমীরাত ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়।