শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ইলিয়াস আলী নিখোঁজের এক বছর কাল



মোহাম্মদ আলী শিপন, বিশ্বনাথ : বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল বুধবার। তাকে ফিরিয়ে পাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছেন তাঁর জন্মস্থান বিশ্বনাথবাসি। গত বছরের ১৭ এপ্রিল রাতে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়ি চালক আনসার আলী ঢাকার বনানী থেকে নিখোঁজ হন। কিন্তু আজও তাদের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ এম. ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার খবর তাঁর নির্বাচনী এলাকা (বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে) সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্থরের মানুষ রাজ পথে নেমে আসেন। ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার খবর তাঁর নিজ গ্রামে জড়িয়ে পড়লে এলাকার শতশত মানুষ গত বছরের ১৮ এপ্রিল সকাল থেকে তাঁর বাড়িতে ভীর করেন। বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারি ইউনিয়নের রামধানা গ্রামে ওইদিন ইলিয়াস আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে দশটি গরু জবাই করে দুঃস্থ অসহায় পরিবারের মধ্যে বিতরন করা হয় এবং খতমে কোরআন পড়ানো হয়। নিখোঁজের পরদিন ইলিয়াস আলীর নিজ গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ তাঁর বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় ইলিয়াস আলীর বৃদ্ধা মা সূর্যবান বিবি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি ছেলের জন্য শুধু বিলাপ করে কাঁদছিলেন আর বলছেন আমার বুকের মানিককে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও। তার আর্তনাথে রামধানা গ্রামের আকাশ-বাতাশ সেই দিন ভারি হয়ে ছিল। আজও তাঁর কান্না থামেনি। 
দলমত নির্বিশেষে সব বয়সের নারী-পুরুষ আশায় বুক বেঁধে বসে আছেন তাদের চিরচেনা সেই প্রিয় মানুষটি আবার তাদের মাঝে ফিরে আসবেন। সিলেট ২ আসনের সাবেক সাংসদ ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি মানতে নারাজ অনেকেই। বাস্তব যতই নির্মম হউক তবুও যে সত্য তিনি নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে নেতাকর্মী,সমর্থক, শুভাকাংখিসহ সাধারন মানুষ মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। অনেকেই মসজিদ মন্দিরে করছেন বিশেষ প্রার্থনা। কেউ কেউ পীর ফকিরের বাড়ীতে ধরনা দিচ্ছেন। পীর ফকিরের উক্তি অনুযায়ী অনেকেই জোর গলায় বলছেন ইলিয়াস আলী বেঁচে আছেন। তিনি শীঘ্রই ফিরে আসবেন আমাদের মাঝে। অনেকেই ক্ষোভের সাথে বলেন, এমন একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ গুম হলেন অথচ এক বছর অতিবাহিত হতে চলছে কিন্তু আজও তাঁর কোন সন্ধান বের করতে পারছেনা সরকার। এই যদি হয় স্বাধীন দেশের অবস্থা তাহলে সাধারন নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায় দাড়াবে? ইলিয়াস আলীকে নিয়ে মানুষের মুখে মুখে নানা জল্পনা কল্পনা চলছে। ইলিয়াস আলী আবার জীবিত অবস্থায় ফিরে আসবেন এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর জন্মস্থান বিশ্বনাথবাসীর। নিখোঁজ ইলিয়াস আলীকে নিয়ে এখনও সবত্রই চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ইতি মধ্যে বিশ্বনাথে পরিদর্শন করে গেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষস্থায়ী নেতৃবৃন্দ। কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের একটাই দাবি ছিল ইলিয়াস আলী চাই। ইলিয়াস ছাড়া কোন নির্বাচনে বিশ্বনাথে হবে না। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে রাস্তায় নেমে আসেন এই উপজেলার নেতাকর্মীসহ সব শ্রেনী পেশার সাধারন মানুষ। জীবন বাজি রেখে বিক্ষোভ-মিছিল, সভা-সমাবেশ, অবরোধ, হরতাল কর্মসূচী পালন করে তারা। গত বছরের ২২ ও ২৩ এপ্রিল ২দিনের হরতাল আহবান করে কেন্দ্রিয় বিএনপি। হরতালের প্রথম দিন চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও বিক্ষিপ্ত সংর্ঘষ। ২৩ এপ্রিল বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল সহকারে উপজেলা সদরে আসতে থাকে নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষ। এসময় পুলিশ ও আওয়ামীলীগ বাধা দিলে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাঁধে। এতে তিনজন নিহত ও পুলিশসহ শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হন। সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, তাঁর গাড়ী চালক ও পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক ৬টি মামালা দায়ের করা হয়। মামলার বেড়া জালে বন্ধি হয়ে পড়ে উপজেলা বিএনপি। দীর্ঘ দুই মাস তারা মাঠ ছাড়া ছিল। কিন্তু পরবর্তিতে তারা ফের মাঠ দখলে নেন। ইলিয়াস আলী সন্ধান দাবিতে বিএনপি ও সহযোগি সংগঠন বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করে আসছে।