শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ধ্বংসস্তূপে আটকা ১৮০০ মানুষ!



xxx

ডেস্ক রিপোর্ট : সাভারের আটতলা ভবন ‘রানা প্লাজা’র ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এক হাজার ৮০০ মানুষ আটকে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভবনে কর্মরত এমন শ্রমিকরা। উদ্ধারকারী সদস্যরাও বলছেন, শ্রমিকদের দাবি অমূলক নয়।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঘটনার পর থেকে সরকারি ও বিজিএমইএ হিসাব অনুযায়ী ভবনটিতে ধসে পড়ার সময়ে দুই হাজার ৬০০ মানুষ কাজ করছিল। কিন্তু উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ার পর ৬০ ঘণ্টা পার হয়েছে। তাদের সেই দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ হওয়ার পর ভবনের পোশাক কারখানাগুলোতে কাজ করা শ্রমিকদের কথাই সত্যি হতে চলেছে।
কিন্তু সরকারি ও বিজিএমইএ’র হিসাবকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে ইতিমধ্যে আড়াই হাজার জীবিত ও ৩০০ জন মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধারকর্মীদের বর্ণনা অনুযায়ী ভবনের মূল অংশে এখনও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। উদ্ধার করা হয়েছে ভবনের চারদিক দিয়ে। এখান পরিসংখ্যানে বাইরে ধ্বংসস্তূপে আটকাপড়াদের সংখ্যা আরো অন্তত এক হাজার বেশি হলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। কেননা কাটছাঁট করে এ পরিসংখ্যান দাঁড় করানো হয়েছে।
ঘটনা দিন ধ্বংসস্তূপ থেকে বেঁচে আসা একাধিক পোশাক শ্রমিক জাস্ট নিউজকে জানিয়েছে, ভবনের তৃতীয় তলার পিছনের অংশ ও চার থেকে অষ্টম তলা পর্যন্ত ৫টি পোশাক কারখানা অবস্থিত। সেসব কারখানায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করতো। এর মধ্যে নিউওয়েব বটমস লি:-এ কাজ করতো আড়াই হাজারের বেশি। যার বেশির ভাগই কাজে যোগ দিয়েছিল।
ঘটনার দিন শ্রমিকরা জানিয়েছিলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে ৫০০ থেকে এক হাজার শ্রমিক বের হতে পেরেছিল। সেই হিসাবে ভিতরে আটকা পড়েছিল আনুমানিক প্রায় সাড়ে ৪ হাজারের বেশি শ্রমিক। যার মধ্যে জীবিত ও মৃত উদ্ধার করা হয়েছে দুই হাজার ৭০০ জনের মতো। পরিসংখ্যান বলছে, ৬০ ঘণ্টা পর এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়া অবস্থায় রয়েছে এক হাজার ৮০০ জনের মতো।
উদ্ধারকারী সেনাবাহিনী একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, ৫ তলা থেকে আজ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে মৃত ব্যক্তিদের লাশগুলো উদ্ধার করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জীবিতদের উদ্ধার করা হচ্ছে। ৪ ও ৩ তলার শ্রমিকরা ভবনের একেবারে ভিতরে গিয়ে আটকা পড়েছে। ৬০ ঘণ্টা পার হলেও সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
সেনাবাহিনীর এক উদ্ধারকর্মী জাস্ট নিউজকে জানিয়েছেন, ভবনের পিছনের দিকে সিঁড়িতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে অংসখ্য শ্রমিক মৃত অবস্থায় আটকা রয়েছে। যাদের কেউই হয়তো বেঁচে নেই। নারী-পুরুষের মৃতদেহগুলো পেঁচিয়ে ও জড়িয়ে রয়েছে। ভবনের ভিতরের অংশে উদ্ধার তৎপরতা চালানো সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
আটকাপড়াদের মধ্যে বহু জীবিত রয়েছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকর্মীরা। সেখানকার বাতাসে উৎকট গন্ধ এতোই বেশি যে, উদ্ধারকাজ চালানো দুরূহ হয়ে পড়ছে। উদ্ধারকর্মীরা নিজেদের জীবন সংকটের মুখে ফেলেই ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত ও মৃতদের বের করে আনছে।
ভবনের ভিতরের অংশে আটকাপড়াদের মধ্যে বেশির ভাগ শ্রমিক আর বেঁচে নেই বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেননা ৬০ ঘণ্টা পার হলেও সেসব জায়গায় উদ্ধার তৎপরতা চালানো সম্ভব হয়নি। ভবনের বাইরে অংশে আটকাপড়াদের পর্যায়ক্রমে উদ্ধার করা হলেও তাদের পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও অঙিজেন দিতে হয়েছে। কিন্তু ভিতরে এসবের কোনো কিছুই সরবরাহ করতে পারেনি উদ্ধারকারীরা।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ভবনটিতে ফাটল দেখা দিলে পুরো ভবনটি বন্ধ ঘোষণা করে মার্কেট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ভবন মালিক পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা এ ফাটলকে প্লাস্টার খসে পড়া বলে চালিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বুধবার নিউওয়েব বটমস লি: চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের হুমকি দিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনটির ১ ও ২ তলায় মার্কেট, ৩ তলার সামনের অংশে ব্র্যাক ব্যাংকের একটি শাখা এবং ৩ থেকে ৮ তলা পর্যন্ত মোট ৫টি গার্মেন্টস কারখানা ছিল। এ কারখানাগুলোতে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করতো।