বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জেল হত্যায় মারফত ও হাশেম মৃধার মৃত্যুদণ্ড



bnimg-209585-2012-11-04

ডেস্ক রিপোর্ট : কারাগারে জাতীয় চার নেতা হত্যার মামলায় হাই কোর্টের রায়ে বাদ পড়লেও আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকছে দফাদার মারফত আলী শাহ ও এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধার।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ মঙ্গলবার এই দুজনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আবেদন মঞ্জুর করে।
এর ফলে এই মামলায় পলাতক এই দুজনের বিষয়ে জজ আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল থাকছে।
রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত ১৭ এপ্রিল রায় ঘোষণার এ দিন রাখে আদালত।
যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি ষড়যন্ত্রকারীদেরও শাস্তি চায়। আপিল বিভাগ সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের আলোকে সম্পূর্ণ ন্যায় বিচার করতে এ ধরণের আদেশ দিতে পারে বলে যুক্তি দেখায় রাষ্ট্রপক্ষ।
অন্যদিকে আসামিপক্ষ দফাদার মারফত আলী শাহ ও হাসেম মৃধার (পলাতক) খালাসে হাই কোর্টের রায় বহাল চায়।
একইসঙ্গে ‘ষড়যন্ত্রকারীদের’ বিষয়টা আপিলে না থাকায় তাদের বিষয়ে আপিল বিভাগ আদেশ দিতে পারে না বলে যুক্তি দেয় আসামি পক্ষ।
এই আপিলে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এই মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেলের মর্যাদায় নিযুক্ত আইনজীবী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
অন্যদিকে আদালত নিযুক্ত আইনজীবী হিসাবে আসামিপক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি হাই কোর্টে এই মামলায় আসামিদের নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে।
ওই ঘটনায় মামলা দায়েরের ২৩ বছর পর ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।
২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান রায় দেন। রায়ে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ও এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
ওই রায়ে যাবজ্জীবন হয় ১২ সেনা কর্মকর্তার। দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ২জনকে খালাস দেয়া হয়। পরে হাই কোর্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দফাদার মারফত আলী শাহ ও এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে খালাস দেয়। খালাস দেয়া হয় চার যাবজ্জীবন প্রাপ্তকেও। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় এই চারজনেরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।