বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সাভারে ভবন ধসে এ পর্যন্ত মৃত ৪০২: অজ্ঞাতদের দাফন স্থগিত



Saver1

ডেস্ক রিপোর্ট : সাভারে রানাপ্লাজার ভবন ধসের ঘটনায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০২। উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে এসে আড়াই হাজারের বেশী নারী-পুরুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার রাত ১০.১৫ মিনিটের দিকে ভবনের নিচতলার মসজিদ থেকে তিন জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এদিকে অজ্ঞাত ৫০ জনের মৃতদেহ স্বজনদের সনাক্ত করার জন্য বুধবার সকাল দশটা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। যেসব ব্যক্তিরা এখনও তাদের নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ পায়নি, তারা এখানে এসে লাশ সনাক্ত করতে পারবেন।
রানাপ্লাজার ধ্বংস্তূপ সরানোর জন্য ২য় পর্যায়ের ভারী অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারীরা। সেমাবার রাত ১২ টার দিকে ভবনে জীবিত ব্যাক্তি রয়েছে এমন খবরে কিছু সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। পরে আর কোন জীবিত ব্যক্তি ভিতরে নেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আবার অভিযান কাজ শুরু করা হয়। ইতিমধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েক টন কংক্রিট সরানো হয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে সেনাকর্মকর্তা রিয়াজ আহমদ জাস্ট নিউজকে জানান, জীবিত মানুষের থাকতে পারে সে বিষয়টি লক্ষ্য করে সতর্কতার সাথে অভিযান চলছে। অভিযানের সুবিধার্তে বিভিন্ন দিক দিয়ে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কাজ চালানো হচ্ছে। যখন পিছনে যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে তখন সামনের দিকে এ যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছেনা নিরাপত্তার স্বার্থে।
এদিকে লাশ নিতে অথবা সন্ধান পেতে সোমবার রাতেও অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনেরা। ভবন থেকে লাশ পাওয়ামাত্র তা উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে অধরচন্দ্র স্কুলমাঠে ও সেখানে স্বজনরা লাশ শনাক্ত করতে না পারলে পরে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল ও মিডফোর্ট হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে জুড়াইন কবরস্থানে দাফন করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাভারের দূর্ঘটনাস্থলসহ স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়াদের দেখতে গিয়েছেন। খোঁজ নিয়েছেন উদ্ধার কাজের আহতদের চিকিৎসার।
এদিকে এ ঘটনায় রবিবার দুপুরে রানা প্লাজার মালিক ও যুবলীগ নেতা মো. সোহেল রানা যশোরের বেনাপোল থেকে দুই আশ্রয় দাতাসহ গ্রেফতার হয়। বর্তমানে রানা দুই মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ডে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
সোমবার দুপুরে মগবাজার থেকে রানার বাবা আব্দুল খালেক ওরফে কলু খালেককে গ্রেফতার ডিবি পুলিশ। এছাড়া রানার স্ত্রী মিতু, চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর, চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী, রানার প্লাজার পরিচালক ফুফা আনোয়ারও পুলিশের হাতে আটক হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। রানা প্লাজার ৫ গার্মেন্ট মালিকের ৪জনও গ্রেফতার হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার মধ্যরাতে রানার আশ্রয়দাতা ও ভারত পলায়নে পরিকল্পনাকারী আবুল হাসানকে রাজধানী থেকে গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ভবনটিতে ফাটল দেখা দিলে পুরো ভবনটি বন্ধ ঘোষণা করে মার্কেট কর্তৃপক্ষ। কিন্তুু ভবন মালিক পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নেতা মো. সোহেল রানার এ ফাটলকে প্লাস্টার খসে পড়া বলে চালিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বুধবার নিউ ওয়েব বটমস লি: চাকরী থেকে ছাটাইয়ের হুমকি দিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাভারের সেন্টার পয়েন্টে অবস্থিত সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে এ ভবনটি ধ্বসে পড়ে। ভবনটি বিকট শব্দে ধ্বসে পড়ার পর পরই স্থানীয়রা প্রথমে উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় জড়ো হওয়ায় ঢাকা-আরিচা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এখনও এ রোডে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা পুলিশ প্রশাসন।
রানা প্লাজায় ১ ও ২ তলায় মার্কেট, ৩ তলায় সামনে অংশে ব্রাক ব্যাংকের একটি শাখা এবং ৩ থেকে ৮তলা পর্যন্ত মোট ৫টি গার্মেন্টস রয়েছে। এ কারখানাগুলোতে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। ঘটনার সময়ে নিউ ওয়েব বটমস লি: এর প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন।