বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দেরিতে হলেও ‘কিছুটা’ ন্যায়বিচার: নাসিম



2011-11-17-08-03-57-4ec4bfed50fb2-md-nasin

ডেস্ক রিপোর্ট : কারাগারে জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায় হাই কোর্টের রায় বাদ পড়া দুজনকে ফাঁসির রায় আপিল বিভাগ বহাল রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মোহাম্মদ নাসিম।
তবে চূড়ান্ত রায়ে ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো শাস্তি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন ১৯৭৫ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার এম মনসুর আলীর এই ছেলে।
আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়েছে, ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে কোনো আপিল না করায় এই বিষয়ে কোনো আদেশ হয়নি।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার আপিল বিভাগ দফাদার মারফত আলী শাহ ও এল ডি দফাদার আবুল হাসেম মৃধাকে ফাঁসির দিয়ে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে।
পলাতক এই দুজনকে হাই কোর্ট মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতি দিলে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।
রায়ের সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর ছেলে নাসিমও আপিল বিভাগে ছিলেন।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বিলম্বিত হলেও কিছুটা ন্যায়বিচার হয়েছে।”
রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে চাইলেও ‘ষড়যন্ত্রকারীদের’ বিষয়টা আপিলে না থাকায় তাদের বিষয়ে আপিল বিভাগ আদেশ দিতে পারে না বলে যুক্তি দেয় আসামি পক্ষ।
মনসুর আলীর ছেলে নাসিম এজন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে আপিল করার ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের বিষয়টিতে গুরুত্ব না দেয়ার অভিযোগ তোলেন।
বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে জেল হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের।
এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি আনিসুল হক রায়ের পর সাংবাদিকদের বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে রায়ের পর্যবেক্ষণে এই বিষয়ে কিছু থাকবে বলে আশা করছেন তিনি।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজররুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে।
ওই ঘটনায় মামলা দায়েরের ২৩ বছর পর ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।
২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান রায় দেন। রায়ে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ও এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে হাই কোর্ট ২০০৮ সালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মারফত আলী ও হাশেম মৃধাকে অব্যাহতি দেয়। রায়ে মোসলেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়।
এই মামলায় নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দেয় হাই কোর্ট। স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে এদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।