বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সোর্স লাইনের সুবিধা না থাকায় মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং



image_341_64124

জালাল আহমদ : মৌলভীবাজারের সাত উপজেলায় সোর্স লাইনের সুবিধা না থাকায় জেলার প্রত্যেক উপজেলায় বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। কুলাউড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আওতাধীন কয়েক হাজার গ্রাহক গত দুই সপ্তাহের অধিক সময় ধরে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। কখনও কখনও দিনে-রাতে কমপক্ষে ৮/১০ বার লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গ্রাহকরা। বোরো ধান, মৌসুমী সবজি চাষী এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এক সপ্তাহ পূর্বে কালবৈশাখী ঝড়ে বিধ্বসত্ম বিদ্যুতের লাইন ও খুঁটি এখনও বিভিন্ন এলাকায় মেরামত হয়নি। ফলে ওইসব এলাকার গ্রাহকরা এখনও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। 
গ্রাহকদের অভিযোগ, জাতীয় গ্রিড থেকে কম বিদ্যুৎ পাওয়ার কারণ ছাড়াও অযথা মেরামতের অজুহাতে সাট-ডাউন দিয়েও লোডশেডিং বলে প্রচার করেন এ অফিসে কর্মরত কর্মকতা ও কর্মচারীরা।
গ্রাহকরা জানান, বছরে বিদ্যুতের লাইন, খুঁটি, তার ও ট্রান্সফরমার মেইনটেনেন্স বাবদ বরাদ্দর পুরোটাই কাজে লাগানো হয় না। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মেইনটেনেন্স কাজ শুষ্ক মৌসুমে না করে বর্ষা মৌসুমে করেন যাতে করে গ্রাহকদের সামনে অযতা বিদ্যুৎহীনতার অজুহাত দাঁড় করাতে পারেন।
অভিযোগ রয়েছে, লোডশেডিংয়ের কারণে বা যে কোন জরম্নরী প্রয়োজনে অফিসের টেলিফোনে বা একেক এলাকার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের সেল ফোনে যোগাযোগ করলে তারা তা রিসিভই করেন না। এ নিয়ে প্রায়ই গ্রাহকদের সাথে তাদের বাক-বিত-া হওয়ার ঘটনাও ঘটছে অহরহ। প্রতিনিয়তই লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা- বাণিজ্যে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। তাছাড়া এতদঞ্চলের চা ও রাবার বাগানের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণও ব্যাহত হচ্ছে।
শহরের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী শাহীন আহমদ ড়্গোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা (বিদ্যুৎ কর্মকর্তাবৃন্দ) যেন সরকারকে প্রতিনিয়ত অপ্রিয় করে তোলার জন্য একটি বিশেষ মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন। ফলে জনমনে এ নিয়ে ব্যাপক অসন্তেুাষ সত্ত্বেও তাদের মধ্যে কোন বিকার নেই। অথচ এই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশী কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। দেশে ইতোমধ্যে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের উপরে বিদ্যুৎ সম্পৃক্ত হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুলাউড়া বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মচারী জানান, শ্রীমঙ্গল পলস্নী বিদ্যুতের কিছু কর্মকর্তার ষড়যন্ত্র আর তাদের সাথে কুলাউড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের গোপন আঁতাতের ফলে সোর্স লাইনের সুবিধা থেকে কুলাউড়ার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা বঞ্চিত। অথচ কুলাউড়া সরবরাহ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ থেকে বড়লেখায় পলস্নী বিদ্যুৎ সুবিধা নিচ্ছে কিন্তু শ্রীমঙ্গল পলস্নী বিদ্যুতের কারণে কুলাউড়ার গ্রাহকরা সোর্স লাইনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
কুলাউড়া বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাগত সরকার গ্রাহকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়াতে লোডশেডিং করা হচ্ছে। তাছাড়া মেইনটেনেন্স কাজের কারণে কোন কোন এলাকায় অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকেনা। তিনি সোর্স লাইন সম্পর্কে কোন মনত্মব্য করতে রাজি হননি।