বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ব্যবস্থা নেয়ার কথা ‘ভাবছে’ ইইউ



1340201868

ডেস্ক রিপোর্ট : পোশাক কারখানাগুলোতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা’ নেয়ার কথা ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
মঙ্গলবার ইইউর এক বিবৃতিতে ভবন ধসে হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে বলা হয়, তাদের পদক্ষেপের মধ্যে জিএসপি সুবিধার বিষয়টিও আসতে পারে।
এই সুবিধার আওতায় ইউরোপের বাজারে কিছু বাণিজ্য সুবিধা পায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক। প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্পে ৩৬ লাখের বেশি শ্রমিক জড়িত, যাদের অধিকাংশই নারী।
বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও এ খাতের বহু শ্রমিকের আয় মাসে তিন হাজার টাকার বেশি নয়।
গত ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে চারশ ছাড়িয়ে গেছে। নয় তলা ওই ভবনের বিভিন্ন তলায় পাঁচটি পোশাক কারখানায় ধসের সময়ও তিন হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
বাংলাদেশে কারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগের’ কথা জানিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টোন ও বাণিজ্য কমিশনার ক্যারেল ডে গুচ এই যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “ইইউ এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছে। জিএসপি সুবিধার বিষয়টিও এর মধ্যে রয়েছে। যদিও বর্তমানে জিএসপির আওতায় বাংলাদেশের পণ্য ইউরোপের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পায়।”
উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে পোশাক কেনার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর ‘দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা’ নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
অ্যাস্টোন ও ডে গুচ বলেন, ‘ভয়াবহ’ এ প্রাণহানির ঘটনায় তারা গভীরভাবে শোকাহত।
গত নভেম্বরে আশুলিয়ায় তাজরিন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন নিহতের কথাও তুলে ধরেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, “এই বিপর্যয়ের মাত্রা এবং ওই ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।”
ভবন ধসে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের প্রাণহানির পর বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাবে বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।
পশ্চিমের ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে কম দামে পোশাক কিনলেও এ দেশের কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে তাদের ‘অবহেলার’ বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ দিতে বাংলাদেশি পোশাক বর্জনেরও হুমকি দেয়া হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে।
বাংলাদেশে এই বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে সোমবার জরুরি বৈঠক করে কানাডার খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন রিটেইল কাউন্সিল অব কানাডা, যারা দেশটিতে ৪৩ হাজারের বেশি ‘স্টোর’ পরিচালনা করে।
সংগঠনটি বলেছে, পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করবে তারা।
এদিকে কারখানার নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে করণীয় সম্পর্কে আলোচনার জন্য সোমবার ঢাকায় বিজিএমইএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ৪৫টির বেশি বিদেশি পোশাক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এ ব্যাপারে একটি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে যৌথ প্যানেল গঠনে সম্মত হন তারা।
পশ্চিমা দুটি রিটেইল চেইনও সাভারে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রাইমার্ক ও কানাডার লবলস ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে।