শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স : চার বছরেও বেতন-ভাতা পাননি ৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা



মোহাম্মদ আলী শিপন, বিশ্বনাথ : সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের ৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী চার বছর চার মাস পেরিয়ে গেলেও ‘২০০৮ সালের জানুয়ারী মাসের’ বেতন-ভাতা এখনও পাননি। ভবিষ্যতে কখনও তারা তাদের বেতন-ভাতার ওই টাকাগুলো পাবেন কিনা তাও জানেন না কেউই। বেতন-ভাতার ওই টাকা পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে নিন্মবেতনের (৩য় ও ৪র্থ শ্রেণী) কর্মচারীদের দুঃচিন্তার অন্ত নেই।
বেতন-ভাতা না পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে কমপেক্সের তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দীনেশ সূত্রধর, আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডাঃ মাহমুদুল হাসান রাহাত ও তাঁর স্ত্রী মেডিকেল অফিসার ডাঃ রোকসানা রাব্বানী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) অজুন চন্দ্র দাস, সিনিয়র স্টাপ নার্স লক্ষী পৌদ্দার, বর্তমান উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ভবিষ্যতে আর কখনও ওই বেতন-ভাতাগুলো পাবকিনা জানিনা।
কমপেক্স সূত্রে জানাগেছে, ২০০৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী ‘সিকিউরিটি (পুলিশ) ছাড়া ও সরকারি এ্যাম্বুলেন্স’র পরিবর্তে মোটর সাইকেল যোগে উপজেলা সড়রস্থ সোনালী ব্যাংকের শাখা থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার প্রায় ৬,২০,০৬৩ (ছয় লক্ষ বিশ হাজার তেষট্টি) টাকা উত্তোলন করে স্বাস্থ্য কমপেক্সে ফেরার পথে উপজেলার নকিখালী নামকস্থানে ছিনতাইয়ের স্বীকার হন স্বাস্থ্য কমপেক্সের প্রধান সহকারী ও হিসাবরক্ষক আব্দুল জলিল এবং পরিসংখ্যানবিদ ফণিভূষন সরকার। এঘটনায় ওই দিনই তাদের দু’জনকে অভিযুক্ত করে কমপেক্সের তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দীনেশ সূত্রধর বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৪ (২) ০৮ইং।
মামলা দায়েরের সাথে সাথে পুলিশ জলিল-ফনিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। দুই মাস কারাবরণের পর তারা বেরিয়ে আসেন। এরপর বিভিন্ন তদন্তে জলিল-ফণি নির্দোষ প্রমাণিত হলে চাকুরিতে পুনঃবহাল হন।
কমপেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, ১৯৯১ সালে কমপেক্সের সহকারী পদে আব্দুল জলিল ও পরিসংখ্যানবিদ পদে ফণিভূষন সরকার যোগদান করেন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত একটানা একই কর্মস্থলে চাকুরী করার কারণে তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি অন্য সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর চেয়ে বেশি। টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি সাজানো বলে অনেকের অভিযোগ রয়েছে। তবে উপর মহলের কর্মকর্তাদের সাথে ভাল সম্পর্ক থাকার কারণে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তদন্ত কাজ কোন সময়ই বেশি দূর এগিয়ে যায়নি। সব সময়ই তদন্তের ফাইলগুলো তদন্ত কর্মকর্তাদের অন্যান্য ফাইলের নিচে চাপা পড়ে থাকে। এজন্য আজও বেরিয়ে আসেনি সেদিন কারা ছিনতাই করে ছিল, ছিনতাইকারী তাদেরকে কোন প্রকার আঘাত করা ছাড়া কিভাবে টাকা ছিনতাই করল, ছিনতাইকারীদের সাথে ফণি-জলিলের সম্পর্ক ছিল কিনা। সঠিক তদন্ত হলে ৪ফ্রেবুয়ারী-০৮ সংঘঠিত ছিনতাইয়ের আসল রহস্য বেরিয়ে আসত বলে মনে করছেন ক্ষতিগ্রস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দীনেশ সূত্রধর বলেন, কমপেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সরকারি এ্যাম্বুলেন্সে সিকিউরিটিসহ ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে নেওয়ার বিধান রয়েছে। তারা (জলিল-ফণি) তা না মেনে টাকা নেওয়া ও ছিনতাই হওয়ার জন্য তাদেরকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়ে ছিলো।
ছিনতাইয়ের ঘটনার পর প্রধান হিসাবরক্ষক কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়ে ছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর পুনঃরায় সেই বেতন-ভাতার টাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রদান করার জন্য বর্তমানে তা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আশাকরি শীঘ্রই তা অনুমোদন হয়ে যাবে। অনুমোদনের পর প্রাপ্ত টাকা সকলকে প্রদান করা হবে বলে জানান কমপেক্সের প্রধান সহকারী ও হিসাবরক্ষক আব্দুল জলিল।
জেলা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডাঃ কামরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানানেই। তবে খোঁজখবর নিয়ে কার্যক্রর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।