বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

গণহত্যা’র প্রতিবাদে ইতালির রোমে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিক্ষোভ



protibad rome

নাজমুল হোসেন, মিলান থেকে : বাংলাদেশের সম্প্রতি সংগঠিত ‘গণহত্যা’র প্রতিবাদে এবং বর্তমান সরকারের মানবাধিকার লংঘনের প্রতিবাদে বিশ্বজনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতালীর রাজধানী রোমের ইতালী পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সামনে ১০ মে বিকেলে এক প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ দলীয় ঐক্যজোট, ইতালী বিএনপি এবং এর অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়্ওা ধুমকেতু, ইতাল-বাংলা, গ্লোবাল ফাউন্ডেশন ফর হিউম্যান রাইটস এবং ইতালী ওলামা ফাউন্ডেশন এই সমাবেশের আয়োজন করে। রোমের অলিম্পিক ষ্টেডিয়াম সংল্গন্ন এই আয়োজনে প্রবাসীরা বেশ কয়েকটি বাস এবং অসংখ্য গাড়ী নিয়ে জুমার নামাজ এর পর পরই সমাবেশ স্থলে আসতে শুরু করেন। শত শত প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিক্ষোভে পুরো এলাকা ছিল কানায় কানায় পূর্ন। এসময় পাচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইতালীর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট দুটি স্মারকলিপি পেশ করেন। ইতালী বিএনপি এবং ইতালী প্রবাসী কমিউনিটির ব্যানারে ইতালীয়ান ভাষায় ইতালী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশের চলমান সহিসংতা এবং গনহত্যার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে এবিষয়ে কুটনৈতিক উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানানো হয়। ইতালীর পররাস্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে স্বারক লিপি গ্রহন করেন এশিয়া ও বাংলাদেশ ডেস্ক এর দায়িত্বে নিয়োজত পরিচালক আন্দ্রেয়া পেরুজিনি। তিনি বলেন আমরা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সকল বিষয়ে অবহিত আছি এবং ইতালীয়ান সরকার বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতে উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের আশ্বাষ দেন তিনি।
উল্লেখ্য গত ৫ই মে ঢাকায় মহানবী(সা.) এর বিরুদ্ধে কটাক্ষ তথা হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা বাস্তবায়নে দাবীতে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে অবস্থান গ্রহনের সিদ্ধান্তের পরে রাত আড়াইটায় লাখ লাখ ঘুমন্ত ধর্মপ্রান মুসলমান নাগরিকের উপর পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি দশ হাজার সদস্য একযোগে সাড়াশি অভিযানের মাধ্যমে মতিঝিলের শাপলা চত্তর খালি করে। দেশের নিরস্ত্র ধর্মপ্রান জনগনের উপর নির্দয় হামলা, অমানবিক গনহত্যা, আহতদের চোখের সামনে মৃত্য অবলোকন করার মত অমানবিক হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত সৃষ্টির জন্য রোমের প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে গনহত্যা বন্ধ কর, অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গান কর সহ বিভিন্ন সরকার বিরোধী শ্লোগান দেয়া হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে বিভিন্ন ফেষ্টুন এবং প্লাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে ইতালী বিএনপির সাধারন সম্পাদক আশরাফুল আলম, বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি ধুমকেতুর কর্নধার নুরে আলম সিদ্দিকী বাচ্চু, ইতাল বাংলার সভাপতি তাইফুর রহমান ছোটন, গ্লোবাল ফাউন্ডেশন ফর হিউম্যান রাইটস এর সভাপতি নঈমুল ইসলাম, ইতালী ওলামা ফাউন্ডেশন এর সভাপতি ম্ওালানা মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ মসজিদের ঈমাম- আলেমগন ছাড়াও ইতালী বিএনপির বিভিন্ন অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন- রাতের আধারে নিরস্ত্র আলেমদের উপর আওয়ামী সরকার যে গনহত্যা চালিয়েছে, তা বাংলার ইতিহাসে একটি বর্বরোচিত হত্যাকান্ড। দেশের মিডিয়াকে দূরে রেখে, বিদ্যুৎ এর সংযোগ বন্ধ করে যে আলেমদের উপর যে হত্যাকান্ড চালিয়েছে তা সমগ্র জাতি ঘৃনাভরে স্মরন করবে। আজ বাংলাদেশে একটি মানুষেরও জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই। মিডিয়ার স্বাধীনতা হরন করা হচ্ছে। সরকার আজ একের পর এক মিডিয়া বন্ধ করে বাকস্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করছে। গনতন্ত্রের আড়ালে একনায়কতন্ত্র কায়েম করা হচ্ছে।
বক্তারা আরো বলেন, এই সরকার বিডিআর হত্যা কান্ডের মাধ্যমে আমাদের সেনাবাহিনীর বড় অফিসারদের হত্যা করেছে। সাংবাদিকদের হত্যা করেছে, মাহমুদুর রহমানের মতো একজন সাহসী সম্পাদককে কারাগারের নিক্ষেপ করেছে। দিগন্ত টিভি এবং ইসলামিক টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দিয়ে মিডিয়ার বাকরুদ্ধ করেছে এই আ্ওয়ামী সরকার। এই ফ্যাসিবাদী সরকার তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য সরকারের পৃষ্টপোষকতায় দিনের পর দিন গনজাগরন মঞ্চে নামে নাটক তৈরী করেছে। তাজনীন ফ্যাশন, রানা টাওয়ার এর মতো ঘটনা ঘটিয়ে বাংলাদেশকে ভারতের পোষাক শিল্পের বাজার বানাতে চায় এই বাকশালী সরকার।
সমাবেশে ইতালীর প্রবাসী নেতৃবৃন্দ বলেন একাত্তরের গনহত্যার যেমন আন্তর্জাতিক মানদন্ডে সুষ্ঠ ও ন্যায় বিচার করতে হবে তেমনি সামপ্রতিক কালে সরকারের পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সরকারের পেটোয়া বাহিনী ছাত্রলীগ, যুবলীগ এর দ্বারা সংগঠিত সকল হত্যার বিচার করতে হবে। সরকার গনহত্যার মত অনৈতিক মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িয়ে গেছে। এই সরকারের কাছে বাংলাদেশের জনগন নিরাপদ নয়। সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশের নাগরিকদের নির্বিচারে গনহত্যার মত যে মানবতা বিরোধী অপরাধ সরকার করেছে জাতি সকল হত্যার বিচার চায়। আজকে সারা বিশ্ব বাংলাদেশের সরকারের কর্মকান্ডে হতবাক। আন্তর্জাতিক মিডিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গনহত্যার দায়ে লেডি হিটলার উপধি দিয়েছে। দেশের নাগরিকেদের হত্যাকারী সরকারের দেশ পরিচারলনার নৈতিক কোন অধিকার নেই। প্রবাসী বাংলাদেশীরা শেখ হাসিনার এই গনহত্যাকারী সরকারকে সাদ্দাম ও গাদ্দাফীর মত উৎখাত করে আন্তর্জাতিক মানবতা বিরোধী অপরাধ আদালতে বিচার করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান।