শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সমাবেশের অনুমতি: ব্যাখ্যা দিল সরকার



Mohiuddin-Khan-Alamgir

দুই মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে একমাস সভা-সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ব্যাখ্যায় বলেছে, এটি ‘নিষেধাজ্ঞা’ নয়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো এই ব্যাখ্যায় বলা হয়, কোনো দলের কর্মসূচিতে জানমালের ক্ষতি বা নাশকতার আশঙ্কা থাকলে তাদের সমাবেশ করার অনুমতি দেবে না সরকার। তবে ‘সাধারণ’ সভা-সমাবেশে সরকারের আপত্তি নেই।
“এটা কোনো নিষেধাজ্ঞা নয় বরং জনগণের জানমাল রক্ষার্থে পূর্বসতর্কীকরণ ব্যবস্থা।”
রোববার চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় নতুন গঠিত জোরারগঞ্জ থানার উদ্বোধন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, “যারা সমাবেশের অনুমতি নিয়ে সমাবেশকে দুর্বৃত্তদের হাতে তুলে দেয়, জনসাধারণের ওপর অত্যাচার করে, সভা-সমাবেশের নামে গাড়ি ভাংচুর করে, দোকানপাটে আগুন দেয়- তাদের বা কোনো দলকে একমাস সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।”
এর কয়েক ঘণ্টা পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবেও একই ধরনের কথা বলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
সভা-সমাবেশের ওপর একমাসের ‘নিষেধাজ্ঞা’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এক সংবাদ সম্মেলনে আশরাফ বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। মহাসেনের প্রভাবে মৃত্যুর হার বেশি না হলেও সেখানে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি প্রয়োজন। এজন্যই একমাস সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
“এটি কেবল বিরোধী দল নয়, সরকারি দলসহ সবার জন্যই প্রযোজ্য হবে।”
তাদের ওই বক্তব্যের পর রোববার বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১৪ দলের পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ স্থগিত করা হয়।
বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে দুপুরে মোহাম্মদপুরে জড়ো হলেও বেলা সাড়ে ৩টার কিছু পরে সমাবেস্থলের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী এক মাস ঢাকা মহানগরীতে মিছিল ও সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় এ সমাবেশটি স্থগিত করা হলো।”
রাতে গণজাগরণ মঞ্চ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘নিষেধাজ্ঞার’ বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার মংমনসিংহে তাদের সমাবেশও স্থগিত করা হয়েছে।
এরইমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিবিসিকে বলেন, সংবিধানে যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে সভাসমাবেশের অধিকার দেয়া আছে। এর অর্থ হলো, সমাবেশ যারা করবেন তারা জনগণের সম্পত্তি নষ্ট করবেন না, গাড়ি-বাস-ট্রেনে আগুন দেবেন না, কোরআন পোড়াবেন না।
“যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত না হচ্ছি যে সমাবেশের নাম করে দুর্বৃত্তরা ওই ধরনের কাজগুলো করবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত এই যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধের আওতায় আমরা সভাসমাবেশের অনুমতি না দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বলেছি এটা হবে অনির্দিষ্টকালের জন্য।”
দুই মন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।
সভা সমাবেশের অনুমতি না দেয়াকে ‘অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী আচরণ’ আখ্যায়িত করে ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ।
আর মহাজোট সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এই ‘নিষেধাজ্ঞাকে’ উল্লেখ করেন ‘অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত’ হিসাবে।
এরপর মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের প্রয়োজনীয় স্পষ্টীকরনের লক্ষ্যে জানানো যাচ্ছে যে, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতিতে যদি কোনো রাজনৈতিক দল এমন কোনো কর্মসূচি দেয় যাতে, জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি, নিরাপত্তাহীনতা কিংবা নাশকতার আশঙ্কা থাকে বা সেরূপ লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় তবে দেশের আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার স্বার্থে সেসব দলের সভা-সমাবেশের কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেবে না সরকার।”
এ ব্যাপারে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই বলেও মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়।