শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে ইমরান খানের দলের নেত্রী খুন



d

পাকিস্তানে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে ইমরান খানের রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেত্রী জারা শহীদ হুসেন (৬০) নিহত হয়েছেন। তিনি পিটিআই’র জে্যষ্ঠ সহসভাপতি ছিলেন।
শনিবার বন্দরনগরী করাচিতে নিজ বাড়ির সামনে তাকে গুলি করার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
কারা তাকে হত্যা করেছে তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, করাচির অভিজাত সেনাআবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে মোটরসাইকেল আরোহী দুজন বন্দুকধারী তাকে গুলি করে।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনানুযায়ী, বন্দুকধারীরা মোটরসাইকেলে করে এসে জারা হুসেনের ব্যাগ ধরে টানাটানি করলে তিনি ব্যাগ ছেড়ে দেন, কিন্তু এরপরই তার মাথা লক্ষ্য করে গুলি করে তারা।
হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যকে আড়াল করে ঘটনাটিকে ডাকাতির ঘটনায় হঠাৎ ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখানোর জন্যই এমনটি করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এ হত্যাকাণ্ডের জন্য করাচিভিত্তিক মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) এর প্রধান আলতাফ হুসেনকে সরাসরি দায়ি করেছেন পিটিআই প্রধান সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান।
হত্যাকাণ্ডের পর এক বিবৃতিতে ইমরান বলেন, “জারা হুসেনের এ হত্যাকাণ্ডে দলের সব পর্যায়ে শোক ছড়িয়ে পড়েছে।”
ট্যুইটারে দেওয়া ওই বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, “এই খুনের জন্য আমি এমকিউএম নেতা আলতাফ হুসেনকে সরাসরি দায়ি করছি, কারণ তিনি গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে পিটিআই’র নেতা ও কর্মীদের হুমকি দিয়েছিলেন।”
“আমি ব্রিটিশ সরকারকেও ঘটনার জন্য দায়ি করছি, কারণ ব্রিটিশ নাগরিক আলতাফ হুসেনের প্রকাশ্য হুমকির পর আমি তাদের সতর্ক করেছিলাম।”
এমকিউএম দলের পক্ষ থেকে তাদের ব্রিটেন প্রবাসী নেতার বিরুদ্ধে করা এ অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দলটি ইমরানের করা অভিযোগকে “অবিবেচনাপ্রসূত” বলে উল্লেখ করেছে।
পাকিস্তানের প্রেসিন্ট আসিফ আলী জারদারি এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
গত ১১ মে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে করাচির একটি স্থগিত আসনের পুনর্নির্বাচনের আগে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো। ওই আসনে করাচির প্রভাবশালী দল এমকিউএম ও পিটিআইয়ের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভবনা আছে।
পাকিস্তানের এবারের সাধারণ নির্বাচন দেশটির ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ইতিহাস সৃষ্টিকারী এ নির্বাচনে জয়ী হয়ে মুসলিম লীগ- নেওয়াজ (পিএমএল-এন) পাকিস্তানের পরবর্তী সরকার গঠনের পথে আছে।