রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরের হতাশ কৃষকেরা!



2011-11-14-18-55-02-079054700-untitled-8

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে হাওরগুলোতে ধান তোলা প্রায় শেষ হয়েছে। কৃষকের কষ্টার্জিত সোনালী এ ফসল অকাল বন্যাসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছাড়াই কৃষকরা এবার নির্বিঘ্নে গোলায় ধান তুলেছেন। কিন্তু উৎপাদিত কষ্টের এ ফসলের এখনও সরকারীভাবে নায্যমূল্য নির্ধারন না করায় চাষাবাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। কৃষকরা জানান, সরকারিভাবে এখনও ধান কেনা শুরু না হওয়ায় কৃষকদেরকে আড়তদারদের নিকট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। উপজেলার নলুয়া, মইয়া, পিংলা, মমিনপুর হাওরের কৃষকদের সাথে আলাপ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার উপজেলার ২১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে,৭০ হাজার মেট্রিক টন। ফলন ভালো হওয়ায় ্৮১ হাজার মেট্রিক টন ধান গোলায় তুলেন কৃষক। উপজেলার মমিনপুর হাওরের কৃষক মতিউর রহমান বলেন, এবার সাত হাল জমি চাষ করে ধান পেয়েছি এক হাজার মন। কিন্তু বর্তমানে হাওরে ধান বিক্রি হচ্ছে চারশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা দরে। কৃষিখাতের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। তাই এ হিসেবে আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলাতে পারছি না। নলুয়ার হাওরের কৃষক বর্গাচাষী অনিল দেবনাথ বলেন, আট কেদার জমি বর্গা এনে চাষাবাদ করেছি। ধার দেনা করে বোরো আবাদের খরচ জোগেয়েছিলাম। জমির মালিক ও পাওনাদারকে ধান দিয়ে খুব একটা লাভ হয়নি। কারণ চারশ টাকা দরে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। উপজেলার মইয়ার হাওরের কৃষক ভবানীপুর গ্রামের রফিকুল আলম বলেন, সরকারি ভাবে এখনও ধান কেনা শুরু না হওয়ায় আড়তদারদের নিকট সাড়ে চারশ টাকা দরে ধান বিক্রি করেছি। তিনি জানান, আড়তদাররা হাওর থেকে চারশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা দরে ধান ক্রয় করে মজুদ করছেন। পরে ওই ধান তারা বেশী দরে গুদামে বিক্রি করবেন। জগন্নাথপুর বাজারের ধানের আড়তদার ছালিক মিয়া বলেন, শুকনো ভালো ধান সাড়ে চারশ থেকে পাঁচ শ টাকা মন দরে এবং কাচা ধান চারশ টাকা দরে আমরা ক্রয় করছি। জগন্নাথপুর উপজেলা হাওর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সার,বীজ ও সেচ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কেদার প্রতি কৃষকের খরচ হয়েছে সাত থেকে আট হাজার টাকা। কেদার প্রতি ধান হয়েছে ১৫ থেকে ২০ মন। এসব হিসাবে ধান চাষে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন না। কৃষক বাঁচাতে হলে কমপক্ষে ধানের মন আটশত টাকা নির্ধারণ করা দরকার। জগন্নাথপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এলএসডি) আব্দুল গফুর বলেন, সরকারি ভাবে সাড়ে ১৮ টাকা কেজি দরে ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এখনও ধান কেনা শুরু হয়নি।