শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র



k

ডেস্ক রিপোর্ট : সন্ত্রাস দমনে শেখ হাসিনা সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এর ফলে বাংলাদেশের মাটিতে কাজ চালানো সন্ত্রাসীদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
বৈশ্বিক সন্ত্রাস নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়।
প্রতিবেদনে বিগত সরকার আমলে সন্ত্রাসের হুমকি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তা থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করা হয়েছে।
সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বৈশ্বিক সন্ত্রাস নিয়ে প্রতিবছরই প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। এতে বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি ও পদক্ষেপ এবং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের ওপর আলোকপাত করা হয়।
এবারের প্রতিবেদনে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় বাংলাদেশের একটি সংগঠনের নাম রয়েছে, তা হলো হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী-হুজি।
এই সংগঠনটি বর্তমানে নিষিদ্ধ এবং এর প্রধান নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। শেখ হাসিনার সমাবেশে ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন মামলায় তার বিচার চলছে।
২০১২ সালের পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি করা এই প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতারা কারাগারে থাকলেও গোপনে হুজির সদস্য সংগ্রহ চলছে এবং এই ক্ষেত্রে নারী অন্তর্ভুক্তিকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস মোকাবেলায় অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার এবং তাদের পদক্ষেপে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বাংলাদেশে ঘাঁটি গেঁড়ে তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই বলে আসছেন, বাংলাদেশের মাটি সন্ত্রাসীদের কোনোভাবেই ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।
বাংলাদেশের ফৌজদারি আইন ব্যবস্থা সন্ত্রাস মোকাবেলায় কার্যকর থাকলেও সাধারণভাবে বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতির উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।
উগ্রপন্থার বিস্তার রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাজেরও প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরিতে ইমামদের কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে এতে।
সেই সঙ্গে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টা উগ্র ধর্মীয় নেতাদের ওপর এক ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।
সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে কার্যকর কৌশল হিসেবে এই সংক্রান্ত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট গঠন সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকারের কাজ গতিশীল করেছে।
অর্থ পাচার ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথাও এতে উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, বিগত দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কারণে সন্ত্রাসের হুমকির ঝুঁকি থাকলেও বর্তমান সরকার হেঁটেছে বিপরীত পথে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতি আঞ্চলিক শক্তিশালী দেশগুলো বিশেষ করে ভারত দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত।
সন্ত্রাস মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার নীতি নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয়তার কথাও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।
এতে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় জাতিসংঘ প্রণীত কৌশল অনুসরণ করে সার্কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ফোরামের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশে বেসামরিক ও সামরিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের জল, স্থল ও আকাশ সীমান্ত সুরক্ষিত করতে দুই দেশের সহযোগিতার বন্ধন আরো দৃঢ় হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় এতে।
যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস দমন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কথাও বলা হয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনে।