বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সাকা-মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড: সরকার ও আসামিপক্ষের প্রতিক্রিয়া



saka

নিউজ ডেস্ক :: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
রায়ের পর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, তাদের যে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, তাতে সাক্ষী প্রমাণ সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে প্রশ্ন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে এখন আমরা আল্লাহর দরবারে বিচার চাইব।
খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব হলো আসামিকে আইনি সাহায্য করা। আমরা আইনি লড়াই করেছি। লড়াইয়ে হেরে গেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা রিভিউতে বলেছি, যেসব অপরাধে দু জন আসামিকে সাজা দেয়া হয়েছে, তা বৈধ ছিল না।’

তিনি বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী একাত্তর সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন। তিনি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত সনদ আদালতে দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান এই বিচারের বিপক্ষে- এই যুক্তিতে ওই সনদ গ্রহণ করা হয়নি।

মুজাহিদের বিষয়ে খন্দকার মাহবুব বলেন, মুজাহিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকায় ট্রাইব্যুনাল এবং আপিল বিভাগের রায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে রিভিউতে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আদালত তা নাকচ করে দেন।

আসামিরা প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, প্রাণভিক্ষা চাইবে কি চাইবে না, এটা আসামির বিষয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি যাওয়ার পর তাঁরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি জানান, আবেদন না করলেও রাষ্ট্রপতি চাইলে দণ্ড মওকুফ করতে পারেন।

রায় কার্যকর সরকারের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার চাইলে রায় কার্যকর করতেও পারে, নাও করতে পারে। সরকার চাইলে দণ্ড মওকুফ করে দিতে পারে।

এদিকে, রিভিউ খারিজ হওয়ায় আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দণ্ড কার্যকরে আর কোনা আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‍”আজকে রিভিউ পিটিশন খারিজ হওয়ার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার পরিসমাপ্তি ঘটল। ফাঁসি কার্যকর করার ব্যপারে আর কোনো আইনি বাধা নেই। এখন সরকারি সিদ্ধান্তে এবং তারা যদি কোনো ক্ষমা ভিক্ষা চান সেই কথা আলাদা।”

শর্ট অর্ডার লাগবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি আদালতে শর্ট অর্ডার চেয়েছিলাম। তারা বলেছেন, যেহেতু মামলা খারিজ হয়ে গেছে তাই শর্ট অর্ডারের কোনো প্রয়োজন নেই। কোনো রকম স্থগিতাদেশ নেই। কাজেই কোনো রকম শর্ট অর্ডারেরও প্রয়োজন নেই।”

কতদিনের মধ্যে কার্যকর করতে হবে- জানতে চাইলে সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, “এই আইনে নির্দিষ্ট করে কোনো সময় দেয়া নেই। তাদেরকে হয়তো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই প্রক্রিয়াটির কোনো সময়সীমা নেই।”

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাগজ জমা দেয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ঘটনার সময় বাংলাদেশে ছিলেন না মর্মে এর আগেও কাগজ জমা দেয়া হয়েছিল। ওই তারিখেই আদালত এসব দরখাস্ত খারিজ করে দিয়েছিলেন। এবার পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির একটি ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে। আদালত এটাকে গোচরে আনেননি। আমরাও বলেছি, এই কথিত সার্টিফিকেট গ্রহণ করা যাবে না। কারণ, এই কথিত সার্টিফিকেট ২০১২ সালে ইস্যু করা।”

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, “সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার পাকিস্তানে অবস্থানের বিষয়ে ২০১৩ সালের জুলাইতে নিজেই আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি এসব কিছু উল্লেখ করেননি। সুতরাং এই সার্টিফিকেট শেষ মুহূর্তে বিবেচনায় আনার প্রয়োজন আছে বলে আদালত মনে করেনি। আমরাও একই রকম বক্তব্য দিয়েছি। তারচেয়ে বড় কথা হচ্ছে কোনো বিদেশি কাগজ সেই দেশের নোটারি পাবলিকেশন্সের সামনে অথেনটিকেট করতে হয়। ওটা সাইন করেন সেখানে আমাদের দেশের অ্যাম্বাসেডর, হাইকমিশনার অথবা অন্য কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। পাকিস্তানে আমাদের হাইকমিশনার সেখানে স্বাক্ষর করেননি। সুতরাং এটাকে কাউন্টার সাইন করার প্রশ্ন আসে না। আইনি প্রক্রিয়ায় এটা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, “আজকের কথিত সার্টিফিকেটে লেখা ছিল সেশন- ১৯৭১, এর আগে একজন কথিত অধ্যাপকের একটি সার্টিফিকেইট দেয়া হয়েছিল। তাতে লেখা ছিল সেশন ১৯৭০-৭১।”

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বুধবার এক মিনিটের ব্যবধানে দুই রিভিউ আবেদনের রায় ঘোষণা করে। দুই ক্ষেত্রেই প্রধান বিচারপতি শুধু বলেন, “ডিসমিসড”।

মঙ্গলবার মুজাহিদের আবেদনের ওপর প্রায় তিন ঘণ্টা শুনানি হয়। আর বুধবার সকাল থেকে সাকা চৌধুরীর আবেদনের ওপর শুনানি হয় প্রায় দেড় ঘণ্টা।

দুই শুনানিতেই আসামিপক্ষে যুক্ত তুলে ধরেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্ত উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

সূত্র: রেডিও তেহরান