সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সাকা ও মুজাহিদের মৃত্যুদন্ড কার্যকরে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের আনন্দ সমাবেশ ও মিষ্টি বিতরন



usAwm1_Fashi_Tony2015

গণমাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের খবর প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে নিউ ইর্য়কের মানুষ। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি হওয়ায় আনন্দে নিউ ইর্য়কের জ্যাকসন হাইটসে বিভিন্ন সংগঠন আনন্দ সমাবেস ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এ, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ-উল্লাস ও আনন্দ সমাবেশ করেন। আজ সন্ধ্যায় শনিবার ২১ নভেম্বর ২০১৫ জ্যাকসন হাইটসে চাইনিজ পালকি পার্টি সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আনন্দ সমাবেশের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের পরিচালনায় আনন্দ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দুই মঞ্চে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ফাঁসি কার্যকরে এ উল্লাস চলছে। মহান স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ ৪৪ বছর প্রতীক্ষার পর, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে’র ‘৭১-এ, গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটকারী, ঘৃণ্য ও কুখ্যাত আরও দু’জন যুদ্ধাপরাধীর ‘ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে।

সভাপতি মাহাবুবুর রহমান তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধী সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর মুক্তিযোদ্ধারা বিচার পেলেন। এতে জাতি কঙ্কলমুক্ত হলো আর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মা শান্তি পেলো। অনেক ধাপ পেরিয়ে অবশেষে ফাঁসি কার্যকরে  পেয়েছে জাতি। এর মধ্যদিয়ে সত্যের জয় হয়েছে। আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। এখন যত দ্রুত সম্ভব বাকি রাজাকারদের বিচার করে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। শত ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে স্বাধীনতা যুদ্ধ তথা মুক্তিযুদ্ধের এই দুই বিরোধী স্বনামধন্য ও ঘৃণিত রাজাকারের ফাঁসি কার্যকর করা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি আরো বলেন, বাকী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। বঙ্গবন্ধু’র সুযোগ্য কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার আপোসহীন ও দুরদুর্শী-সাহসিকতা এবং দক্ষ নেতৃত্বের মধ্যদিয়েই গঠিত হয়েছিল, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগর সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেনঃ  সালাউদ্দিন কাদের আর আলী আহসান মুজাহিদ স্বাধীনতার পরেও বাংলাদেশে পাকিস্তানের নানা ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে কাজ করে গেছে। সাকা-মুজাহিদের ফাঁসিতে পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রের কবর রচিত হয়েছে।

যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের আর মুজাহিদের ফাঁসির দণ্ড দ্রুত কার্যকর হওয়াতে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সাকা-মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে দেশ থেকে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির পতন হচ্ছে বলে দাবি করেন। সাকা-মুজাহিদের রায় কার্যকর হওয়ায়  মধ্য দিয়ে বাংলার মাটি পাপ ও কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।

সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ আরও বলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল, সেই মানবতাবিরোধী অপরাধীদের একে একে বিচার হচ্ছে, যা জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করছে। সমগ্র যুক্তরাষ্ট আওয়ামী লীগ শাখা সংগঠনের  নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাঙ্গালী ভাই ও বোনেরা যারা দীর্ঘদিন যাবত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছেন। তাদের সকলকে আবারও অভিনন্দন ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
আনন্দ সমাবেশে আরও উপস্হীত ছিলেন-যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাসীব মামুন, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, সমাজ কল্যান সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, স্বাস্হ বিষয়ক সম্পাদক ড.এম এ বাতেন, উপ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি, সরফ সরকার, সামছুল আবেদিন, উপদেষ্টা জয়নাল আবেদিন, হাকিকুল ইসলাম খোকন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, শিবলী ছাদেক শিবলু, আকতার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, শ্রমীক লীগের আহবায়ক আনোয়ার হোসাইন, আকবর হায়দার কিরন, ফকর উদ্দিন, ছাএলীগের সভাপতি জাহিদ হাসান, সাধারন সম্পাদক আল-আমিন, সাবেক সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর এইচ মিয়া, হেলাল মিয়া, জসীম উদ্দিন ভূইয়া, আরিফুল হক, সৈয়দ সাজ্জাদ রায়হান, মোঃ আবুল কাশেম, মোস্তফা আল মামুন, রানা দেওয়ান, ও প্রমূখ। পরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একে অন্যকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ-উল্লাস করেন।

উল্লেখ্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ছারা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, শ্রমীক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, ছাএলীগ, নিউইয়র্ক গণজাগরণ মঞ্চ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মহিলা আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা, সংস্কৃতি সংগঠক, কবি-সাহিত্যিক, সর্বস্তরের পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ আনন্দ সমাবেশে অংশ নেন আনন্দ সমাবেশ গুলি অনুষ্ঠিত হয় অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার সিটি প্লাজায় ও ব্রুকলিন, ব্রোন্স, জ্যামাইকা, ম্যানহাটন, নিউজার্সী, ওয়াসিংটন, লস এন্জেলস, কানেকটিকিট ও আটলান্টা সহ সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ-উল্লাস কর্মসূচি অংশ নেন।