স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় শাবি : শিক্ষামন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার ::
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চ শিক্ষায় মেধার ভিত্তিতে যেতে হবে এবং তা কাজে লাগাতে হবে, আমাদের দেশের মত উচ্চ শিক্ষার সুযোগ অনেক উন্নত দেশেও অবারিত নয়। উন্নয়নের বাংলাদেশকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না। শিক্ষার অগ্রগতি কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা আমাদের শিক্ষিত তরুণ সমাজকে নিয়ে ঠিকই নিদৃষ্ট গন্তব্যে পৌছে যাবো। ১০ জানুয়ারি রোববার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত প্রথম বর্ষের(২০১৫-১৬ সেশন) নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ একথা বলেছেন।
বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্যিকিকরণের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সব ধনী লোকেরা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় খুলে বসেছে। ২০১০ সালে আইন করে আমরা যাদের ক্যাম্পাস নেই তাদের অনুমোদন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছি। এরকম বিশ্ববিদ্যালয় চাই না যারা মুনাফা লাভের জন্যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে বসেছে।
পে-স্কেল নিয়ে শিক্ষকদের আন্দোলনের দিকে ইঙ্গিত করে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন পথে নিয়ে যাবেন, যেন জাতি লাভবান হতে পারে, তবে এর মাধ্যমে শিক্ষকরাও হবেন সবচেয়ে লাভবান, আর আমরাও উপলব্ধি করবো শিক্ষকদের সম্মান মর্যাদা আর্থিক সক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে হবে, সেটা জনগণকেও আপনাদের বুঝাতে হবে। শাবিপ্রবিতে গত বছরের উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রত্যাশা করেন, আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন উপাচার্যকে আর তালা মেরে অবরুদ্ধ করা হবে না।
একমাত্র শিক্ষানীতিতে সরকারী এবং বিরোধী দল একমত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরকম বিভিন্ন কাজের মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে যাবো, আপনাদের জন্যে সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করবো বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, যে দেশ আমাদের বিরোধীতা করেছিল, বলেছিল তলাবিহীন ঝুড়ি, ওয়াশিংটন থেকে বলা হয়েছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হলে কি হবে, এ দেশ হবে দারিদ্রের মডেল, জাদুঘরে রাখতে হবে, সেই ওয়াশিংটন থেকেই বলা হলো যে আমাদের দেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পৌছে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূইয়ার সভাপতিত্বে এবং ড. তাহমিনা ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াস উদ্দীন বিশ্বাস, অধ্যাপক রেজাই করিম খোন্দকার, অধ্যাপক কামাল আহমেদ চৌধুরী, অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার, অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরী, অধ্যাপক নারায়ন সাহা, অধ্যাপক মুশতাক আহমেদ, এবং রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন, সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।