শুক্রবার, ২২ এপ্রিল ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ বৈশাখ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

সহসাই উঠছে না যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা



35

প্রবাস ডেস্ক :: বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ফ্লাইটে কার্গো পরিবহনে বৃটেনের নিষেধাজ্ঞা সহসা উঠছে না। যদিও বিমানমন্ত্রী দেশটির সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের চিঠির জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে কার্গো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয়ে সরকারের নীতি-নির্ধারকরা ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন।

নীতি-নির্ধারণী একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সিরিজ আলোচনা সত্ত্বেও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের অবস্থানের এখনও কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাদের একাধিক কর্মকর্তা ঢাকায় বসে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছেন। বিমানবন্দরকে ঘিরে যেসব সিন্ডিকেট রয়েছে বিশেষ কার্গো ভিলেজে শাসক দলের বিভিন্ন নেতার যে আধিপত্য সেটি ঠেকাতে সরকারের নীতি-নির্ধারকদের ভূমিকার বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে যুক্তরাজ্য।

সূত্র মতে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়ে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে সরকারের নীতি-নির্ধারণী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঢাকাস্থ বৃটিশ হাইকমিশনার এলিসন ব্লেকের নেতৃত্বাধীন টিমের যে বৈঠক হয়েছে তাতে দেশটির বেঁধে দেয়া ৩১শে মার্চের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। তা না হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা চিঠিতে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন যেসব পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তার চেয়ে বেশি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের ঐকমত্যে গৃহীত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে বিমানমন্ত্রীকে প্রধান করে সাত সদস্যের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২০শে মার্চে ওই কমিটির পরবর্তী বৈঠক হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যে কোনো সময় জরুরি বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জানিয়েছেন গতকালই জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক করেছেন তারা। সেখানে আগের দিনে বৃটিশ হাইকমিশনার ও তার টিমের সঙ্গে আলোচনার ফলোআপ করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সংকট উত্তরণে তারা একটি মুহূর্তও নষ্ট করতে চাইছেন না। বিধায় গতকালই তারা বৈঠকটি করেছেন। সেখানে রুটিন কার্যক্রমের ফলোআপ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিমানবন্দরের সংকটকে নীতি-নির্ধারকরা ‘রানা প্লাজা সিনড্রম’ হিসেবে দেখছেন। সহসাই এ সংকট কাটছে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, বিষয়টি নিয়ে গত ৬ মাস ধরে সতর্ক করছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ পশ্চিমা উন্নয়ন সহযোগীরা।

তারা নিরাপত্তার বিষয়ে ট্রেনিংসহ বিভিন্ন সুপারিশ দিয়েছে দফায় দফায়। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে চরম অবেহলা ও গাফলতি ছিল। যার খেসারত এখন রাষ্ট্র, সরকার ও পুরো জাতিকে দিতে হচ্ছে। সূত্র মতে, পরিস্থিতি এখন যেখানে গিয়ে ঠেকেছে তাতে বিমান সচিব এবং সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যানকে অপসারণ করাই শেষ ঘটনা নয়। জাতীয় স্বার্থে এমন আরও পদক্ষেপ নিতে হবে।

সূত্র মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বৃটেন বাংলাদেশে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এখানে ইইউসহ মোট ৬০টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে বৃটিশ সরকার। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়ে তারা খুবই আন্তরিক। কার্গোর পর যাত্রীবাহী সরাসরি ফ্লাইটেও যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে- এমন আলোচনাও ঘুরপাক খাচ্ছে কূটনৈতিদক অঙ্গনে। এটা যে হবে না এমন কোনো নিশ্চয়তাও পাওয়া যাচ্ছে না।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত