শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দুই মন্ত্রীকে ডেকে নিয়ে বকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী



15

নিউজ ডেস্ক :: বিচার বিভাগ ও প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে ডেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বকেছেন। কিন্তু এ বকাঝকায় কিছু হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা।

রোববার আপিল বিভাগে দুই মন্ত্রীর আদালত অবমাননার বিষয়ে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন। সেই সঙ্গে আদালত অবমাননার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দুই মন্ত্রীকে কঠোর ভাষায় তিরস্কারও করেন।

শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই দুই মন্ত্রী আদালত ও প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে বক্তব্য দেয়ার পর আমি বিদেশ থেকে আইনমন্ত্রীকে ফোন করেছি। বলেছি এই দুইমন্ত্রী যেন ক্ষমা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। কিন্তু করেনি। এও বলেছিলাম- পরেরদিন ক্ষমা না চাইলে পরিণতি হবে সাংঘাতিক খারাপ।’

তিনি বলেন, ‘সংসদে ও টকশোতে রাজনীতিবিদরা আমাদের শুনানি নিয়ে নানা মন্তব্য করেন। দুইজন মন্ত্রী যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন সে ব্যাপারে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। আমি মন্ত্রীকে বলেছি- কেবিনেটে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করতে। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী দুই মন্ত্রীকে বকাঝকা দিয়েছেন। কিন্তু এ বকাঝকায় কিছু হবে না।’

কাসেমের রায় প্রসঙ্গে সিনহা বলেন, ‘দেশে আসার পর বিমানবন্দর থেকে আমি বাসায় না গিয়ে সরাসরি কোর্টে আসি, এর পরেরদিন গুরুত্বপূর্ণ রায় দেব বলে। এর আগে এর চুল পরিমাণ বরখেলাপ হবে না। নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলেছি। মন্ত্রী (আইনমন্ত্রী) আসলেন। কিন্তু বিচারকরা কথা বললেন না।’

আজ রোববার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চে দুই মন্ত্রীর আদালত অবমননার অভিযোগ বিষয়ে শুনানি হয়। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের পক্ষে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আদালতে শুনানি করেন।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের উপস্থিতিতে শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তাদের আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনার মক্কেলকে সুরক্ষা দিতে না পারলে আদালতে আসবেন না। আপনারা যতোই ক্ষমতারধর হোন না কেন আইন সোজা পথে চলে, আঁকাবাঁকা পথে চলে না। আমরা অনেক সহ্য করেছি। সংবিধান রক্ষায় যে কোনো আদেশ দিতে আমরা কুণ্ঠাবোধ করবো না। আপনি যেই হোন।’