রবিবার, ২ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জেট এয়ারের সার্ভিস তলানিতে, ক্রুদের অভদ্রতা চরমে!



28

নিউজ ডেস্ক : ঢাকা-দিল্লি আকাশপথে মনোপলি ব্যবসা শুরু করেছে ভারতের জেট এয়ার। আর এতে এয়ারলাইন্সটির সার্ভিস তলানিতে ঠেকেছে। শিডউল ঠিক থাকলেও ফ্লাইটে ওঠা-নামা, অনবোর্ড সার্ভিস সবকিছুই এখন ‘যাচ্ছেতাই’ বলে মন্তব্য করেছেন এই পথের অনেক যাত্রী। বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট এই রুটে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেই এমন মত তাদের।

অভিযোগকারীরা বলছেন, বিমানের ফ্লাইট থাকলে বাংলাদেশিদের কেউ ভারতের জেট এয়ারের এসব ভোগান্তি নিতো না।

বাংলাদেশি যাত্রীদের প্রতি চরম অবহেলা ও দুর্ব্যবহার করছেন জেট এয়ারেরর ত্রু ও স্টাফরা। বিশিষ্ট ও সম্মানিত ও সুপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গেও একই আচরণ করছে জেট এয়ার।

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, বীরউত্তম মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জেট এয়ারে তার বাজে অভিজ্ঞতার কথা একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত লেখায় তুলে ধরেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, একচেটিয়া ব্যবসা করার কারণেই জেট এয়ার যাত্রীদের সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার করে পার পেয়ে যাচ্ছে।

কাদের সিদ্দিকী লিখেছেন, ‘এখন কেন যেন সব কিছু মনোপলি, মানে একচেটিয়া। সেটা রাজনীতি, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য সব একই রকম। বিমানের (উড়োজাহাজ) ক্ষেত্রেও। জেট এয়ার ভারতের একটি বেসরকারি বিমান সংস্থা সব দখল করে নিয়েছে। আগে বাংলাদেশ বিমান ঢাকা থেকে দিল্লি যেত, এয়ার ইন্ডিয়া আসা-যাওয়া করত। এখন আর অন্য কোনো সংস্থার ঢাকা-দিল্লি সরাসরি ফ্লাইট নেই। সব জেট এয়ার। দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় একচেটিয়া হলে যা হয় ঢাকা-দিল্লি জেট এয়ারের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। যাতায়াতের সময় খুব একটা হেরফের হয় না। কিন্তু প্যাসেঞ্জার সার্ভিস ভালো নয়।’

ভারতের এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে জেট এয়ারের বিরুদ্ধেই অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। জেট এয়ার নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। এই ভারতীয় বেসরকারি এয়ারলাইন্সটির বিরুদ্ধে মাত্র তিন বছরে ১০ হাজারটি অভিযোগ জমা পড়ে। সে নিয়ে ভারতের লোকসভায় চরম সমালোচনায়ও পড়ে জেট এয়ার। এসব অভিযোগ মধ্যে রয়েছে টিকিট বাতিল হলে অর্থ ফেরত না দেওয়া, ব্যাগেজ হারিয়ে ফেলা আর সর্বোপরি স্টাফদের দুর্ব্যবহার।

এই দুর্ব্যবহারের কথাই গুরুত্বের সঙ্গে তার লেখায় তুলে ধরেছেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি লিখেছেন, ‘এয়ারপোর্টে বোর্ডিং পাস দিতে তেমন ভালো ব্যবহার করে না। ১-২ কেজি বেশি হলে বোর্ডিং পাওয়া যায় না, অভদ্রতার চরম।’

জেট এয়ারের কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসের অনলাইনে ঢুকেও এমন হাজারো অভিযোগের কথা জানা যায়। এই মার্চের এক যাত্রী তার শিশু সন্তানকে নিয়ে জেট এয়ারে উঠে হেনস্ত হন কেবিন ক্রদের হাতে। তারা ওই যাত্রীকেই বাধ্য করেন তার হাত ব্যাগটি স্টোজে ঢুকিয়ে রাখতে। এছাড়াও ওই যাত্রায় তার দুটি ব্যাগেজ হারিয়ে যায় ক্রুদের অবহেলার কারণে।

জেট এয়ারের এই দুর্ব্যাবহার ঢাকা-দিল্লি রুটে সবচেয়ে বেশি এমনটাই মত যাত্রীদের। তারা মনে করেন বাংলাদেশ বিমান এই রুটে তার সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়ার পর এমনটা বেশি হচ্ছে। বিমানের ফ্লাইট এই রুটে ফের চালু হোক বলেও দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, এই এপ্রিলেই বিমানের ঢাকা-দিল্লি ফ্লাইট চালু হতে যাচ্ছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন ওই কর্মকর্তা।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, সত্যিই সুযোগ পেয়ে মনোপলি ব্যবসা করে যাচ্ছে জেট এয়ার। এদের ভাড়া অনেক বেশি। বাংলাদেশ বিমান জেট এয়ারের প্রায় অর্ধেক ভাড়ায় যাত্রীসেবা দিতে পারবে বলেই জানান তিনি।

ভারতের তিনটি রুটে এখন জেট এয়ার তার সার্ভিস চালু রেখেছে। এগুলো ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা, ঢাকা-দিল্লি-ঢাকা ও ঢাকা-মুম্বাই-ঢাকা। এর মধ্যে মুম্বাই ও দিল্লি রুটে জেট এয়ারের একচেটিয়া ব্যবসা চলছে। ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রিয় পতাকাবাহি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট এয়ারের ফ্লাইট চালু রয়েছে। এই রুটে জেট এয়ারের ভাড়া ৩১ হাজার টাকা। যা বিমান ও রিজেন্টের ক্ষেত্রে প্রায় অর্ধেক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশের একাধিক বেসরকারি এয়ারলাইন্স ঢাকা-দিল্লি রুটে সার্ভিস চালু করার আগ্রহ দেখালেও তার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ভারতের জেট এয়ারের একচেটিয়া ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের মত। তবে বিমানের ফ্লাইট চালু হলে বাংলাদেশের যাত্রীদের জেট এয়ারের এমন চরম অভদ্রতা সইতে হবে না বলেই প্রত্যাশা যাত্রীদের।