বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সৌদি শাসকদের বেকায়দায় ফেলেছেন রাজকুমারী আমিরাহ



full_1032657892_1469017661

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি সমাজ ব্যবস্থা অনেক রক্ষণশীল। যার কারণে সেখানকার নারীরা গাড়ি চালাতেও পারেন না এবং সেখানে নারীদের জন্য রয়েছে পোশাকের বাধ্যবাধকতা। সৌদির রক্ষণশীল সরকার এটার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। তবে সৌদি তথা মধ্যপ্রাচ্যের এই অতি রক্ষণশীল দেশেই মাথা উঁচু করে এসব নিয়মের কার্যত তোয়াক্কা না করেই এগিয়ে যাচ্ছেন সৌদি রাজকুমারী আমিরাহ আল তাবিল।

৩৩ বছর বয়সী রাজকুমারী আমিরাহ দেখতে রুপবতী, আত্মনির্ভরশীল, সাহসী এবং প্রত্যয়ী একজন নারী। তিনি মানবিক সমস্যা সমাধানে শুধুমাত্র সৌদি আরবে নয় কাজ করছেন গোটা পৃথিবীতে। তিনি ৭০টিরও বেশী দেশ ভ্রমণ করেছেন প্রধান সমস্যা সম্পর্কে জানতে এবং তার সমাধান করতে।

রাজকুমারী আমিরাহ বিশ্বের দারিদ্রতা এবং দূর্যোগ মোকাবেলায় যুদ্ধ করছেন। তিনি একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং আশ্রয়স্থল নির্মাণ করেছেন পশ্চিম আফ্রিকায়। তিনি সহযোগীতা প্রদান করেছেন পাকিস্তানের বন্যা দূর্গতদের মাঝে এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসালমিক শিক্ষা কেন্দ্র খুলেছেন। এছাড়াও সােমালিয়ায় সহযোগীতা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

তিনিই প্রথম সৌদি নারী এবং সৌদী রাজকুমারী, যিনি তার দেশের নিয়ম অনুযায়ী দীর্ঘ এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরিত্যাগ করেছেন এবং ইউরোপিয়ান স্টাইলে পোশাক পরিধান করেন।

পোশাকে বাধ্যবাধকতা তিনি কখনোই মান্য করেননি। তিনি ব্যবসায় প্রশাষনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি নিজে গাড়ি চালান। যদিও সৌদিতে নারীদের গাড়ি চালানো নিষেধ। তিনি মনে করেন সৌদি প্রতিটি নারীরই এ বিষয়ে নিজের পছন্দমত সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রয়েছে এবং তিনি এটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

সৌদিতে এমন কাজ তার জন্য মোটেই সহজ নয়। আর রাজকুমারীর এমন কাজে বেশ বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে সৌদি সরকারের। তবে তার অনেক প্রশংসনীয় কাজের জন্য তিনি ছাড় পাচ্ছেন অনেক।

রাজকুমারী আমিরাহ হলেন একজন যোগ্য উদাহরণ, যিনি অসম্ভব সুন্দরী এবং নরম মনের এবং দয়ালু হৃদয়ের অধিকারী। এমন কিছু মানুষই পৃথিবীকে আরো সুন্দর করে তোলেন।

এছাড়াও ফ্যাশন দুনিয়ার স্পটলাইটে চলে এসেছেন আমিরাহ। পশ্চিমা ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, তিনি একজন গর্জিয়াস লেডি এবং তিনি খুব ভাল করেই জানেন কিভাবে নিজেকে একটি মার্জিত সাজসজ্জায় ফুটিয়ে তোলা যায়। তার হাস্যেজ্জ্বল চেহারাও মুগ্ধ করেছে সবাইকে। সেরা সুন্দরীর খেতাবও পেয়েছেন তিনি।

কেট মিডলটন এবং উইলিয়ামের বিবাহ-অনুষ্ঠানে তার পরনে ছিল ধূসর গোলাপি রংয়ের লেইস কোট। কোটটির চারপাশ জুড়ে ছিল সুবিন্যস্ত ত্রিমাত্রিক আকারে ফোটা পুষ্প এবং এর সাথে ছিল বাকাঁনো বেল্ট। এক রঙা চমৎকার শৈলীর এই পোশাকটি ছিল অসাধারণ।