শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জমি নেই ঘর নেই ছয় নারীর পরিবার, পাশে দাঁড়ালেন আব্দুস শহীদ



মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার মানচিত্র।

সাজু মারছিয়াং, শ্রীমঙ্গল:

গেলো বৃহস্পতিবার আওয়ামীলীগের নির্বাচনী প্রচারণায় নেতা- কর্মী – সমর্থকদের ঢল নেমেছিলো। স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদের নের্তৃত্বে আওয়ামীলীগের সকল স্তরের একদল নবীন- প্রবীণ – ত্যাগী নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভাকাঙ্খি উপজেলার আশীদ্রোণ ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে ভোট চাইছিলেন সবাই। এলাকার অধিবাসীরা যে যার মতো আপ্যায়ন করেছেন, মাঝে মধ্যে নৌকা মার্কার প্রার্থী ড. মো. আব্দুস শহীদ মাইকে বেজে উঠা শ্রুতিমধুর গান ও বাদ্যের সাথে নাচতেও দেখা গেলো, নির্বাচনী আমেজে যেন একটা পিকনিক মুডে সবাই। ভরদুপুরে উত্তর জিলাদপুরের হরিণাকান্দি গ্রামে স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতা প্রণব পালের বাড়িতে মধ্যান্নভোজনের পর সবাই যখন জনসংযোগের জন্য পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন ঠিক তখনই প্রণব পালের বাড়ির উঠোনে হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন ড. মো. আব্দুস শহীদ। একটি ঝুপড়ি ঘরের দিকে বার বার তাকাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই কে যেন এসে তাকে অবহিত করলেন, এই ঝুপড়ি ঘরেই আশ্রিতা হয়ে অবিবাহিত পাঁচটি মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন বিধবা সুমি পাল। তাদের নেই কোন বাস্তুভিটা, নেই কোন জায়গা জমি বা নিজস্ব থাকার ঘর। বৃদ্ধ স্বামী প্রাণেশ পাল শ্রীমঙ্গল শহরে ফেরী করে চিড়া – মুড়ির লাড়– বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করতেন। এক মাসও হয়নি বার্ধক্যজণিত রোগে ভোগে মৃত্যুবরণ করেছেন। এক প্রকার উদ্বাস্তুর মতো অনিশ্চিত ও অনিরাপদ ভবিষ্যত যখন মোটামুটি ধরে নিয়েছিলেন পরিবারের সবাই ঠিক তখনই নিভে যাওয়া স্বপ্ন আবারো নতুন করে দেখার অবকাশ পেলো পিতৃহীন অসহায় শর্মী, গঙ্গা, সীতা, গীতা ও রিমা।

স্থানীয় সাংসদ এ পরিবারটির সাথে আলাপ করলেন, অভয় দিলেন আর তৎক্ষণাৎ সাথে থাকা নেতা – কর্মীদেরকে ডেকে নিয়ে আলাপ করলেন কিভাবে এ পুরুষ সদস্য বিহীন ছয়জন নারীর পরিবারটিকে সমাজে পুনর্বাসন করা যায়। কেউ বললেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের কথা, কেউবা বললেন সেলাই মেশিন প্রদানের বিষয়টি। কিন্তু, আব্দুস শহীদ মনে মনে চাইছিলেন এ পরিবারটির জন্য স্থায়ীভাবে কিছু একটা করে দেওয়া যাতে স্কুল-কলেজ পড়–য়া পরিবারের সদস্যরাসহ সবাই সম্মান নিয়ে সমাজে বসবাস করতে পারে। যেহেতু নিজের জমি নেই তাই ঘর করে দেওয়াও সম্ভবপর নয়, তাই ড. মো. শহীদ তৎক্ষণাৎ বিত্তবান নেতা – কর্মীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান যাতে করে এ পরিবারটিকে ১০-১৫ শতক ভূমি ক্রয় করে দলিল করে দেওয়া যায়। নেতা – কর্মীরাও যে যার যার মতো পাঁচ হাজার, দশ হাজার, বিশ হাজার টাকা প্রদানের অঙ্গীকার করেন।

মুহুর্তেই কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের অন্যতম সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি ব্যারিস্টার জহির আহমেদ লিমন ও স্থানীয় নেতা বদরুল আলম শিপলু এবং স্থানীয় কয়েকজন অধিবাসী পঁচিশ হাজার টাকা প্রদান করেন। ৬নং আশীদ্রোণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রনেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন জানান, আমরা ভূমি ক্রয়ের জন্য ২,৫০,০০০ টাকা ব্যয় ধরেছি। তাংক্ষণিকভাবে, আওয়ামীলীগ নেতা – কর্মীদের অঙ্গিকার মোতাবেক ১,৮০,০০০ টাকার সংকুলান হয়ে গেছে। যা আগামী ২৫ শে ডিসেম্বরের মধ্যে সবাই জমা দিয়ে দেবেন। এ ব্যাপারে আমাদের নেতা ড. মো. আব্দুস শহীদ নির্দেশ দিয়েছেন যদি সম্ভবপর হয় তাহলে আগামী নির্বাচনের পুর্বেই যেন এঁদের জায়গা – জমির ক্রয়ের ব্যাপারটি শেষ করা হয় এবং তিনিও এ পরিবারটির আর্থিক সাহায্যে ব্যক্তিগতভাবে এগিয়ে আসবেন। এছাড়াও, আগামী তিন মাসের মধ্যে সরকারীভাবে তাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ, সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও নির্দেশনা প্রদান করেন। তাছাড়া, ভবিষ্যতে আত্মকর্মসংস্থানের নিমিত্তে পরিবারের কমপক্ষে একজন সদস্যকে আত্মনির্ভরশীল করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজু দেব রিটন বলেন,‘সম্মিলিত স্থানীয় আওয়ামীলীগ পরিবারের এই পদক্ষেপটি মানবসেবার একটি অপুর্ব দৃষ্টান্ত। অসহায়কে আশার আলো ও নিরাপদ জীবন তৈরী করে দেওয়ার যে চ্যালেঞ্জটুকু সংসদ সদস্য ড. মো. আব্দুস শহীদ গ্রহণ করেছেন তা এক কথায় অসাধারণ। এটা আওয়ামীলীগ সরকারের মানবিকতা ও সামাজিক উন্নয়নের একটি অনন্য ‘মডেল’। উপজেলার প্রত্যেকটি এলাকায় খোঁজ করলে হয়তো আরো এরকম পরিবার পাওয়া যেতে পারে যাদের থাকার জন্য এতটুকু ভিটেমাটি নেই, অনেকে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন, কিংবা আশ্রিত হিসেবে কিন্তু চক্ষুলজ্জায় হয়তো নিজের অবস্থা ব্যক্ত করেন না। আওয়ামীলীগ সরকার সেইসব প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে, ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে চলেছে।

পরিবারটির গৃহকর্ত্রী সীমা রাণী পাল বলেন, এ যেন হাতে আকাশের চাঁদ পাওয়া। আসলেন সবাই ভোট চাইতে, কিন্তু আমার পরিবারের জন্য যা করার মনোবাসনা করেছেন তাতে আমি হতবিহব্বল হয়ে পড়েছি। শেখ হাসিনার মফস্বলের একডজন কর্মীরাই যদি মানুষের জীবনকে এভাবে দশ মিনিটে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটিয়ে দিতে পারে, জীবনমানের অভাবিত উন্নয়ন করতে পারে, তাহলে শেখ হাসিনার সরকার যে আমার মতো আরো অসহায় মানুষের জীবনমানের ও ভাগ্যের এভাবে আমুল পরিবর্তন ঘটাতে পারবে সেটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার – ৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড.মো. আব্দুস শহীদ বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ও দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সকল মানুষের ভাগ্যন্নোয়নে সারাদেশব্যাপী কাজ করছেন। আমরা সুযোগ পেলেই এরকম কাজ প্রতিনিয়ত করে থাকি। আমরা স্থানীয় আওয়ামীলীগ সব সময়ই মানুষের পাশে আছি, থাকব।