সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

‘লন্ডনী’র সাথে সমকামিতায় রাজী না হওয়ায় হত্যা হয় কিশোর কামরান



নিজস্ব প্রতিবেদক ::

এক লন্ডনী শেরপুর গোলচত্তরে আক্কাসের ভিডিও দোকানে রুম ভাড়া করে কামরানকে বলৎকার করত। একদিন কামরান রাজী না হওয়ায় লন্ডনী তাহাকে মারপিট করে। বলৎকারে রাজী না হওয়ায় পরবর্তীতে লন্ডনী কামরানকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনায় পলাতক আসামী ইউনুছকে দশ হাজার টাকা দিয়ে গত ২০১৫ সালের সেপ্টম্বর মাসের ৯ তারিখ রাতে কামরানের গলায় রশি প্যাচাইয়া শ্বাসরোধ করিয়া হত্যা করে। এঘটনায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় কামরানের বাবা মুনির উদ্দিন (মামলা নং-০৬) দায়ের করেন। ৪ বছর পর এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার জেলা পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম।

তিনি জানান, আসামী ইউনুছ, সাদ্দাম, বাদশা, কামাল, মহসিন, আলী, রাহিন সহ গভীর রাত্রীতে কামরানের গলায় রশি প্যাচাইয়া শ্বাসরোধ করিয়া হত্যা করে এবং হত্যা করার পর কামরানের লাশ পিকআপ গাড়ীর ভিতর ড্রাইভারের সিটের উপর ফেলিয়া রাখে। হত্যাকান্ডের সময় জৈনক লন্ডনী ঘটনাস্থলের পাশে দাড়াইয়া পাহাড়া দিতেছিল। লন্ডনীর পরিচয় এখন ও সনাক্ত করা যায়নি, সনাক্ত করনের জোর প্রেচেষ্টা এবং পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

জানা যায়, ৪বছর পূর্বে নবীগঞ্জ উপজেলার মোঃ মুনির উদ্দিনের ছোট ছেলে মোঃ কামরান হোসেন (১৩) অভিমান করে বাড়ী থেকে রাগ করে পালিয়ে যায়। সে ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র ছিল। কামরানের পরিবারের অনেক খোজাখুজির এক পর্যায়ে জানতে পারেন যে, তাদের ছেলে কামরান শেরপুর বাজারে ফলের দোকান সহ আশ পাশের ফলের দোকানের ফল নামানোর কাজ করে। এই খবরে কামরানের বাবা মুনির উদ্দিন শেরপুর আসেন। তখন কামরান তার বাবাকে দেখিয়া পালিয়ে যায়। তখন তার বাবা ফলের দোকানদারদেরকে তার ছেলের প্রতি খেয়াল রাখার অনুরোধ করে বাড়ী চলে আসেন।

তারপর ১৫ সালের ৪ সেপ্টম্বর কামরানের মৃত দেহ গাংপাড় রোডে মঞ্জিল ওয়ার্কশপের সামনে একটি পিকআপ গাড়ীর ভিতর সামনের সিটের উপর পাওয়া যায়। শেরপুরের পুলিশ ফাড়ির লাশ ময়না তদন্তের পর বাদী মুনির উদ্দিন মৌলভীবাজার সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ধফায় ধফায় মামরার তদন্তেও কোন রহস্য উদঘাটন হচ্ছিল না। আদালত পুনরায় তদন্তের জন্য মামালাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে নির্দেশ দেয়।

দীর্ঘ তদন্তের পর বিভিন্ন সময়ে রহস্য উদঘাটনের জন্য গুপ্তচর নিয়োগ করা হয়। এক পর্যায়ে সোর্সের পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে জড়িত আসামী মহসিন তাহার বাড়ীতে অবস্থান করিতেছে। তখন তাহাকে বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। মহসিনকে গ্রেফতার করার পর নিবিড় ভাবে জিজ্ঞসাবাদ করিলে সে কামরানকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং এই হত্যাকান্ডের সাথে শেরপুরের সাদ্দাম, বাদশা, কামাল, ইউনুস, আলী, রাহিমদের নাম প্রকাশ করে। একে একে সাদ্দাম, বাদশা, কামালদেরকে গ্রেফতার করে পিবিআই।

গ্রেফতার কৃত মহসিন, সাদ্দাম, বাদশা, কামালদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাহারা ৪জনই কামরান হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত বলে স্বীকার করে।

আসামী মহসিন স্বীকার করে যে, হত্যা কান্ডের সময় সে কামরানের বাম পায়ে চেপে ধরে। সাদ্দাম স্বীকার করে যে, সে কামরানের দুই পা চেপে ধরে। বাদশা স্বীকার করে যে, কামরানের গলায় ফাঁস লাগানোর সময় সে একদিকে এবং আসামী কামাল অন্যদিকে রশি টেনে ধরে। আসামী কামাল স্বীকার করে যে, সে তাহার হাতে থাকা গামছা দিয়ে প্রথমে কামরানের মুখ বেধে ফেলে এবং কামরানের গলায় রশি বেধে, রশির একদিকে কামাল অন্যদিকে আসামী বাদশা টেনে ধরিলে কিছুক্ষনের মধ্যে কামরানের মুখ দিয়ে ফেনা ও জিহবা বের হয়ে যায়।

আসামীদের স্বীকারোক্তিতে জানা যায় যে, এই হত্যাকান্ডের মূল কারন জনৈক লন্ডনী মাঝে মধ্যে শেরপুর গোলচত্তরে আক্কাসের ভিডিও দোকানে রুম ভাড়া করে কামরানের সাথে বলৎকার করত। লন্ডনীর পরিকল্পনা অনুযায়ী পলাতক আসামী ইউনুছকে দশ হাজার টাকা দিয়া আসামী সাদ্দাম, বাদশা, কামাল, মহসিন সহ পলাতক আসামী আলী, রাহিম কামরানকে হত্যা করে লাশ পিকআপ গাড়ীর ভিতর ড্রাইভারের সিটের উপর ফেলে রাখে। হত্যাকান্ডের সময় লন্ডনী ঘটনাস্থলের পাশে দাড়িয়ে পাহাড়া দিচ্ছিল বলে জানান আসামীরা।