বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতাকালীন নীতি-আদর্শে ফিরে গেছে বাংলাদেশ: রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক।



শমসাদুর রহমান রাহীন;ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন ‘হোয়াইটবোর্ড’-এর প্রথম সংখ্যার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ উপলক্ষে রোববার এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পথ চলার শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর সময়ে সংবিধানে নেওয়া গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে এক নতুন উচ্চতায়। তবে এখানেই থেমে থাকা যাবে না।

বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন উল্লেখ করে রাদওয়ান বলেন, “গত ১০ বছরে বাংলাদেশ ফিরে গেছে প্রতিষ্ঠাকালীন নীতি ও আদর্শে।”

‘উন্নয়নের পথে কাউকে পেছনে ফেলে রাখবো না’- বঙ্গবন্ধুর এই নীতিই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বাস্তবায়ন করে চলেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়তা করতে ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন ‘হোয়াইটবোর্ড’ নীতি নির্ধারকদের কাছে বস্তুনিষ্ঠ, স্বচ্ছ ও ভারসামপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেবে বলে জানান রাদওয়ান।

এ কাজে সারা দুনিয়াতে নীতি-নির্ধারকদের সহায়তায় যেসব বাংলাদেশি মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন, তাদের জ্ঞানও কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাদওয়ান বলেন, “হোয়াইটবোর্ডে সবসময়ই নীতি-নির্ধারকদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ, স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা থাকবে। দায়বদ্ধতা থাকবে এটা করার জন্য।

“তরুণ প্রজন্মকে একটা বিষয় বোঝার জন্য যে, নীতি-নির্ধারকদের কাছে তো সবসময় সব প্রশ্নের উত্তর থাকে না। অনেক সময় উনাদের সামনে চ্যালেঞ্জ আসে। যেমন প্যানডেমিক, পৃথিবীর বড় বড় দেশ বলি আর ছোট দেশ বলি সবাই তো এই কোভিড নিয়ে একটু ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেছে যে, এটা কীভাবে আমরা হ্যান্ডেল করব?

“আমাদের ওই জায়গাতেও একটু বুঝতে হবে যে, আমরা নীতি-নির্ধারকদের সহায়তা (আ্যাসিট্যান্স) দিতে পারি। উনাদের এখন অনেক দিকে চ্যালেঞ্জ আছে। ওই জায়গাতে যদি আমরা বিশেষায়িত জ্ঞান নিয়ে এসে একদম স্পষ্ট, ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে যদি নীতি নির্ধারকদের কাছে দিতে পারি যে, বাংলাদেশে একটা সমস্যা আছে, এই জিনিসটা যদি আপনারা করেন আমরা বিশ্বাস করি সমাধান করা যাবে।”

মুক্তিযুদ্ধের পর ক্ষতবিক্ষত এক দেশকে দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে ক্রমাগত উত্তরণের পথে এগিয়ে নিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণয়ন করেছিলেন বিভিন্ন নীতি, সদ্য স্বাধীন দেশের জন্য স্থির করেছিলেন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য।

উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার পথে আগামীর নীতি নির্ধারকদের জন্য বঙ্গবন্ধুর সেসব নীতি-লক্ষ্য আর ভবিষ্যৎ কর্মপন্থাকে উদ্বোধনী সংখ্যাতে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে ‘হোয়াইটবোর্ড’।

আওয়ামী লীগের গবেষণা উইং সিআরআই থেকে প্রকাশিত হয়েছে এ সাময়িকী, যে সংস্থাটির ট্রাস্টি হিসেবেও রয়েছেন রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক।

সিআরআইয়ের ভাষায়, এ সাময়িকী হবে ভবিষ্যতের নীতি-নির্ধারকদের জন্য ‘বাতিঘর’।

রাদওয়ান মুজিব বলেন, “…ব্রাইটেস্ট মাইন্ড। শুধু বাংলাদেশেই না, বাংলাদেশিরা বাইরে গিয়েও অনেকে ভালো করছে, অনেক নাম করছে। উনারা যেন স্পেস পায়।

“বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কেউ নাসায় হয়ত একটা রোবট বানাচ্ছে, বা কোনও একটা দেশে একটা ভ্যাকসিন বের করেছে। এরকম তো অনেক উদাহরণ আছে। উনাদের যে ব্রেইন পাওয়ার এটাকে আমরা কীভাবে কাজে (লেবারাইজ) লাগাতে পারি। উনাদের কথাটা আমাদের এখানে নীতি-নির্ধারকদের কাছে কীভাবে তুলে ধরতে পারি।”

মুজিববর্ষের শুরুতে মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে এ সাময়িকী প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিল সিআরআই। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে তা পিছিয়ে যায়।

রাদওয়ান বলেন, “জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখতে এ বছরই আমরা এই ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম। আমরা তা করতে পেরেছি। এটা আমাদের জন্য দারুণ এক আনন্দের বিষয়।

“আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এমন একটা কিছু করব যা স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ সরকারের নীতি ও চ্যালেঞ্জগুলো কী ছিল, তা নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণা দেবে। বঙ্গবন্ধু ও তার সহকর্মীরা কোন নীতিতে, কোন আদর্শে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে চিত্রিত করেছেন, তাদের আদর্শকে কিভাবে ভবিষ্যতের রূপকল্পে প্রণয়ন করেছেন, আমরা এখানে সেসব কথা বলতে চেয়েছি।”