বুধবার, ২৪ মার্চ ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ চৈত্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

শাল্লায় হামলাকারী ও হামলার শিকার উভয় সম্প্রদায়ই সংখ্যালঘু।




সুজাত মনসুর.

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও-এ হামলার শিকার ও হামলাকারী উভয় সম্প্রদায়ই সংখ্যালঘু। হামলার শিকার যারা তারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংখ্যালঘু আর হামলাকারীরা এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নিত। এদের পুর্বপুরুষেরা ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ থেকে দিরাই ও শাল্লায় এসে বসতি স্থাপন করে। শিক্ষাদীক্ষায় এরা অপেক্ষাকৃতভাবে অনেকটা পিছিয়ে। দিরাই শাল্লার আদি বাসিন্দাদের সাথে এদের আত্মীয়তা নেই বললেই চলে। তবে ইদানীং পরিবেশ পরিস্থিতির উন্নত হয়েছে। এরা প্রকৃতিগতভাবে হিন্দু বিদ্ধেষী এবং এদেরকে আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তি সত্তরের নির্বাচন থেকে কাজে লাগিয়েছে। অন্যদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকাংশই, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আওয়ামী লীগ বা নৌকা প্রতীক না পাওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে কখনো ভোট দেয়নি। কিন্তু স্বতঃসিদ্ধ প্রথা বলে হিন্দু সম্প্রদায় আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক।

সত্তরের নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ থেকে আগত মুসলমানরা পিডিপি’র প্রার্থী গোলাম জিলানী চৌধুরী ও আব্দুল খালিক(দুজনেই পাক বাহিনীর দালাল) কে ভোট দেয় এবং তাদের বেশির ভাগ মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল। তাদের গ্রামগুলিতে রাজাকারও ছিল। খালিক মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া রাজাকারের গুলিতে দেশ স্বাধীন হওয়ার দু’দিন পর অর্থাৎ ১৮ই ডিসেম্বর, ১৯৭১, আমাদের গ্রাম জগদলের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ শহীদ হন। তেয়াত্তরের নির্বাচনে উপায়ন্তর না দেখে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয় ওরা। কারণ তাদের ভোট দেয়ার জায়গা ছিল না। কিন্তু পঁচাত্তর পরবর্তীতে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে ভোট দিয়ে আসছে। যদিও শুনেছি আক্রমণের নেতৃত্বকারী স্বাধীন নাকি এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা। এটা হতে পারে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থাকার জন্য।

অন্যদিকে, সত্তর ও তেয়াত্তরের নির্বাচনে দিরাই-শাল্লার সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু কুড়েঘরে ভোট দিয়েছে। ৭৯ নির্বাচনে সেনবাবু যখন একতা পার্টি করে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন তখন ওরা দোয়াত-কলমে ভোট দিয়েছে। সেনবাবু যখন আওয়ামী লীগ, তখন ওরাও আওয়ামী লীগ। তবে ব্যতিক্রম ছিল কিন্তু খুব নগন্য সংখ্যক।

বর্তমানে জয়া সেনগুপ্তার ভোট ব্যাংক হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায় আর বিএনপি নেতা নাসির চৌধুরীর ভোট ব্যাংক হচ্ছে উল্লেখিত মুসলমান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। সবই ভোটের খেলা। সুতরাং দিরাই শাল্লার রাজনীতি খুব সহজ আবার খুব কঠিন।

আরেকটি কথা, গত উপজেলা নির্বাচন ও পৌর নির্বাচনকে ঘিরে এলাকার সবাই অনুমান করে নাসির চৌধুরী ও এমপির কাছের লোক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় নাকি হরিহর আত্মা। একে অন্যকে গোপনে সহযোগিতা করেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত