রবিবার, ৪ এপ্রিল ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ চৈত্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে সাদা মনের মানুষ আব্দুর রাজ্জাককে সম্বর্ধনা প্রদান।



মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী দিবসে সমাজবান্ধব সাদা মনের মানুষ আব্দুর রাজ্জাককে সম্বর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক দিয়েছে মেধা-সংস্কৃতি বিকাশ সমাজকল্যাণ পরিষদ। আজীবন সংগ্রামী জনকল্যাণে নিবেদিত একজন মানুষ আব্দুর রাজ্জাক।
রাজনগর উপজেলার তারাপাশা গ্রামে ১৯৫২ সালের ৪ জুলাই জন্ম গ্রহণ করেন এই মহৎপ্রাণ মানুষটি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করে ১৯৬২ সালে তারাপাশা জুনিয়র হাইস্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির পর নিজেকে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে যুক্ত করেন। রাজনগর পোর্টিয়াস উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে এস এস সি এবং মৌলভীবাজার সরকারী কলেজ ১৯৭০ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি বাম ধারার রাজনৈতিক নেতাদের সংস্পর্শে থেকে ৬২ শিক্ষা আন্দোলন-সহ বাংলাদেশ সৃষ্টির সকল লড়াই সংগ্রামে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধার ট্রেনিং নিতে না পারলেও ৭১ এর মুক্তি সংগ্রামকে তিনি এগিয়ে নিয়েছেন রাজনগর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলা যোদ্ধাদের সহযোগিতা করে। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর নিজের এলাকায় ১৯৭২ সালে গোবিন্দপুর তেঘরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকুরি নেন। বিনা-বেতনে ৩ বছর চাকুরী করার পর ইস্তফা দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ম্যানেজার পদে চাকুরী নেন।
১৯৭৮ সালে একই ইউনিয়নের মশাজান গ্রামের হেকিম আব্দুল কাদির মাস্টারের মেয়ে রওশনারা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮০ সালে সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজার ঘিলাছড়া হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে সেখানে ৩ বছর চাকুরি করেন। ১৯৮৩ সালে শশুরের আর্থিক সহায়তায় সৌদি আরবে গমন করেন। ১০ বছর সৌদি আরবে বসবাসকালীন সময়ে মদিনা ভার্সিটির লাইব্রেরিতে গিয়ে কোরাআন-হাদিস সম্পর্কে স্বচ্ছ জ্ঞান অর্জন করেন। ১৯৯৩ সালে দেশে এসে আবারও শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৫ সালে তারাপাশা হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্কুলের লেখাপড়ার মানোন্নয়নে সহযোগিতা করেন এবং নিজের এলাকায় শিক্ষাবিস্তারে মনোযোগী হন এবং উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং ২০০০ সালে সিপিবি ‘র রাজনগর উপজেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে এলাকার তরুণদের নেতৃত্বে দিয়ে জাতীয় শিশুকিশোর সংগঠন খেলাঘর আসর প্রতিষ্ঠা করে নেপথ্য থেকে কাজ করেছেন। ২০০৫ সালে নিজ উদ্যোগে আদর্শ শিক্ষা বিস্তারে তারাপাশায় ‘উষার আলো” নামে একটি প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। ২০১৬ সালে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে সম্মাননা-সহ অবসরপ্রাপ্ত সদস্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে সম্মাননা পেয়েছেন। ২০১৮ সালে নিজের একখন্ড ভূমি ও নগদ অর্থায়নে তারাপাশায় আব্দুর রাজ্জাক একাডেমির প্রতিষ্ঠা করে একাডেমির সভাপতি হিসেবে সার্বিক দায় দায়িত্ব পালন করছেন এখন। মহতপ্রাণ আব্দুর রাজ্জাকের এই বর্নাঢ্য জীবনে মানুষের উপকার ছাড়া ভুলেও কেনো দিন কারো ক্ষতি করেননি। নির্লোভ অন্তর্মুখী এই মানুষটি সত্যিকারের সমাজবান্ধব একজন শাদা মনের মানুষ। নিরবে নিভৃতে তাঁর জীবন উৎসর্গ করে রেখেছেন মানুষের জন্যে। এই মানুষটিকে সম্মান জানানো সমাজের কর্তব্য। এই সামাজিক দায়িত্ব পালন করছে মেধা-সংস্কৃতি পরিষদ।

সমাজবান্ধব আব্দুর রাজ্জাকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। মাওলানা মুফজ্জল হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ইকবাল। আলোচনায় অংশ নেন কামারচাক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ নজমুল হক সেলিম, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তি চক্রবর্তী, অধ্যাপক শাহানারা রুবি, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ধীরাজ ভট্টাচার্য, ব্যাংকার অজয় কুমার দত্ত, কৃষক লীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আকলু মিয়া চৌধুরী, সাবেক ছাত্র নেতা সায়েদ আহমদ খাঁন, কবি অসিত দেব, জয়নাল আবেদীন শিবু, রাজনগর বার্তা সম্পাদক আকতার আহমদ সাগর প্রমূখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ খছরু চৌধুরী। বক্তারা বলেন, এরকম দেশপ্রেমিক সমাজহিতৈষী মানুষগুলোকে তাঁদের কর্মের স্বীকৃতি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দেয়া উচিত। আব্দুর রাজ্জাক এর মতো মানুষেরা হলেন গুণী, সমাজের আইডল ও সমাজবন্ধু। মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী দিবসে মেধা-সংস্কৃতি পরিষদের এই আয়োজন সমাজে গুণীজন জন্মাতে সহায়তা করবে। রাজনগরের সুধীজনের কাছে, সকলের কাছে অনুসরণীয় হয়ে থাকবে মেধা-সংস্কৃতির এই কর্মপন্থা। একজন গুণী মানুষের শুভকর্মের স্বীকৃতি সমাজ-জীবন সুন্দর ও আলোকিত করে। সুন্দর সমাজ-রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়েই এদেশ স্বাধীন হয়েছে। সমাজের স্তরে স্তরে আব্দুর রাজ্জাকের মতো প্রকৃত দেশপ্রেমিক মানবপ্রেমিক মানুষ তৈরি করতে হবে।
সভা শেষে আব্দুর রাজ্জাকের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও আলোচনায় অংশগ্রহণকারী অতিথিগণ।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত