বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চোখ-কান খোলা রাখা গৃহস্থের দায়।



..হরমুজ আলী.

মামুনুল এতো সহজে ধরা পড়েছে তার মানসিক এবং জৈবিক বিকারগ্রস্ততার কারণে। তাকে নিয়ে যথেষ্ট কথা হয়েছে এবং হবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ফাঁকে হেফাজতের ‘মূল রাজনীতি’ পার পেয়ে যাচ্ছে বলে আমার শঙ্কা হচ্ছে! মামুনুল বা তার মতো ‘ষণ্ড’ যারা হেফাজতের নেতৃত্ব বা রাজনীতিতে আছে তারা যদি ধরা না পড়তো বা এইভাবে বিতর্কিত না হতো তাহলে কি হেফাজত হালাল হয়ে যেতো! হেফাজত কি আসলেই ‘অরাজনৈতিক’ প্লাটফর্ম! বিষয়টি একটু তলিয়ে দেখা জরুরি। যে পাঁচটি ইসলামি দল নিয়ে হেফাজত গঠিত সেগুলো হচ্ছে: খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলামি এবং ইসলামি ঐক্যজোট (যাদের প্রায় সকলেই বিএনপির ২০দলীয় জোটের অংশ)। এর বাইরেও বিভিন্ন ইসলামি দল এবং জোটের ব্যক্তি বা গুষ্টি এর সদস্য। সুতরাং এই মোর্চা একটি অরাজনৈতিক কিংবা ইসলামের হেফাজতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে এ’ধরণের একটি ভ্রমাত্মক ধারণা মানুষের মধ্যে বিরাজমান যা সত্যিই উদ্বেগের কারণ।

২০০৯এর জাতীয় সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আইন পাশ হবার পর থেকেই হেফাজত গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে আমি মনেকরি। ২০১০এ হেফাজতের জন্ম আর ২০১১তে নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করতে ‘নারী উন্নয়ন নীতিমালা’ প্রনয়নের পর থেকেই তারা স্বরূপে আবির্ভূত হয়। তারপর ২০১৩তে এসে একেবারে ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু করে। ৫ই মে’র শাপলা চত্ত্বর আর তাদের ১৩দফা আমাদের সকলেরই মনে আছে। সেদিনকার বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট এবং এরশাদের জাতীয় পার্টি শুধু সাথেই ছিলোনা একেবারে তক্কে তক্কে ছিলো – কখন সুসংবাদ আসবে!

পাকিস্তানের আইএসআই এর প্রেসক্রিপশনে জামাত-হেফাজত একই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশে। আর সেই লক্ষ্য হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধ্বংস করে পাকিস্তানি ভাবধারার সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হওয়ার কারণে জামাত এখন ব্যাক গিয়ারে আর হেফাজত সামনে। সার্বিক যোগান দিচ্ছে খাম্বা তারেকের বিএনপি। এই বিষয়গুলোকে আমরা যেনো ধর্মীয় আবেগের কারণে গুলিয়ে না ফেলি!