শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকদের গালাগাল করে যত বেওকুফ ছাগলের দল.।



*আ. ফ. ম. সাঈদ.
মুনিয়া নামের এক কলেজছাত্রীকে বিয়ে না করে স্ত্রীর মতো রেখেছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর। মেয়েটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে আনভীরের ভাড়া নেওয়া মাসিক লক্ষাধিক টাকার ফ্ল্যাট থেকে। সে আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। আনভীরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার মামলা হয়েছে।

আনভীরের এই জঘন্য কাণ্ডের খবর বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়নি। কেউ কেউ খবরটি ব্ল্যাক আউট করেছে। অর্থাৎ, প্রকাশই করেনি।

এজন্য ফেসবুকে অনেকে উষ্মা প্রকাশ করছেন, মিডিয়ার প্রতি ঝাল ঝাড়ছেন, সাংবাদিকদের গালাগাল করছেন।

আনভীরের কুকীর্তির খবর পত্রপত্রিকা ও টিভিতে গুরুত্ব পায়নি কেন? এর কারণ কি?

না। এজন্যে সাংবাদিকরা দায়ী নন। পত্রিকা হোক আর টিভি চ্যানেল হোক, সাংবাদিকরা ইচ্ছে করলেই কোনো খবর প্রকাশ করতে পারেন না। সাংবাদিকদের এই স্বাধীনতা নেই।

সাংবাদিকরা কোনো খবর লিখে বা কোনো খবরের ফুটেজ জমা দেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। এইটুকুই সাংবাদিকের কাজ। সেই খবর প্রকাশ-প্রচার হবে কি না, সেটা তিনি বলতে পারেন না।

আমি নিজেও একাধিকবার এরকম পরিস্থিতির শিকার হয়েছি।

বাংলাদেশে প্রায় সকল শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের মালিক বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ। মিডিয়া বর্তমানে কর্পোরেট জগতের দখলে। সাংবাদিকরা ওদের মালিকানাধীন পত্রিকা ও টিভিতে চাকরি করেন মাত্র। তাই খবর প্রকাশ-প্রচারের ক্ষেত্রে তাদের কোনোই হাত নেই।

সিলেটের সংবাদপত্র জগতেও একই অবস্থা।

বসুন্ধরা গ্রুপের বাংলা-ইংরেজি তিনটি পত্রিকা রয়েছে। ওই পত্রিকাগুলোতে আনভীরের কুকীর্তির খবর কীভাবে আশা করা যায়?

দুএকটি ব্যতীত অন্যান্য পত্রিকা টিভি চ্যানেলেও বসুন্ধরার এমডির রক্ষিতা কেকেঙ্কারির খবর আসছে না। এর কারণও বোধগম্য।

সকল শিল্পপতি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কিছু না কিছু অনিয়ম-দুর্নীতি রয়েছে। এক শিল্পপতির দুর্নীতি প্রকাশ করলে সে তো নীরব থাকবে না। খবর প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির খবর সে তার মিডিয়ায় প্রচার করবে।

তাই মিডিয়ার মালিকেরা অন্য মিডিয়ার মালিকদের বিরুদ্ধে কিছু প্রকাশ-প্রচার করে না।

কয়েক বছর পূর্বে দৈনিক প্রথম আলোতে ধারাবাহিকভাবে বসুন্ধরা গ্রুপের নানা দুর্নীতি প্রকাশ করে। তখন বসুন্ধরা গ্রুপ তড়িঘড়ি তিনটি পত্রিকা বের করে। ওই পত্রিকাগুলোতে প্রথম আলোর মালিক ট্রান্সকম গ্রুপের বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ শুরু হয়। অতঃপর বসুন্ধরার বিরুদ্ধে প্রথম আলোয় খবর প্রকাশ বন্ধ হয়ে যায়।

আগে সাংবাদিকরা পত্রিকা বের করে কালোটাকার মালিক ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লিখতেন। আর এখন ওরা পত্রিকা বের করে এবং সাংবাদিকরা সেগুলোতে চাকরি করেন। তাই রুটি-রুজির কারণে সাংবাদিকদের হাত বাঁধা থাকে।

কিন্তু ছাগল প্রকৃতির কতিপয় লোক বুঝে ও না বুঝে সাংবাদিকদের সম্পর্কে নানা রকম আপত্তিকর কথা বলছে, গালিগালাজ করছে।

এই পোস্টে কেউ ছাগলামি কমেন্ট করলে তাকে সোজা খোয়াড়ে দেওয়া (ব্লক করা) হবে।
———————– আ. ফ. ম. সাঈদ
২৮ এপ্রিল ২০২১