বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক রোজিনার জামিন আদেশ রোববার হবে.




জেসমিন মনসুর.
প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদনের বিষয়ে আদেশ দেবেন আদালত আগামী রোববার ।অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা মামলায় আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহর আদালত দীর্ঘ শুনানির পর আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে রোববার আদেশ দেওয়া হবে বলে জানান।
এ বিষয়ে আদলতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) নিজামুল হক বলেন, ‘রোজিনা ইসলাম যে সচিবালয়ে আটক থাকা অবস্থায় মুচলেকা দিতে চেয়েছিলেন, যার ভিডিও এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও ফুটেজ জমা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ সময় চেয়েছেন। এ জন্য আদালত আগামী রোববার আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন।’
এর আগে দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিটে জামিন শুনানি শুরু হয়ে দুপুর ২টার দিকে শুনানি শেষ হয়। সাংবাদিক রোজিনার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী ও প্রশান্ত কর্মকার, আশরাফ উল আলম।
আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, ‘এই মামলার ৩৭৯ ধারাকে যদি বিশ্বাস করতে হয়, তাহলে ৩৭৯ ধারার উপাদান হচ্ছে- যেকোনো বিষয়বস্তু চুরি করার ক্ষেত্র প্রকাশ্য স্থানে, উন্মুক্ত স্থানে হতে হবে। আর প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ১৯২৩ অনুযায়ী যদি বিশ্বাস করেন, তবে কথিত মতে ঘটনাস্থলটি হচ্ছে সচিবালয়। সুতরাং পরস্পর বিরোধপূর্ণ দুটি ধারা বিজ্ঞ আদালতের কাছে সন্দেহের উদ্রেক করে যে, প্রকৃতপক্ষে ঘটনাস্থলটি কোথায়? আদৌ এই ঘটনা ঘটেছিল কি না?’
আইনজীবী আরও বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম তাঁর মহান পেশার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই সচিবালয়ে গিয়েছিলেন। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি আজ পরিস্থিতির শিকার।
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিনের বিষয়ে আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, সেকশন ৩-এর কোনো ইনগ্রিডিয়েন্টস নেই। অন্য যেসব অভিযোগ রয়েছে, তা আইন অনুযায়ী জামিনযোগ্য। এ ক্ষেত্রে জামিন পাওয়াটা আমার অধিকার। তিনি বলেন, আদালত জামিনের বিষয়টি অনিষ্পন্ন রেখে মৌখিকভাবে বলেছেন, পরে এ নিয়ে শুনানি হবে।
এহসানুল হক সমাজী বলেন, ‘অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টের বিধান না মেনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ মামলা করা হয়েছে। তাঁর কাছে কী নথি পাওয়া গেছে এজাহারে তার উল্লেখ নেই। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন তিনি। যাঁরা মামলা করেছেন, তাঁরা তাঁকে (রোজিনা ইসলাম) সামাজিকভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করতে চেয়েছেন।’ রোজিনার অপর আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার শুনানিতে বলেন, ‘সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে যে দুটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে তা ত্রুটিপূর্ণ ও সাংঘর্ষিক। কেননা কোনো সাংবাদিক যদি গোপন তথ্য সংগ্রহের কারণে অফিসের সিক্রেসির আশঙ্কা থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ দিতে পারেন। একইভাবে সাংবাদিককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কিছুই করা হয়নি বরং পেনাল কোর্টে ৩৭৯ ধারায় চুরির অভিযোগে যে ধারা দেওয়া হয়েছে তা অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা আসামির জামিন প্রার্থনা করছি। মামলার যিনি বাদি তিনি একজন উপসচিব মর্যাদার। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। ঘটনাস্থলে ছিলেন এ ধরনের কেউ মামলায় বাদি ছিল না। চুরির মামলা দিয়ে আসামির সুনাম ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। কিছু অসৎ ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিউজ করায় আসামিকে জেলে যেতে হয়েছে। আমরা আসামির জামিন মঞ্জুর করার প্রার্থনা করছি।’
এর আগে গত মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রোজিনা ইসলামকে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে আজ বৃহস্পতিবার (২০ মে) জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান গতকাল এনটিভি অনলাইনকে বলেছেন, ‘আমরা হস্তান্তরের জন্য কাগজ পেয়েছি। ডিবিতে হস্তান্তরও করা হয়েছে এরই মধ্যে। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়ন্দা পুলিশের রমনা জোনাল টিম।’
গত সোমবার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সচিবালয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রাখা হয় সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে। এ সময় তাঁকে হেনস্তা করা হয়। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনদের দাবি, শারীরিক ও মানসিকভাবে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার কথা বলে রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁকে সচিবালয় থেকে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পৌনে ৯টার দিকে তাঁকে থানায় আনা হয়।
গভীর রাতে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি গোপনীয় নথি চুরির মাধ্যমে সংগ্রহ এবং ওই নথি দ্বারা বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক নষ্ট করার অপচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার রাত থেকে সাংবাদিকেরা থানায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। নানা নাটকীয়তার পরে গতকাল মঙ্গলবার সকালে পুলিশ রোজিনা ইসলামকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে। একইসঙ্গে রোজিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। অন্যদিকে রোজিনা ইসলামের জামিনের আবেদন জানান তাঁর আইনজীবীরা। ওই দিন শুনানি নিয়ে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম রিমান্ড আবেদন নাকচ করেন এবং রোজিনার জামিন আবেদনের ওপর অধিকতর শুনানির জন্য ২০ মে দিন ধার্য করেন। সেদিন আদালতের নির্দেশে রোজিনাকে গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে রোজিনা ইসলামকে আটকের ঘটনার পর গত মঙ্গলবার দিনভর সারা দেশে রোজিনা ইসলামের মুক্তি চেয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করেন সাংবাদিকেরা। এ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন সাংবাদিক শাহবাগ থানায় গিয়ে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করতে আবেদন করেন। তাঁদের দাবি, তাঁদেরও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হোক। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল বুধবারও সারা দেশে মানববন্ধন করেছে সাংবাদিক সমাজ।
দুর্নীতিবাজ আমলা. কামলা. সাংবাদিক.রাজনীতিবিদ.ও সুশীল যেই হোক সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে….চেয়ারম্যান ইউকে বিডি টিভি.

পেশাগত দায়িত্ব পালনে গিয়ে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের হেনস্তা-মামলা-কারাবাসের ঘটনা দেশের মতো প্রবাসেও বেশ তোলপাড় পড়েছে।এ নিয়ে ইউকে বিডি টিভি সহ ইউরোপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিকরা ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর খায়রুল আলম লিংকন, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, ও  কামরুল ইসলাম, ফাইন্যান্স ডিরেক্টর শাহ শাফি কাদির ও প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হেলেন ইসলাম, সাংবাদিক শাহজাহান মিয়া ও সাংবাদিক শাহ নেওয়াজ চৌধুরী সুমন সহ পরিচালনা কমিটির অন্যান্য ডিরেক্টরবৃন্দ এক যুক্ত বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া একজন অনুসন্ধানী ও উদ্যমী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্থা ও সাজানো মামলায় জড়ানো ‘গণতন্ত্র ও স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকি এবং সরকারকে সাংবাদিক সমাজের মুখোমুখি দাঁড় করানোর গভীর ষড়যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।

ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান  ও ডেইলি সিলেট এন্ড দৈনিক মৌলভীবাজার মৌমাছি কন্ঠ এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর বিবৃতিতে বলেন, দূর্নীতি এবং অনিয়ম এর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সবসময় জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে আসছেন।এমতাবস্থায় সরকারকে সাংবাদিক সমাজের মুখোমুখি দাঁড় করোনোর গভীর যড়যন্ত্র চলছে। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে টুঁটি চেপে ধরে ৬ ঘণ্টা আটকে রেখে ও মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি করা হলো, তাতে কেউ লাভবান হবে না। দেশে-বিদেশে বাংলাদেশ আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো গণতন্ত্রের ও মুক্ত সাংবাদিকতার। এ চরম ক্ষতিটা কি অদক্ষতার না উদ্দেশ্যমূলক- তার তদন্ত হওয়াটা বেশি জরুরি।  তিনি বলেন, সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম এর অপরাধ যাই হোক, গায়ে হাত তোলার অপরাধে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ও মামলা করা উচিৎ। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে শুধু মামলা নয়, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে বলে তিনি জোর দাবি জানান।

দুর্নীতিবাজ আমলা. কামলা. সাংবাদিক.রাজনীতিবিদ.ও সুশীল যেই হোক সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়ে ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর বিবৃতিতে আরও বলেন অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছার কানাডায় ৩ টি বাড়ি, পূর্ব লন্ডনে ১ টি এবং ঢাকায় আরো ৪টি বাড়ী, গাজীপুরে ২১ বিঘা জমি সহ নামে-বেনামে ৮০ কোটি টাকার এফডিআর যে খবর বেরিয়েছে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা উচিত।

বিবৃতিতে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে এবং যে সকল সরকারি কর্মকর্তা পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ব ভুলে একজন সাংবাদিকের উপর এভাবে চড়াও হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহ দুর্নীতিবাজদের শাস্তি প্রদানের জোর দাবি জানানো হয়।