বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রখ্যাত গণ সংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর আর নেই;।




করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন
প্রখ্যাত গণ সংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব। মৃত্যুকালে ফকির আলমগীরের বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে রেখে গেছেন।
ইউনাইটেড হাসপাতাল জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কোভিড ইউনিটে ভেন্টিলেশনে থাকা অবস্থায় ফকির আলমগীরের হার্ট অ্যাটাক হয়। পরে রাত ১০টা ৫৮ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এর আগে, গত ১৫ জুলাই থেকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ফকির আলমগীরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৯ জুলাই তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। করোনাভাইরাসের দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও গত ১৪ জুলাই এই সংগীত শিল্পীর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকলে পরদিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
এদিকে ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর এবং ইউকে বিডি টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর খায়রুল আলম লিংকন. পোগ্রাম ডিরেক্টর হেলেন ইসলাম সহ ইউকে বিডি টিভির পরিবারের পক্ষ থেকে এক শোকবার্তায় একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ সহ তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান ও ডেইলি সিলেট এন্ড দৈনিক মৌলভীবাজার মৌমাছি কন্ঠের সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি মোহাম্মদ মকিস মনসুর শোক বার্তায় বলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী ছিলেন ফকির আলমগীর।
তার দরাজ কণ্ঠের রক্তে স্রোত জাগানো সংগীত সব সময় মুক্তিকামী ছাত্রজনতাকে উজ্জ্বীবিত করেছে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগত এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হলো। কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। সংগীত জগতে তার অবদান বাংলাদেশের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে বলে মোহাম্মদ মকিস মনসুর অভিমত ব্যাক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, ষাটের দশক থেকে গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত ফকির আলমগীর ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শামিল হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে।
স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন ৭১ বছর বয়সী এ শিল্পী। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।