সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যখন কবিতা ছিলনা,,, মজিবুল হক মণি।



যখন কবিতা ছিলনা
মজিবুল হক মণি

যখন কবিতা ছিলনা, আবে কায়সারের নহরে-
ইবলিশের বিচরন ছিলো।
মন্দাকিনীর তীরে-
অভিশপ্ত রাবনের-নিঃশ্বাস ছিল।
যখন কবিতা ছিলনা, ডায়নসরের পায়ে পিষে-
মরে যেতো শ্যামল তৃনের নিস্পাপ হাসি।
বৃন্দাবন কেঁপে উঠতো রাক্ষসের হুংকারে-
স্তব্ধ হতো রাই-কানাইয়ের অমৃত আশনাই-লীলা।

যখন কবিতা ছিলনা, হেরা গুহায়-
জিব্রাইলের হাজিরা ছিলনা।
ঐশী বানীর অমিয় ধ্বনীতে ছিলনা শীলার মুগ্ধতা।
বেথলেহ্যামের রাখাল কূটির আলো করে
কুমারী ম্যারির কোলে আসতো না মৃত্যুঞ্জয়ী যিশু।

যেখানে কবিতা নেই-
জনপদ হয়ে যায় চিড়িয়াখানা।
মানুষের কথাগুলো জানোয়ারের চিৎকার হয়ে যায়।
যেখানে কবিতা নেই-
মন্দির-মসজিদে মানুষ থাকে না
সেখানে জমে উঠে সীমার আর অসূরের আখড়া।
ঈশ্বর বন্ধি হয় ভন্ডদের কারাগারে,
যেখানে কবিতা নেই-
মায়ের আঁচল রক্তাক্ত করে কূলাংগার,
বাপের ঔরষত্বে লাথি মেরে-
গায়ে জড়ায় ভিনরুচির উদ্ভট আলকেল্লা।
যেখানে কবিতা নেই-
উল্লাসের সাদা পায়রা আর সাদা থাকে না
প্রকাশ্য সড়কে বসে মগজ খেকো গৃধিনীর হাট।

যদি কবিতা হারিয়ে যায়-
হারিয়ে যাবে প্রানের নির্মল উচ্ছাস,
বিবেক আক্রান্ত হবে এবোলার বিষাক্ত ভাইরাসে,
প্রাঞ্জল হাসিতে মিশে যাবে শয়তানের ফ্যাকাশে হাসি,
ধর্ম্ম মস্তকহীন হবে অধর্মের ধারালো ছুড়ায়,
মানবতা আছড়ে মরবে বলির যুপকাষ্টে।

যদি কবিতা হারিয়ে যায়-
মহাপ্রলয় হবে, ডুবে যাবে আরারাত শৃঙ্গে আটকে পড়া
নূহের কিস্তি, ফেরাউনের পিড়ামিড।
ছিটকে পড়বে হিমালয়, নিভে যাবে সূর্য্য নক্ষত্র।

যদি কবিতা হারিয়ে যায়-
হারিয়ে যাবে মানুষ আর ইশ্বরের কীর্তময় সৃষ্টি।