বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

মৌলভীবাজারে গভীর স্রদ্ধা ও ভালোবাসা এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্থানীয় শহীদ দিবস পালিত,।




জেসমিন মনসুর,
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মহাণ স্বাধীনতার বিজয়ের চারদিন পর ২০শে ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর ফেলে যাওয়া মাইন বিস্ফোরণে শহীদ ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধার স্মরনে স্থানীয় শহীদ দিবস পালিত হয়েছে।
গভীর স্রদ্ধা ও ভালোবাসা এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে
দিবসটি পালন উপলক্ষে সকালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শহীদদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
দুপুরে মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাইন বিস্ফোরনে নিহত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম ফলকের সম্মুখে পতাকা উত্তোলন করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক তানিয়া সুলতানা। পরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, সংরক্ষিত নারী আসনের (মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ) সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচলক মল্লিকা দে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তানিয়া সুলতানা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিছবাউর রহমান, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জেলা বিশেষ শাখা) সুদর্শন কুমার রায়,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জিয়াউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান বাঁধন প্রমুখ। জানা যায় ৮ই ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলা (তৎকালীন মহকুমা) শক্রমুক্ত হয়। তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ পতাকা। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্যে মুক্তিযোদ্ধারা মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপন করা অস্থায়ী মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে জড়ো হতে থাকেন।
সেখানে একটি কক্ষে শহরের বিভিন্ন জায়গায় মাটিতে পাকিস্তানি বাহিনীর পুঁতে রাখা মাইনগুলো উদ্ধার করে রাখা হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন বিজয় উল্লাসে ব্যস্ত। হঠাৎ উদ্ধারকৃত মাইন বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বিদ্যালয় এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধার দেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে এই ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহগুলো একত্রিত করে বিদ্যালয় মাঠের এক পাশে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সবাইকে সমাধিস্থ করা হয়। এরপর থেকে দিনটিকে স্থানীয় শহীদ দিবস হিসেবে পালন করছেন মৌলভীবাজারবাসী।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত