রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আছকির মিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করায় মৌলভীবাজারে জেলাব্যাপী জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদের ঝড়,।




ফয়ছল মনসুর,
মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় সাপ্তাহিক পত্রিকা “পাতা কুড়ির দেশ” এর অনলাইন ভার্সনে বৃটেন প্রবাসী সোহেল আহমদ চৌধুরী নামে একজন লেখক
“মুক্তিযুদ্ধে আনসার কেরানি মহিব উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর অবদান” শিরোনামে তিনি তার পিতার অধিক প্রশংসা করতে গিয়ে একাটুনা ইউনিয়ন এর বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও তৎকালীন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং একাটুনা ইউনিয়নের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান
প্রয়াত আছকির মিয়াকে “রাজাকার” বলে আখ্যায়িত করার প্রতিবাদে একাটুনা ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে, গত ৩০ শে জানুয়ারী সকাল ১১ ঘটিকায় একাটুনা প্রাইমারী স্কুল মাঠে এক প্রতিবাদ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
৬নং একাটুনা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান
চেয়ারম্যান ও মৌলভীবাজার চেম্বার এর ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান এর সভাপতিত্বে এবং মানবাধিকার কর্মী আলিম উদ্দিন হালিম ও ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম
ইমন তরফদারের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভার শুরুতেই প্রয়াত আছকির মিয়ার বড় ছেলে আমেরিকা প্রবাসী
মোঃ আম্বিয়া মিয়া সূচনা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ চলাকালে বৃটেন থেকে টেলিকনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন একাটুনা ইউনিয়ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাষ্টি মৌলভীবাজার জেলার সাবেক ছাত্রনেতা সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর ও মৌলভীবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, ৭১ বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট সমাজসেবক জামাল আহমদ,
প্রতিবাদ সমাবেশে অতিথি হিসাবে মৌলভীবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, ৭১ বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান আবু খয়ের আহমদ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা অনু মিয়া, মৌলভীবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিষ্ট সরওয়ার আহমদ, বৃটেনের মহাণ মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক আলহাজ্ব বদরুজ্জামান ,সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অনু মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা নেছার আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা লেছু মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা লেবু মিয়া, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আমিন উদ্দিন বাবু,একাটুনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, নূর মিয়া, রহমান মিয়া, রুহুল ইসলাম রুনু, ফজির খান, আমেরিকা প্রবাসী নজরুল ইসলাম,, মোঃ বদরুজ্জামান, আলহাজ্ব নানু মিয়া, সাপুর মিয়া, গেন্দু তরফদার, বশির আহমদ, সহ জেলার মুক্তিযোদ্ধাগণ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকগণ ও এলাকার বিশিষ্ট প্রবীন মুরব্বীয়ানগণ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়াও সমাবেশে মৌলভীবাজার হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটির সভাপতি ছালেহ আহমদ সেলিম, ইউপি সদস্য কয়ছর আহমদ, আয়াছ মিয়া, আমিরুল ইসলাম, মোঃ গিয়াস মিয়া, মোঃ সাহাদ আহমদ, মোঃ ফরদুস, জামাল আহমদ, সৈয়দ রুমেল আলী, সাবেক ইউপি সদস্য , জাকারিয়া আহমদ, নেছার আহমদ, বশির আহমদ (সাবেক সেনা সদস্য) পারভেজ আহমদ,মোহাম্মদ কামাল মনসুর, মেশাহিদ মিয়া সহ ইউনিয়নের মুরব্বি, যুব সমাজ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন- প্রয়াত আছকির মিয়া একজন সম্মানী ব্যক্তি। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আহবানে ২৭ মার্চ মৌলভীবাজার শহরে পাকিস্থানী পাক বাহিনীর কারফিউ ভাঙ্গার লক্ষ্যে চাঁদনীঘাট সংলগ্ন স্থানে একত্রিত হয়ে অবস্থান নেন। সেই সময়ে উনার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। আজ স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বৎসর পরে এসে জাতীর শ্রেষ্ট সন্তানের বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার আমাদের ব্যাথিত করেছে। এ লজ্জা আমাদের সকলের। বক্তারা আরো জানান- “মুক্তিযুদ্ধে আনসার কেরানী মহিব উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর অবদান” শীর্ষক লেখায় মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আছকির মিয়ার বিরুদ্ধে কটুক্তি ও অপপ্রচার করা হয়। অপ-প্রচারকারী সোহেল আহমদ চৌধুরী তার পিতাকে মুক্তিযুদ্ধার নায়ক হিসেবে প্রচার করতে গিয়ে তার সেই লেখনির মাধ্যমেই তার পিতাকে তৎকালীন মুসলিমলীগ ও শান্তি বাহীনির প্রধান তার পিতা মুহিব আনসারির অত্যন্ত কাছের মানুষ হিসাবে উপস্থাপন করেছেন। তার লেখনীতেই সকল কিছু প্রকাশ হয়ে গেছে। তিনি যদি মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আছকির মিয়ার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা, কটুক্তি ও অপপ্রচার এর বিষয়ে প্রকাশ্য ক্ষমা না চান তা হলে আমরা মুক্তিযোদ্ধাগণ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকগণ, যুব সমাজ ও সাধারণ জনগন কঠোর আন্দোলন করা সহ লেখকের বিরুদ্ধে আইনি প্রদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিস্রতি ব্যাক্ত করেছেন। সকল বক্তারা,
এখানে উল্লেখ্য যে ,১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতে পাকিস্তানী সৈন্যদেরকে প্রতিরোধ করতে মৌলভীবাজার জেলা শহরের পার্শ্ববর্তী ৩/৪ ইউনিয়নের বৃহত এলাকার গ্রাম গুলোর থেকে দেশীয় অস্ত্র সহস্র (দা, কুরাল, সুলফি, জাটা, লাঠি ও দুইটি বন্ধুক) সহ পাকিস্তানী বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে শহরের চাঁদনী ঘাট ব্রিজের এক পাশে নিজস্ব বন্দুক হাতে আছকির মিয়া সহ হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। পাকিস্তানী বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে এগুতে চাইলে ঠিক তখনি পাকিস্তানী বাহিনীর আক্রমণ। সেই সময়ে যে কয়েকজন নেতৃত্বদেন তাহাদের মধ্য আকছির মিয়ার ভূমিকা ছিলেন অন্যতম এবং সেই সময়ে সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত সাজ্জাদুর রহমান ও আকছির মিয়ার
দুটি বন্ধুক থেকে পাক হানাদের বিরুদ্ধে গুলি চুরা হয়েছিল যাহা ইতিহাসের অংশ হিসাবে সবার জানা রয়েছে।
দুই দিকের গুলা গুলিতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ-সময় অনেকই আহত হয়েছিলেন এর মধ্যে বন্ধুক হাতে আছকির মিয়াকে পাকবাহিনীরা ধরে পেলে এমন অবস্থায় শহরের চৌহমুহনায় নিয়ে মারাত্মক ভাবে শারীরিক নির্যাতন (টর্চার) করে ছেড়ে দেয়।
এতে আছকির মিয়া মারাত্মক ভাবে আহত হন, আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন আছকির মিয়াকে শহরের পার্শ্ববর্তী গ্রামে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। যুদ্ধকালিন সময়ে অসুস্থ অবস্থায় আছকির মিয়া পাকবাহিনীর চক্ষু আড়ালে থেকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদেরকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে মুক্তি যুদ্ধের জন্য সংগঠিত করেছেন, মুক্তি যোদ্ধাদেরকে খাবার দাবার ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার পক্ষে তার অবদানকে অস্বীকার করে যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন জীবিত থাকা তৎকালীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা।