শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধুর ১০২তম জন্মদিনের অঙ্গীকার- “সকল শিশুর সমান অধিকার”-কে উপজীব্য করে ব্রাসিলিয়ার সুবিধা বঞ্চিত, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এবং অটিষ্টিক শিশুদের সাথে নিয়ে ব্রাজিলে মুজিব বর্ষ এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপিত।




——————————————————হাকিকুল ইসলাম খোকন ,যুক্তরাষ্ট্র সিনিয়র প্রতিনিধিঃব্রাসিলিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সুবিধা বঞ্চিত এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের সাথে নিয়ে যথাযথ মর্যাদায় প্রাণবন্ত পরিবেশে আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুজিব বর্ষে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস ২০২২ উদযাপন করে। দূতাবাসের এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী শিশু-কিশোররা ছাড়াও প্রায় ৪০ জন ব্রাজিলীয় শিশু স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।খবর বাপসনিউজ।
বঙ্গবন্ধুর ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দূতাবাসে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ১৭ই মার্চ সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গনে রাষ্ট্রদূত মিজ সাদিয়া ফয়জুননেসা কর্তৃক জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন শুরু হয়। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগষ্টের সকল শহিদ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোত্যাগকারী সকলের স্মরণে বিশেষ দোয়া করা হয়। সকালের পর্বে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রম্নত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত্ব বাণী পাঠ করা হয়।
বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের শুরুতেই জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ব্রাসিলিয়ায়স্থ অটিষ্টিক শিশুদের স্কুল ABRACI-র ২৬ জন বিশেষ শিশু, ব্রাজিলিয়ান দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান Centro de Ensino Especial de Deficientes Visuais -এর ১০ জন শিশুসহ প্রায় ৬০ জন শিশু কিশোর এ উদযাপনে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ব্রাজিলের ফার্ষ্ট লেডি পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন Patria Voluntaria-র প্রতিনিধি, ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিভাগের প্রধান, নারী, শিশু এবং নাগরিকত্ত্ব মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং নাগরিকত্ব মন্ত্রণালয়ের (Ministry of Citizenship) প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথিগণ তাঁদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর সশ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য দূতাবাস এবং রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান। ঐতিহাসিক এ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া শিশুদের ১০০টি ছবি প্রদর্শিত হয় এবং দূতাবাসে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়।আলোচনা পর্বে রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই আমাদের একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ উপহার দেবার জন্য জাতির পিতাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করার পাশাপাশি ১৫ আগষ্ট নির্মম হত্যাকান্ডে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদ, মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদ এবং সম্ভ্রমহারা সকল মা বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ক্রমঅগ্রসরমান আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিস্তারিত বর্ণনা করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বের কথা তিনি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত বলেন যে এ সবই আজ সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়ে যাবার জন্য। তিনি আরো বলেন যে বঙ্গবন্ধু শিশুদের অত্যন্ত ভালো বাসতেন এবং শিশুদের অধিকার রক্ষায় ১৯৭৪ সালেই আইন প্রনয়ণ করে গেছেন। ২০১২ সালে বাংলাদেশ কর্তৃক জাতিসংঘে উত্থাপিত এবং সদস্য রাষ্ট্রসমূহ কর্তৃক গৃহীত অটিজম রেজ্যুলেশনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ শিশুদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সদা সচেষ্ট।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে দূতাবাস পরিবারের শিশুরা ছাড়াও ব্রাজিলের অটিষ্টিক সংস্থা ABRACI এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধি সংস্থা Centro de Ensino- এর শিশুরা সঙ্গীত এবং নৃত্য পরিবেশন করেন যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। এরপর বঙ্গবন্ধুর উপর নির্মিত একাধিক আলেখ্যচিত্র ব্রাজিলীয় পর্তুগীজ সাব-টাইটেল (উপশীর্ষক)-সহ প্রদর্শিত হয় যা উপস্থিত সুধীবৃন্দ মুগ্ধতার সাথে উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে রাষ্ট্রদূত সমবেত শিশুদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর কেক কাটেন এবং চিত্রাংকন পর্বে অংশ নেয়া শিশুদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
ব্রাজিলের শিশু কিশোরদের সাথে নিয়ে আয়োজিত এ ধরণের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বহু দূরে অবস্থিত দক্ষিণ আমেরিকার জনগণও বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে পারবেন বলে রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি উপস্থিত সকলকে বঙ্গবন্ধুর জীবন, আদর্শ ও কর্ম পরিচিত সকলের মাঝে প্রচার করার আহ্বান জানান।