বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ বাংলাদেশী বুড্ডিষ্টস এর স্বাধীনতা দিবসে বংগবন্ধু এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্দা জ্ঞাপন।



——————————————————হাকিকুল ইসলাম খোকন ,যুক্তরাষ্ট্র সিনিয়র প্রতিনিধঃ ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ বাংলাদেশী বুড্ডিষ্টস এর সভায় বংগবন্ধু এবং স্বাধীনতা’র বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন।
“জুলাই মাসে বাংলাদেশে নারী কল্যানমুলক প্রকল্প চালু করার প্রত্যাশা”
ত্রিশ (৩০) লক্ষ শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা’র বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গত ২৬শে মার্চ ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব বাংলাদেশী বুড্ডিস্টস (WFBB) এর একটি আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আমেরিকার আরিজোনা থেকে সংগঠনের আহ্বায়ক ডঃ বসুমিত্র বড়ুয়া’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা পরিচালনা করেন থাইল্যান্ড থেকে সংগঠনের প্রতিনিধি মৃদুল বড়ুয়া।বক্তাগন স্বধীনতার মহান স্থপতি, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী ইতিহাস তুলে ধরেন এবং ৩০ লক্ষ বীর শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জ্বতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা যে কোন মূল্যে রক্ষার জন্য সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান। ডঃ বসুমিত্র বড়ুয়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের বর্ননা করতে গিয়ে বলেন, মুক্তি যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে যাবার প্রস্তুতি নিয়ে তাঁর আপন কাকা সম্মানিত বিশুদ্ধানন্দ মহাস্থবির মহোদয়ের সাথে দেখা করতে গেলে, বিশুদ্ধানন্দ মহাস্থবির মহোদয় তাঁকে সহ কয়েক জন নিকট বৌদ্ধ যুবকদের, তার একটা কৌশল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে পাকিস্থানী বাহিনীর হত্যা- নীপিড়ন থেকে সংখ্যালঘুদের রক্ষা করা যায়। তিনি চায়না বুড্ডিষ্ট পরিচয় পত্র তৈরি এবং বিতরণের কাজে লেগে যান। যুদ্ধের সময় বিশুদ্ধানন্দ মহোদয় বৌদ্ধদের চায়না বুড্ডিষ্ট নামে পরিচিতি তুলে ধরেন এবং তা ব্যাপক ভাবে পাক-বাহিনীর নিকট প্রচার করতে থাকেন। যে কারনে বৌদ্ধ পল্লীতে পাক-বাহিনী বিশেষ আক্রমন করেনি, ফলে মুক্তিযোদ্ধারা রাতে যুদ্ধে অংশ নিয়ে দিনের বেলা বৌদ্ধ পল্লীতে আশ্রয় নিয়ে এবং খাদ্য সুবিধা পেয়ে থাকতো। নিউ ইয়র্ক থেকে দিলীপ বড়ুয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ এবং সীমান্তবর্তী ভারতে শরনার্থীদের আশ্রয় নেয়া, তাদের চরম দুর্ভোগের মর্মান্তিক ঘটনাগুলি প্রত্যক্ষ দর্শী হিসাবে মর্মস্পর্শী ভাষায় বর্ননা করেন এবং যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের ধ্বংশের চিত্র বর্ননা করেন। যুক্তরাষ্টের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সংগঠনের নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিনিধি ঝর্না বড়ুয়া, স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলাদেশের নারী সমাজের গৌরব উজ্জ্বল ভূমিকা এবং স্বাধীন দেশে বিভিন্ন অর্জনের পাশাপাশি অদ্যাবধি পিছিয়ে পড়া গরীব- বিধবা এবং অসহায় নারীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নারী শিক্ষা ও কর্ম সংস্থানের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সংগঠনের হংকং প্রতিনিধি অধ্যাপক সজীব বড়ুয়া, হংকংএ বৌদ্ধ ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থার উপর বক্তব্য রাখেন এবং হংকং এ ধর্মীয় স্বাধীনতা’র বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ ধর্ম চর্চা এবং বৌদ্ধ রাষ্ট্র হওয়ার পর ও সে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সম অধিকার এবং সম্মান দেখানোর জন্য জনগনের দাবী থাকা সত্বেও থাই রাজ পরিবার এবং সরকার বৌদ্ধ ধর্মকে রাষ্ট্র ধর্ম না করার বিষয়টি সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা করেন। মধ্যপ্রাচ্যের সারজা থেকে প্রতিনিধি অনুত্তর বড়ুয়া তার বক্তব্যে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বৌদ্ধ যুব সমাজের আর্থ-সমাজিক কল্যানে যুব সমাজকে সংগঠিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন এবং তিনি যুব সমাজের সাথে বিষয়টি নিয়ে কাজ করার অংগীকার ব্যক্ত করেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বোস্টন থেকে সংগঠনের সদস্য সচিব সুহাস বড়ুয়া, জেনেভা থেকে প্রতিনিধি অৰুণ জ্যোতি বড়ুয়া, সূইজারল্যান্ড থেকে যুগ্ন সদস্য সচিব সসীম গৌরী চরণ, স্পেন প্রতিনিধি বিপ্ল্ব বড়ুয়া, ভারত থেকে প্রতিনিধি সুমন বড়ুয়া। ইতালী থেকে বক্তব্য রাখেন, প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার সুমেধ তাপস বড়ুয়া এবং আমেরিকার লস এঞ্জেলেস থেকে বক্তব্য রাখেন প্রতিনিধি সুরঞ্জিত সিংহ। সভা চলা কালীন সময়ে সময়ের ব্যবধান থাকা সত্বেও, থাইল্যান্ড থেকে সকলকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে খুদে বার্তা প্রেরণ করেন, থাইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ফ্যাকাল্টি ও গবেষক সঞ্জয় বড়ুয়া চৌধুরী এবং তরুণ ইংরেজী শিক্ষক অনিক বড়ুয়া, খুদে বার্তা প্রেরণ করে শুভেচ্ছা জানান,বর্তমানে দুবাই সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিনিধি শৈবাল বড়ুয়া এবং সাউথ আফ্রিকা থেকে অন্যতম সদস্য রাজীব বড়ুয়া এবং ফ্রান্স থেকে শুভেচ্ছা বার্তা প্রেরন করেন, যুগ্ন সদস্য সচিব তাপস বড়ুয়া রিপন।