রবিবার, ২ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধুর সহযোগী প্রবীণ রাজনীতিক, আওয়ামীলীগের দুর্দিনের কান্ডারী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী চলে গেছেন না ফেরার দেশে,।




বদরুল মনসুর,
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক, সভাপতি মন্ডলীর সদস্য,সংসদ উপনেতা বঙ্গবন্ধুর সহযোগী প্রবীণ রাজনীতিক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি আর আমাদের মাঝে নেই।”ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন”আজ রোববার রাত ১১টা ৪০ মিঃ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। বেশ কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। গত সপ্তাহে তাঁকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর স্বামী গোলাম আকবর চৌধুরী ২০১৫ সালের নভেম্বরে মারা যান।
সাজেদা চৌধুরীর মরদেহ ঢাকা থেকে সোমবার দুপুরে নেওয়া হবে ফরিদপুরের নগরকান্দায়। সেখানে জানাজা শেষে আবার তাঁর মরদেহ ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হবে। ঢাকায় একটি জানাজা হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। তারপর তাঁকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এদিকে জাস্টিস ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড ১৯৭১ ইন ইউকের সভাপতি মোহাম্মদ মকিস মনসুর ও সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব লিয়াকত আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ শাফি কাদির সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমার মৃত্যুতে গভীর শোক ও তাঁর শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও মরহুমার আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে।
শোক বার্তায় সংগঠনের সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন দীর্ঘ ৬৬ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত থেকে দেশ ও জাতীর জন্য কাজ করে যাওয়া বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আওয়ামীলীগের দুর্দিনের কান্ডারী ছিলেন। তাঁর মতো সৎ ও দক্ষ নারী নেত্রীর মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃতাধীন সময় থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে প্রয়াত সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর এ অবদান জাতি কোনদিন ভুলবে না।
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর দলের দুঃসময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়কের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
এখানে উল্লেখ্য যে, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বাংলাদেশের বিশিষ্ট প্রমিলা রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা। এর আগে তিনি পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৫৬ সাল থেকে সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ১৯৬৯–১৯৭৫ সময়কালে তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কলকাতা গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

১৯৭২-১৯৭৫ সময়কালে বাংলাদেশ নারী পুনর্বাসন বোর্ডের পরিচালক, ১৯৭২-১৯৭৬ সময়কালে বাংলাদেশ গার্ল গাইডের ন্যাশনাল কমিশনার এবং ১৯৭৬ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বও তিনি পালন করছেন।

১৯৩৫ সালের ৮ মে মাগুরা জেলায় মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তার পিতার নাম সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মাতা সৈয়দা আছিয়া খাতুন।

শিক্ষাজীবনে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার স্বামী রাজনীতিবিদ এবং সমাজকর্মী গোলাম আকবর চৌধুরী। ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর তার স্বামী মৃত্যুবরণ করেন।

সাজেদা চৌধুরী গত নবম ও দশম সংসদের উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে একাদশ জাতীয় সংসদের উপনেতা পদে তার বহাল থাকা-না থাকা নিয়ে আলোচনা চলছিল।
১৯৬৯-১৯৭৬ পর্যন্ত ৭ বছর মহিলা আওয়ামী লীগের
সাধারণ সম্পাদক, ১৯৭৬ – ১৯৯২ পর্যন্ত ১৬ বছর
আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৯২-২০২২
পর্যন্ত টানা ৩০ বছর আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম
মেম্বারের দায়িত্ব পালন করা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর
মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ হারালো দলের অন্যতম শীর্ষ
নেতাকে।