বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শহীদ শেখ রাসেলের নৃশংস হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পাশাপাশি শিশু অধিকার সনদেরও লঙ্ঘনঃ।



বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডন সোমবার এক স্মারক আলোচনায় ‘শেখ রাসেল দিবস ২০২২’ পালন করে। অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন যে শহীদ শেখ রাসেলের নৃশংস হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পাশাপাশি শিশু অধিকার কনভেনশনেরও লঙ্ঘন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্ব লন্ডনে আয়োজিত এই স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিলো “শেখ রাসেল নির্মলতার প্রতীক, দুরন্ত প্রাণবন্ত নির্ভীক”।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, “শেখ রাসেলের খুনিরা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ২১ আগস্ট গ্র্যানেড হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরাধিকারকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল।”

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারের প্রগতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি সবাইকে, বিশেষ করে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের এ ধরনের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ শেখ রাসেলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “১০ বছর বয়সী শেখ রাসেলের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমসাময়িক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও শিশু অধিকার কনভেনশনের লঙ্ঘন যা ভবিষ্যতে শিশুদের পূর্বপরিকল্পিত হত্যা প্রতিরোধে একটি ঐতিহাসিক রেফারেন্স হতে পারে।”

হাইকমিশনার বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে এখন একটি কার্যকর আইনি কাঠামো ও নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা রয়েছে যা শিশুদের বাঁচার অধিকার সুনিশ্চিত করাসহ বর্বরতা, অপব্যবহার ও বৈষম্য থেকে তাদের সুরক্ষা করে।”

হাইকমিশনার আরো বলেন, “বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডন নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের সংস্কৃতি, শিক্ষা, ঐতিহ্য ও খেলাধুলায় ক্রমাগত সংযুক্ত, লালন ও উৎসাহিত করে বাংলাদেশের সাথে তাদের বন্ধন সুদৃঢ় করতে বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে।”

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী নুরজাহান বেগম মুক্তা এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা খলিল কাজী ওবিই এবং ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি বিশিষ্ট সদস্য সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক।

বৃটেনের স্কুল পড়ুয়া তিনজন শিশু বক্তা – মিশকাতুল, রুকাইয়া এবং শাহরিয়ার শেখ রাসেলকে তাদের প্রিয় ভাই উল্লেখ করে তাঁকে ‘৭৫ -এর কালরাতে নির্মমভাবে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং হত্যাকারীদের বিচার দাবি করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইকমিশনার প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির পিতা ও শেখ রাসেলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর শেখ রাসেল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সকল সদস্যদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে শেখ রাসেলের জীবনের উপর আইসিটি বিভাগ নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

শেখ রাসেলকে উৎসর্গ করে বাংলাদেশি-ব্রিটিশ শিশু শিল্পীবৃন্দ এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।